ঢাকা    বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ট্রাম্পের আদেশ খারিজ সুপ্রিম কোর্টের

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ট্রাম্পের আদেশ খারিজ সুপ্রিম কোর্টের

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশ খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে দেওয়া এই রায়ে নিম্ন আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশই বহাল রাখা হয়েছে। অভিবাসন নীতি কঠোর করার এই উদ্যোগ বাতিল হওয়াকে ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের আইনি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই এই বিতর্কিত নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন ট্রাম্প। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী কোনো শিশুর মা-বাবার অন্তত একজন যদি মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বৈধ বাসিন্দা না হন, তবে ওই শিশু জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের স্বীকৃতি পাবে না। মার্কিন সরকারি সংস্থাগুলোকে এই নির্দেশ মেনে চলার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এই রায়ের খসড়া প্রস্তুত করেন। রায়ে তিনি মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর কথা উল্লেখ করেন, যা মূলত গৃহযুদ্ধ শেষে দাসপ্রথা বিলুপ্তির পর মুক্ত হওয়া দাসদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে প্রণীত হয়েছিল। রায়ে বলা হয়, মা-বাবা সাময়িক বা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও সেখানে জন্ম নেওয়া তাদের সন্তান সংবিধান অনুযায়ী নিশ্চিতভাবেই ‘জন্মসূত্রে নাগরিক’। প্রধান বিচারপতি তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, ‘নাগরিকত্ব হলো তখনো এবং এখনো আমাদের রাজনৈতিক সম্প্রদায়ে অবাধে অংশগ্রহণের অধিকার পাওয়ার চাবিকাঠি। চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতারা এই ভূখণ্ডে মুক্তভাবে জন্ম নেওয়া প্রতিটি মানুষের জন্য সেই প্রতিশ্রুতি প্রসারিত করেছিলেন। আমরা আজ সেই প্রতিশ্রুতিরই ধারাবাহিকতা বজায় রাখছি।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে নিয়মিতভাবেই তার ক্ষমতার আইনি সীমা পরীক্ষার চেষ্টা করছেন। তবে চলতি বছর এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো তার নেওয়া কোনো বড় সিদ্ধান্ত আদালতের বাধার মুখে পড়ল। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে তার জারি করা ব্যাপকভিত্তিক বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তটিও বাতিল করে দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট। এদিকে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ইস্যুতে হারলেও একই দিন অন্য একটি রায়ে স্বস্তি পেয়েছেন ট্রাম্প। স্কুল ও কলেজের মেয়েদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ট্রান্সজেন্ডার (রূপান্তরকামী) নারীদের অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্ট। ট্রাম্প এই রায়কে নিজের ‘বড় জয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আইডাহো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রণয়ন করা আইনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের করা দুটি মামলার শুনানি শেষে আদালত এই রায় দেন। ওই দুই অঙ্গরাজ্যের আইনে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্রীড়া দলে জন্মকালীন নিবন্ধিত লিঙ্গ অনুযায়ী অংশ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট এই সিদ্ধান্তকে বৈধতা দেওয়ায় এখন থেকে অঙ্গরাজ্যগুলো চাইলেই মেয়েদের স্কুল-কলেজের খেলাধুলায় ট্রান্সজেন্ডার নারীদের ওপর এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের রায়ে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি মারাত্মক আঘাত পেলেও ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুতে তার অবস্থানকে বৈধতা দেওয়ায় তিনি কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়গুলো আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে অভিবাসন ও সামাজিক ইস্যুতে বিতর্ক আরও তীব্র করবে বলে ধারণা করছেন তারা। ইতিমধ্যে ডেমোক্র্যাটরা এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন, অন্যদিকে রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের রায়ের ফলে লাখ লাখ অভিবাসী পরিবারের সন্তানরা নাগরিকত্ব পাবে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা। অন্যদিকে ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুতে রায়টি এলজিবিটি সম্প্রদায়ের জন্য হতাশাজনক, কিন্তু রক্ষণশীলদের জন্য বিজয়। এই দুই রায় যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী দিনগুলোতে এই রায়গুলোর বাস্তব প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ট্রাম্পের আদেশ খারিজ সুপ্রিম কোর্টের

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশ খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে দেওয়া এই রায়ে নিম্ন আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশই বহাল রাখা হয়েছে। অভিবাসন নীতি কঠোর করার এই উদ্যোগ বাতিল হওয়াকে ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের আইনি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই এই বিতর্কিত নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন ট্রাম্প। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী কোনো শিশুর মা-বাবার অন্তত একজন যদি মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বৈধ বাসিন্দা না হন, তবে ওই শিশু জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের স্বীকৃতি পাবে না। মার্কিন সরকারি সংস্থাগুলোকে এই নির্দেশ মেনে চলার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এই রায়ের খসড়া প্রস্তুত করেন। রায়ে তিনি মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর কথা উল্লেখ করেন, যা মূলত গৃহযুদ্ধ শেষে দাসপ্রথা বিলুপ্তির পর মুক্ত হওয়া দাসদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে প্রণীত হয়েছিল। রায়ে বলা হয়, মা-বাবা সাময়িক বা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও সেখানে জন্ম নেওয়া তাদের সন্তান সংবিধান অনুযায়ী নিশ্চিতভাবেই ‘জন্মসূত্রে নাগরিক’। প্রধান বিচারপতি তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, ‘নাগরিকত্ব হলো তখনো এবং এখনো আমাদের রাজনৈতিক সম্প্রদায়ে অবাধে অংশগ্রহণের অধিকার পাওয়ার চাবিকাঠি। চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতারা এই ভূখণ্ডে মুক্তভাবে জন্ম নেওয়া প্রতিটি মানুষের জন্য সেই প্রতিশ্রুতি প্রসারিত করেছিলেন। আমরা আজ সেই প্রতিশ্রুতিরই ধারাবাহিকতা বজায় রাখছি।’প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে নিয়মিতভাবেই তার ক্ষমতার আইনি সীমা পরীক্ষার চেষ্টা করছেন। তবে চলতি বছর এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো তার নেওয়া কোনো বড় সিদ্ধান্ত আদালতের বাধার মুখে পড়ল। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে তার জারি করা ব্যাপকভিত্তিক বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তটিও বাতিল করে দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট। এদিকে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ইস্যুতে হারলেও একই দিন অন্য একটি রায়ে স্বস্তি পেয়েছেন ট্রাম্প। স্কুল ও কলেজের মেয়েদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ট্রান্সজেন্ডার (রূপান্তরকামী) নারীদের অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্ট। ট্রাম্প এই রায়কে নিজের ‘বড় জয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আইডাহো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রণয়ন করা আইনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের করা দুটি মামলার শুনানি শেষে আদালত এই রায় দেন। ওই দুই অঙ্গরাজ্যের আইনে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্রীড়া দলে জন্মকালীন নিবন্ধিত লিঙ্গ অনুযায়ী অংশ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট এই সিদ্ধান্তকে বৈধতা দেওয়ায় এখন থেকে অঙ্গরাজ্যগুলো চাইলেই মেয়েদের স্কুল-কলেজের খেলাধুলায় ট্রান্সজেন্ডার নারীদের ওপর এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের রায়ে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি মারাত্মক আঘাত পেলেও ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুতে তার অবস্থানকে বৈধতা দেওয়ায় তিনি কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়গুলো আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে অভিবাসন ও সামাজিক ইস্যুতে বিতর্ক আরও তীব্র করবে বলে ধারণা করছেন তারা। ইতিমধ্যে ডেমোক্র্যাটরা এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন, অন্যদিকে রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের রায়ের ফলে লাখ লাখ অভিবাসী পরিবারের সন্তানরা নাগরিকত্ব পাবে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা। অন্যদিকে ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুতে রায়টি এলজিবিটি সম্প্রদায়ের জন্য হতাশাজনক, কিন্তু রক্ষণশীলদের জন্য বিজয়। এই দুই রায় যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী দিনগুলোতে এই রায়গুলোর বাস্তব প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা