ঢাকা    শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
গণবার্তা

শরীয়তপুরে নারীকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন, চুল কেটে মুখে কালি

শরীয়তপুরে নারীকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন, চুল কেটে মুখে কালি

পৌরসভার উত্তর পালং এলাকায় এক নারীকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়, মুখে কালি লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয়। আজ শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নির্যাতনের শিকার নারীর নাম মলি বেগম (৩৭)। তিনি শরীয়তপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর পালং এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামী টুটুল সরদার লিবিয়া প্রবাসী। মলি বেগম সন্তানদের নিয়ে এলাকার বাড়িতেই বসবাস করেন।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, মলি বেগম ওই এলাকার দেলোয়ার কোটারির পরিবার ও স্থানীয় কয়েক ব্যক্তিকে বেশ কিছু টাকা ধার দিয়েছিলেন। ধারের টাকা পরিশোধ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শনিবার দেলোয়ারের স্ত্রী ও মেয়ে মলি বেগমকে উত্তর পালং এলাকার শাবনুর মার্কেটের কাছে আটক করেন। তারা স্থানীয় কয়েকজন নারীকে নিয়ে মলিকে মারধর করেন, মাথার চুল কেটে দেন ও মুখে কালি মেখে দেন। পরে জুতার মালা গলায় পরিয়ে তাকে পালং-প্রেমতলা সড়কের পাশের একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।

স্থানীয়রা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে ঘটনা জানান। পালং মডেল থানার পুলিশ দুপুর ১২টার দিকে এসে ওই নারীকে উদ্ধার করে। আহত মলি বেগমকে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মারধরের শিকার মলি বেগম বলেন, “আমার সাথে দেলোয়ার কোটারির টাকা-পয়সার লেনদেন আছে। ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করে সে টাকা নিয়েছেন। তার কাছে টাকা চাইলেই তিনি তালবাহানা করছিলেন। এক সপ্তাহ আগে আমি টাকার জন্য চাপ দিয়েছি। এরপর আমি সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় চলে যাই। ঢাকার থেকে ফিরলেই দেলোয়ারের স্ত্রী ও মেয়ে স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে আমাকে মারধর করেছেন। তারা মাথার চুল কেটে, মুখে কালি মেখে আমাকে বেঁধে রেখেছে। আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব।”

অন্যদিকে দেলোয়ার কোটারির মেয়ে মৌসুমি আক্তার সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “মলি বেগম আমার বাবাকে উত্ত্যক্ত করত। সে আমার বাবা-মায়ের সংসারে নানা ভাবে ঝামেলা সৃষ্টি করেছে। তিনি এলাকায় মাদক বিক্রি করেন। আজ মাদক বিক্রি করার সময় তাকে স্থানীয় কয়েকজন নারী হাতেনাতে ধরে ফেলে। এরপর ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ তাকে মারধর করে পুলিশে দিয়েছে। আমাদের কাছে সে কোনো টাকা পাবেন না। এখন তার অপকর্ম আড়াল করতে টাকা পাওয়ার মিথ্যা কথা বলছেন।”

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, “মলি বেগম নামের এক নারীর সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন নারীর টাকা পাওনা নিয়ে ঝামেলা চলছিল। এর জের ধরে কয়েকজন নারী মিলে মলি বেগমকে মারধর করে খুঁটির সাথে বেঁধে রাখেন। স্থানীয়রা জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে ঘটনা জানালে পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছে। ওই নারী কিছুটা অসুস্থ বোধ করায় তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই নারী আইনগত পদক্ষেপ নিতে চাইলে আমরা সহায়তা করব।”

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে অভিযোগ পেলে বা ভুক্তভোগী মামলা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে থানা কর্তৃপক্ষ।

এলাকায় ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ এমন নৃশংস নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


শরীয়তপুরে নারীকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন, চুল কেটে মুখে কালি

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬

featured Image
পৌরসভার উত্তর পালং এলাকায় এক নারীকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়, মুখে কালি লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয়। আজ শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নির্যাতনের শিকার নারীর নাম মলি বেগম (৩৭)। তিনি শরীয়তপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর পালং এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামী টুটুল সরদার লিবিয়া প্রবাসী। মলি বেগম সন্তানদের নিয়ে এলাকার বাড়িতেই বসবাস করেন।স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, মলি বেগম ওই এলাকার দেলোয়ার কোটারির পরিবার ও স্থানীয় কয়েক ব্যক্তিকে বেশ কিছু টাকা ধার দিয়েছিলেন। ধারের টাকা পরিশোধ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শনিবার দেলোয়ারের স্ত্রী ও মেয়ে মলি বেগমকে উত্তর পালং এলাকার শাবনুর মার্কেটের কাছে আটক করেন। তারা স্থানীয় কয়েকজন নারীকে নিয়ে মলিকে মারধর করেন, মাথার চুল কেটে দেন ও মুখে কালি মেখে দেন। পরে জুতার মালা গলায় পরিয়ে তাকে পালং-প্রেমতলা সড়কের পাশের একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।স্থানীয়রা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে ঘটনা জানান। পালং মডেল থানার পুলিশ দুপুর ১২টার দিকে এসে ওই নারীকে উদ্ধার করে। আহত মলি বেগমকে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।মারধরের শিকার মলি বেগম বলেন, “আমার সাথে দেলোয়ার কোটারির টাকা-পয়সার লেনদেন আছে। ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করে সে টাকা নিয়েছেন। তার কাছে টাকা চাইলেই তিনি তালবাহানা করছিলেন। এক সপ্তাহ আগে আমি টাকার জন্য চাপ দিয়েছি। এরপর আমি সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় চলে যাই। ঢাকার থেকে ফিরলেই দেলোয়ারের স্ত্রী ও মেয়ে স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে আমাকে মারধর করেছেন। তারা মাথার চুল কেটে, মুখে কালি মেখে আমাকে বেঁধে রেখেছে। আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব।”অন্যদিকে দেলোয়ার কোটারির মেয়ে মৌসুমি আক্তার সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “মলি বেগম আমার বাবাকে উত্ত্যক্ত করত। সে আমার বাবা-মায়ের সংসারে নানা ভাবে ঝামেলা সৃষ্টি করেছে। তিনি এলাকায় মাদক বিক্রি করেন। আজ মাদক বিক্রি করার সময় তাকে স্থানীয় কয়েকজন নারী হাতেনাতে ধরে ফেলে। এরপর ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ তাকে মারধর করে পুলিশে দিয়েছে। আমাদের কাছে সে কোনো টাকা পাবেন না। এখন তার অপকর্ম আড়াল করতে টাকা পাওয়ার মিথ্যা কথা বলছেন।”পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, “মলি বেগম নামের এক নারীর সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন নারীর টাকা পাওনা নিয়ে ঝামেলা চলছিল। এর জের ধরে কয়েকজন নারী মিলে মলি বেগমকে মারধর করে খুঁটির সাথে বেঁধে রাখেন। স্থানীয়রা জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে ঘটনা জানালে পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছে। ওই নারী কিছুটা অসুস্থ বোধ করায় তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই নারী আইনগত পদক্ষেপ নিতে চাইলে আমরা সহায়তা করব।”এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে অভিযোগ পেলে বা ভুক্তভোগী মামলা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে থানা কর্তৃপক্ষ।এলাকায় ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ এমন নৃশংস নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা