ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের সুয়াদী বাসস্ট্যান্ডে দুর্ঘটনাকবলিত একটি পিকআপ উদ্ধারের সময় বেপরোয়া গতির একটি বাসের চাপায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত আরও পাঁচজন।
শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক নিহত ও আহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই ঘটনায় হতাহত আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুয়াদী বাসস্ট্যান্ডে ডিমভর্তি একটি পিকআপভ্যান বৃষ্টির কারণে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এসময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পিকআপ উদ্ধারের সময় ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জগামী ‘নড়াইল এক্সপ্রেসের’ একটি বাস তাদের চাপা দেয়।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার আবু জাফর জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি। ঘটনাস্থলে পাঁচজনের মরদেহ রয়েছে। হাসপাতালে অনেক মানুষ গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছেন। সেখানে খুবই আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে কয়েকজন।
ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, সুয়াদী বাসস্ট্যান্ডে ডিমভর্তি একটি পিকআপভ্যান বৃষ্টির কারণে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এসময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পিকআপ উদ্ধারের সময় ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জগামী নড়াইল এক্সপ্রেস তাদের চাপা দেয়।
উত্তেজনা ও ভাঙচুর
দুর্ঘটনার পর সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। উত্তেজিত জনতা একাধিক যানবাহন ভাঙচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উত্তেজিত জনতা ৩০-৪০টি যানবাহন ভাঙচুর করেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত ৯টা) প্রশাসনের কোনো লোকজন উত্তেজিত জনতার সামনে ভিড়তে পারেনি। সড়কের ওপর একাধিক যানবাহন আগুনে পুড়ছে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাসটির চালক পলাতক রয়েছে। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন