ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

মার্কিন হামলায় ইরানের তেহরান-মাশহাদ রেলপথ বিঘ্নিত

মার্কিন হামলায় ইরানের তেহরান-মাশহাদ রেলপথ বিঘ্নিত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা যে শহর, সেই মাশহাদেই যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তেহরানের সঙ্গে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় রেলপথটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। অন্যদিকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দুটি সেতু ধ্বংস হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রিপাবলিক রেলওয়ের একজন মুখপাত্র আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম তাসনিমকে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এই রুটটি মেরামতের চেষ্টা চলছে।

রাজধানী তেহরান এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের মধ্যকার এই রেলপথটি ইরানের সবচেয়ে ব্যস্ত রুট বলে জানা যায়।

এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, 'গত রাতে আমরা ইরানে খুব কঠোরভাবে হামলা চালিয়েছি, খুবই কঠোরভাবে। সম্ভবত আজ রাতেও তাদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।'

এদিকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহবাহী বিমান দেশটির পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শহর মাশহাদে পৌঁছেছে। ইরানের গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, মরদেহ বহনকারী মাহান এয়ারের বিমানটি অবতরণের পর বিমানবন্দরে চলাচল করছে। প্রসঙ্গত, মাশহাদই আলি খামেনির জন্মশহর।

এর আগে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়। এসব অনুষ্ঠানে লাখো মানুষ অংশ নেন। খামেনির মৃত্যুর পর গত ছয় দিন ধরে ইরান ও ইরাকজুড়ে শোকানুষ্ঠান ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি চলছে। এর অংশ হিসেবে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালাসহ বিভিন্ন স্থানে জানাজা ও শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নাজাফ থেকে মাশহাদে কফিন স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে সেই কর্মসূচির শেষ পর্ব সম্পন্ন হচ্ছে।

খামেনির কার্যালয়ের প্রধান মোহাম্মদ মোহাম্মাদি গোলপায়েগানি জানিয়েছেন, জীবদ্দশায় খামেনি ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন যেন তাকে মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারের কাছে দাফন করা হয়। তবে মার্কিন হামলার কারণে মাশহাদে জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে নজর দিচ্ছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, 'এটি আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থি।'

বিষয় : ইরান আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬


মার্কিন হামলায় ইরানের তেহরান-মাশহাদ রেলপথ বিঘ্নিত

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

featured Image
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা যে শহর, সেই মাশহাদেই যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তেহরানের সঙ্গে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় রেলপথটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। অন্যদিকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দুটি সেতু ধ্বংস হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রিপাবলিক রেলওয়ের একজন মুখপাত্র আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম তাসনিমকে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এই রুটটি মেরামতের চেষ্টা চলছে।রাজধানী তেহরান এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের মধ্যকার এই রেলপথটি ইরানের সবচেয়ে ব্যস্ত রুট বলে জানা যায়।এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, 'গত রাতে আমরা ইরানে খুব কঠোরভাবে হামলা চালিয়েছি, খুবই কঠোরভাবে। সম্ভবত আজ রাতেও তাদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।'এদিকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহবাহী বিমান দেশটির পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শহর মাশহাদে পৌঁছেছে। ইরানের গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, মরদেহ বহনকারী মাহান এয়ারের বিমানটি অবতরণের পর বিমানবন্দরে চলাচল করছে। প্রসঙ্গত, মাশহাদই আলি খামেনির জন্মশহর।এর আগে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়। এসব অনুষ্ঠানে লাখো মানুষ অংশ নেন। খামেনির মৃত্যুর পর গত ছয় দিন ধরে ইরান ও ইরাকজুড়ে শোকানুষ্ঠান ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি চলছে। এর অংশ হিসেবে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালাসহ বিভিন্ন স্থানে জানাজা ও শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নাজাফ থেকে মাশহাদে কফিন স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে সেই কর্মসূচির শেষ পর্ব সম্পন্ন হচ্ছে।খামেনির কার্যালয়ের প্রধান মোহাম্মদ মোহাম্মাদি গোলপায়েগানি জানিয়েছেন, জীবদ্দশায় খামেনি ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন যেন তাকে মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারের কাছে দাফন করা হয়। তবে মার্কিন হামলার কারণে মাশহাদে জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে নজর দিচ্ছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, 'এটি আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থি।'

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা