ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
গণবার্তা

বাজেটে ১০ হাজার টাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর প্রস্তাব

বাজেটে ১০ হাজার টাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর প্রস্তাব

য়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে বাজেট উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট।

প্রস্তাবিত বাজেটে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং খাদেমদের মাসিক ১০ হাজার টাকা সম্মানী প্রদানের প্রস্তাব করা হবে বলে জানা যায়। এতে দেশের লাখ লাখ ধর্মীয় কর্মীর আর্থিক নিরাপত্তা কিছুটা বাড়বে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে অবকাঠামো উন্নয়নের তুলনায় মানবসম্পদ উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ কারণে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মসজিদভিত্তিক ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সম্মানী প্রদান বাবদ বার্ষিক প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশে প্রায় পাঁচ লাখ মসজিদ রয়েছে। অনেক মসজিদে একজন করে ইমাম ও মুয়াজ্জিন থাকলেও বড় মসজিদগুলোতে একাধিক ধর্মীয় কর্মী রয়েছেন।

বিশেষ করে এমপিওভুক্ত না হওয়া মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা ও সম্মানী বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। নতুন এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তাদের সেই দাবি পূরণের পথে বড় অগ্রগতি হবে।

আসন্ন বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকতে পারে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণাও আসতে পারে।

এছাড়া ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বেশ কয়েকটি নতুন কর্মসূচি যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যমান কর্মসূচিগুলোতে বরাদ্দ বাড়ানো হতে পারে।

বিদেশে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখতে এবং সৃজনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব থাকতে পারে।

অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদানের সিদ্ধান্ত সমাজের প্রান্তিক ধর্মীয় কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে বাজেটের আকার ও বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করেন তারা।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. মনজুর হোসেন জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামী বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

আগামী কয়েকদিনে সংসদে বাজেট নিয়ে সাধারণ আলোচনা হবে, এরপর বিভিন্ন খাতভিত্তিক বরাদ্দ চূড়ান্ত করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


বাজেটে ১০ হাজার টাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর প্রস্তাব

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image
য়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে বাজেট উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট।প্রস্তাবিত বাজেটে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং খাদেমদের মাসিক ১০ হাজার টাকা সম্মানী প্রদানের প্রস্তাব করা হবে বলে জানা যায়। এতে দেশের লাখ লাখ ধর্মীয় কর্মীর আর্থিক নিরাপত্তা কিছুটা বাড়বে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে অবকাঠামো উন্নয়নের তুলনায় মানবসম্পদ উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।এ কারণে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।মসজিদভিত্তিক ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সম্মানী প্রদান বাবদ বার্ষিক প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশে প্রায় পাঁচ লাখ মসজিদ রয়েছে। অনেক মসজিদে একজন করে ইমাম ও মুয়াজ্জিন থাকলেও বড় মসজিদগুলোতে একাধিক ধর্মীয় কর্মী রয়েছেন।বিশেষ করে এমপিওভুক্ত না হওয়া মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা ও সম্মানী বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। নতুন এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তাদের সেই দাবি পূরণের পথে বড় অগ্রগতি হবে।আসন্ন বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকতে পারে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণাও আসতে পারে।এছাড়া ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বেশ কয়েকটি নতুন কর্মসূচি যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যমান কর্মসূচিগুলোতে বরাদ্দ বাড়ানো হতে পারে।বিদেশে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখতে এবং সৃজনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব থাকতে পারে।অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদানের সিদ্ধান্ত সমাজের প্রান্তিক ধর্মীয় কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে বাজেটের আকার ও বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করেন তারা।পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. মনজুর হোসেন জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামী বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।আগামী কয়েকদিনে সংসদে বাজেট নিয়ে সাধারণ আলোচনা হবে, এরপর বিভিন্ন খাতভিত্তিক বরাদ্দ চূড়ান্ত করা হবে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা