আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের (নওগাঁ-৬) টেবিলে উপস্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিষয়টি টেবিলে উত্থাপিত হয়। মন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক এবং সুষ্ঠু স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের জন্য রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি চালু করে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিকে এ পদ্ধতির আওতায় আনার জন্য নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল করিম (গাইবান্ধা-২)-এর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
মন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিকসের ব্যবস্থা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী নির্বাচনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক নির্বাচন হবে। প্রবাসী ভোটারদের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। ইতোমধ্যে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা আগামী নির্বাচনে আরও কার্যকর হবে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সরকার এ বিষয়ে বিবেচনা করবে। সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে, যাতে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যরা মন্ত্রীর এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা আশা করেন, আগামী নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম হবে না এবং জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন কমিশনের এই প্রস্তুতি এবং প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে বাস্তবায়নে কোনো জটিলতা যেন না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে। বিশেষ করে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ ও কার্যকর করতে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। এছাড়া ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে। এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোও তাদের প্রস্তুতি শুরু করেছে। সাধারণ মানুষও এই নির্বাচনকে স্বাগত জানাচ্ছেন এবং তারা আশা করছেন, এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা গেলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হবে। তবে এজন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন