ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
গণবার্তা

রিমান্ড শেষে কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী

রিমান্ড শেষে কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী

ঢাকার মিরপুরে স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া ওরফে জাহের আলভীকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত এই আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসাইন মৃধা এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আবজাল হোসাইন মৃধা বলেন, মঙ্গলবার আলভীর পক্ষে কোনো জামিন আবেদন না থাকায় দুই দিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমরা আদালতে বলেছি এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আলভীর সঙ্গে আর যারা জড়িত তাদেরকে তদন্ত প্রতিবেদনে যুক্ত করা হোক। এর আগে দুই দিনের রিমান্ড শেষে জাহের আলভীকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) মিরপুর বিভাগের পরিদর্শক মো. আবদুল মালেক। তিনি আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, গত ২৮ জুন স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আসামিকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামলার তদন্তে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও মিলেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলেও জানানো হয়।

এর আগে ১৮ জুন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছিলেন জাহের আলভী। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে ২১ জুন তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ২৪ জুন আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে, গত ৪ জুন মামলার আরেক আসামি আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১ মার্চ সকালে মিরপুরের বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আলভীর স্ত্রী ইকরার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের কারণেই ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।

এই মামলায় জাহের আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলি ছাড়াও অন্যদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনে আরও কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। জাহের আলভী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলভীর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। তারা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। অন্যদিকে, আলভীর পরিবার জানিয়েছে, তারা আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাবেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা নিহতের ডায়েরি, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করছে। মামলার তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে। তখনই স্পষ্ট হবে এই মৃত্যুর পেছনে কার ভূমিকা ছিল। জাহের আলভী বর্তমানে কারাগারে আছেন এবং তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় তাকে আগামী কয়েক দিন কারাগারেই থাকতে হবে। আইনজীবীরা বলছেন, এই মামলায় জামিন পাওয়া কঠিন, কারণ এটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার গুরুতর অভিযোগ। তবে আলভীর আইনজীবী জানিয়েছেন, তারা উচ্চ আদালতে জামিন আবেদন করবেন। নিহত ইকরার পরিবার সঠিক বিচারের আশায় রয়েছে। তারা চান, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাই যেন আইনের আওতায় আসে। ইতিমধ্যে ইকরার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা আলভী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে আরও প্রমাণ জমা দেবেন। এই মামলা নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকে মনে করছেন, এই মামলা আত্মহত্যার কারণ ও পারিবারিক নির্যাতন সম্পর্কে সমাজে সচেতনতা বাড়াবে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় সবার চোখ এখন আদালতের দিকে। আগামী শুনানিতে কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


রিমান্ড শেষে কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image
ঢাকার মিরপুরে স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া ওরফে জাহের আলভীকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত এই আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসাইন মৃধা এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।আবজাল হোসাইন মৃধা বলেন, মঙ্গলবার আলভীর পক্ষে কোনো জামিন আবেদন না থাকায় দুই দিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমরা আদালতে বলেছি এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আলভীর সঙ্গে আর যারা জড়িত তাদেরকে তদন্ত প্রতিবেদনে যুক্ত করা হোক। এর আগে দুই দিনের রিমান্ড শেষে জাহের আলভীকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) মিরপুর বিভাগের পরিদর্শক মো. আবদুল মালেক। তিনি আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, গত ২৮ জুন স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আসামিকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামলার তদন্তে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও মিলেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলেও জানানো হয়।এর আগে ১৮ জুন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছিলেন জাহের আলভী। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে ২১ জুন তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ২৪ জুন আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে, গত ৪ জুন মামলার আরেক আসামি আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১ মার্চ সকালে মিরপুরের বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আলভীর স্ত্রী ইকরার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের কারণেই ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।এই মামলায় জাহের আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলি ছাড়াও অন্যদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনে আরও কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। জাহের আলভী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলভীর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। তারা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। অন্যদিকে, আলভীর পরিবার জানিয়েছে, তারা আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাবেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা নিহতের ডায়েরি, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করছে। মামলার তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে। তখনই স্পষ্ট হবে এই মৃত্যুর পেছনে কার ভূমিকা ছিল। জাহের আলভী বর্তমানে কারাগারে আছেন এবং তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় তাকে আগামী কয়েক দিন কারাগারেই থাকতে হবে। আইনজীবীরা বলছেন, এই মামলায় জামিন পাওয়া কঠিন, কারণ এটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার গুরুতর অভিযোগ। তবে আলভীর আইনজীবী জানিয়েছেন, তারা উচ্চ আদালতে জামিন আবেদন করবেন। নিহত ইকরার পরিবার সঠিক বিচারের আশায় রয়েছে। তারা চান, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাই যেন আইনের আওতায় আসে। ইতিমধ্যে ইকরার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা আলভী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে আরও প্রমাণ জমা দেবেন। এই মামলা নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকে মনে করছেন, এই মামলা আত্মহত্যার কারণ ও পারিবারিক নির্যাতন সম্পর্কে সমাজে সচেতনতা বাড়াবে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় সবার চোখ এখন আদালতের দিকে। আগামী শুনানিতে কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা