ঢাকা    শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
গণবার্তা

জামায়াতে ইসলামীর ছায়া বাজেট: ৮ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব

জামায়াতে ইসলামীর ছায়া বাজেট: ৮ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব

জাতীয় সংসদের বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার একটি ‘ছায়া বাজেট’ প্রস্তাব করেছে। মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়। এতে বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছে দলটি।

জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন ছায়া বাজেটটি উপস্থাপন করেন। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে জনপ্রশাসন, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধ এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারি বাজেটের চেয়ে কম আকারের ছায়া বাজেট

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত ছায়া বাজেটের আকার প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা কম, যা সরকারি বাজেটের চেয়ে প্রায় সোয়া ১০ শতাংশ ছোট।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামো ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাকে সামনে রেখে এই ছায়া বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। দলটির দাবি, তাদের প্রস্তাবিত বাজেট বেশি বাস্তবসম্মত ও জনবান্ধব।

জনপ্রশাসন ও শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব

ছায়া বাজেটে জনপ্রশাসন খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান সাইফুল ইসলাম খান মিলন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা যৌক্তিককরণ ও নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে জনপ্রশাসন খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধেও বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জামায়াত নেতারা বলেন, সরকারের ঋণের বোঝা দিন দিন বাড়ছে, তাই সুদ পরিশোধে সতর্ক পরিকল্পনা প্রয়োজন।

শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতকেও ছায়া বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মোপযোগী করে তুলতে এবং দেশকে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ জরুরি।

সরকারি বাজেটের সমালোচনা

ছায়া বাজেট উপস্থাপনকালে জামায়াত নেতারা সরকারি প্রস্তাবিত বাজেটের কঠোর সমালোচনা করেন। সাইফুল ইসলাম খান মিলন বলেন, সরকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছে, কিন্তু এর বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এই বাজেট মূল্যস্ফীতি বাড়াবে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে।

তাদের দাবি, সরকারি বাজেটে ঘাটতি ও ঋণের পরিমাণ খুব বেশি, যা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে। এ অবস্থায় তারা বিকল্প বাজেট প্রস্তাব করেছেন।

ছায়া বাজেটের অন্যান্য খাত

জামায়াতে ইসলামীর ছায়া বাজেটে কৃষি, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও এসএমই খাতেও বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে বলে জানান দলটির নেতারা। তারা বলেন, বাজেটে উৎপাদনমুখী খাত ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেশি জোর দেওয়া উচিত, যা সরকারি বাজেটে অনুপস্থিত।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা ছায়া বাজেটের বিশদ বিবরণী সংবাদমাধ্যমের কাছে হস্তান্তর করেন।

দলটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, তারা সংসদে সরকারি বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তাদের প্রস্তাবগুলো তুলে ধরবেন। জামায়াত আশা প্রকাশ করে, সরকার তাদের প্রস্তাবিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬


জামায়াতে ইসলামীর ছায়া বাজেট: ৮ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬

featured Image
জাতীয় সংসদের বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার একটি ‘ছায়া বাজেট’ প্রস্তাব করেছে। মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়। এতে বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছে দলটি।জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন ছায়া বাজেটটি উপস্থাপন করেন। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে জনপ্রশাসন, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধ এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।সরকারি বাজেটের চেয়ে কম আকারের ছায়া বাজেটউল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত ছায়া বাজেটের আকার প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা কম, যা সরকারি বাজেটের চেয়ে প্রায় সোয়া ১০ শতাংশ ছোট।সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামো ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাকে সামনে রেখে এই ছায়া বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। দলটির দাবি, তাদের প্রস্তাবিত বাজেট বেশি বাস্তবসম্মত ও জনবান্ধব।জনপ্রশাসন ও শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্বছায়া বাজেটে জনপ্রশাসন খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান সাইফুল ইসলাম খান মিলন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা যৌক্তিককরণ ও নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে জনপ্রশাসন খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।এছাড়া অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধেও বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জামায়াত নেতারা বলেন, সরকারের ঋণের বোঝা দিন দিন বাড়ছে, তাই সুদ পরিশোধে সতর্ক পরিকল্পনা প্রয়োজন।শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতকেও ছায়া বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মোপযোগী করে তুলতে এবং দেশকে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ জরুরি।সরকারি বাজেটের সমালোচনাছায়া বাজেট উপস্থাপনকালে জামায়াত নেতারা সরকারি প্রস্তাবিত বাজেটের কঠোর সমালোচনা করেন। সাইফুল ইসলাম খান মিলন বলেন, সরকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছে, কিন্তু এর বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এই বাজেট মূল্যস্ফীতি বাড়াবে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে।তাদের দাবি, সরকারি বাজেটে ঘাটতি ও ঋণের পরিমাণ খুব বেশি, যা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে। এ অবস্থায় তারা বিকল্প বাজেট প্রস্তাব করেছেন।ছায়া বাজেটের অন্যান্য খাতজামায়াতে ইসলামীর ছায়া বাজেটে কৃষি, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও এসএমই খাতেও বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে বলে জানান দলটির নেতারা। তারা বলেন, বাজেটে উৎপাদনমুখী খাত ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেশি জোর দেওয়া উচিত, যা সরকারি বাজেটে অনুপস্থিত।সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা ছায়া বাজেটের বিশদ বিবরণী সংবাদমাধ্যমের কাছে হস্তান্তর করেন।দলটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, তারা সংসদে সরকারি বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তাদের প্রস্তাবগুলো তুলে ধরবেন। জামায়াত আশা প্রকাশ করে, সরকার তাদের প্রস্তাবিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা