ঢাকা    শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

পাবনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, বিক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়েছে বাড়ি

পাবনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, বিক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়েছে বাড়ি

পাবনার সাঁথিয়ায় দুই যুবকের বিরুদ্ধে এক স্কুলছাত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার জেরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার আর আতাইকুলা ইউনিয়নের বিলকুলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার আর আতাইকুলা ইউনিয়নের বিলকুলা গ্রামের সাজাই আলীর ছেলে মামুন (৩৪) এবং একই গ্রামের মৃত জমির উদ্দিনের ছেলে জুয়েল (৩৫)। তারা দুজনেই বিবাহিত ও সন্তান সন্ততির জনক এবং ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছে।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিলকুলা গ্রামের এক সৌদি আরব প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরের দিকে প্রায় রাতেই উঁকিঝুঁকি দিত প্রতিবেশী মামুন ও জুয়েল। গত মঙ্গলবার দিনগত ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে ওই প্রবাসীর অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে ঘর থেকে বাইরে বের হলে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা মামুন ও জুয়েল তার মুখ ওড়না দিয়ে বেঁধে ফেলে। পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাশের একটি স্থানে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের পাশাপাশি অভিযুক্তরা মোবাইলে ছবি ধারণ করে এবং ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ছাত্রী বিষয়টি তার মাকে জানালে, ছাত্রীর মা বাদী হয়ে বুধবার আতাইকুলা থানায় দুইজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

ধর্ষণের ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জেরে গত বুধবার রাতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত মামুনের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে অপর অভিযুক্ত জুয়েলের বাড়িতেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। এ বিষয়ে আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, ওই এলাকায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গ্রামে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

ঘটনার পর গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তারা বলছেন, এই ধর্ষণ অত্যন্ত নৃশংস ও লজ্জাজনক। ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। স্কুল কর্তৃপক্ষও বিষয়টি জানতে পেরেছে এবং ভুক্তভোগীকে মানসিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করছে। ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এই ঘটনার পর অনেকেই নারী ও শিশু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা প্রশাসনের কাছে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাবনার এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতন একটি গুরুতর সমস্যা। এটি মোকাবিলায় আইনি ব্যবস্থা জোরদার করা এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা বন্ধ হবে না। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এলাকাবাসীও পুলিশকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি স্পষ্ট হবে। এদিকে বিক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়িগুলোর বিষয়েও তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ঠিক নয় এবং এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা সবার প্রতি শান্ত থাকার এবং আইনি প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। আশা করা যায়, দ্রুত এই মামলার সমাধান হবে এবং অপরাধীরা শাস্তি পাবে। এতে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে। পাবনার এই ঘটনা সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা। সবার উচিত সতর্ক থাকা এবং কোনো অন্যায় দেখলে কর্তৃপক্ষকে জানানো। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা সমাজ থেকে এ ধরনের অপরাধ দূর করতে পারি।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬


পাবনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, বিক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়েছে বাড়ি

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image
পাবনার সাঁথিয়ায় দুই যুবকের বিরুদ্ধে এক স্কুলছাত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার জেরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার আর আতাইকুলা ইউনিয়নের বিলকুলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার আর আতাইকুলা ইউনিয়নের বিলকুলা গ্রামের সাজাই আলীর ছেলে মামুন (৩৪) এবং একই গ্রামের মৃত জমির উদ্দিনের ছেলে জুয়েল (৩৫)। তারা দুজনেই বিবাহিত ও সন্তান সন্ততির জনক এবং ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছে।মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিলকুলা গ্রামের এক সৌদি আরব প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরের দিকে প্রায় রাতেই উঁকিঝুঁকি দিত প্রতিবেশী মামুন ও জুয়েল। গত মঙ্গলবার দিনগত ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে ওই প্রবাসীর অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে ঘর থেকে বাইরে বের হলে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা মামুন ও জুয়েল তার মুখ ওড়না দিয়ে বেঁধে ফেলে। পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাশের একটি স্থানে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের পাশাপাশি অভিযুক্তরা মোবাইলে ছবি ধারণ করে এবং ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ছাত্রী বিষয়টি তার মাকে জানালে, ছাত্রীর মা বাদী হয়ে বুধবার আতাইকুলা থানায় দুইজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।ধর্ষণের ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জেরে গত বুধবার রাতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত মামুনের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে অপর অভিযুক্ত জুয়েলের বাড়িতেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। এ বিষয়ে আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, ওই এলাকায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গ্রামে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।ঘটনার পর গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তারা বলছেন, এই ধর্ষণ অত্যন্ত নৃশংস ও লজ্জাজনক। ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। স্কুল কর্তৃপক্ষও বিষয়টি জানতে পেরেছে এবং ভুক্তভোগীকে মানসিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করছে। ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এই ঘটনার পর অনেকেই নারী ও শিশু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা প্রশাসনের কাছে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাবনার এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতন একটি গুরুতর সমস্যা। এটি মোকাবিলায় আইনি ব্যবস্থা জোরদার করা এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা বন্ধ হবে না। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এলাকাবাসীও পুলিশকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি স্পষ্ট হবে। এদিকে বিক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়িগুলোর বিষয়েও তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ঠিক নয় এবং এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা সবার প্রতি শান্ত থাকার এবং আইনি প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। আশা করা যায়, দ্রুত এই মামলার সমাধান হবে এবং অপরাধীরা শাস্তি পাবে। এতে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে। পাবনার এই ঘটনা সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা। সবার উচিত সতর্ক থাকা এবং কোনো অন্যায় দেখলে কর্তৃপক্ষকে জানানো। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা সমাজ থেকে এ ধরনের অপরাধ দূর করতে পারি।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা