পুনর্বাসন পরিকল্পনা ছাড়াই ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করার সরকারি পদক্ষেপের প্রতিবাদে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে রবিবার এটিই প্রথম বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল।
এই প্রতিবাদ কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন সিটি পুলিশের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বেশ কিছুদিন ধরে চলা আন্দোলনের অংশ। ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করে অস্থায়ী কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করার জন্য বহু তরুণ সরকারের সমালোচনা করছিল। এরপর এই প্রতিবাদ তীব্র আকার ধারণ করে। জেন-জি প্রজন্মের সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্যযুক্ত এই সাম্প্রতিক প্রতিবাদে উচ্ছেদ হওয়া মানুষদের ‘অমানবিক’ জীবনযাত্রার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্থায়ী কেন্দ্রে থাকতে বাধ্য হওয়া মানুষদের সমস্যা তুলে ধরার জন্য কিছু আন্দোলনকর্মী, ছাত্র ও সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে কাঠমান্ডুতে নগর পুলিশ মোটরসাইকেলে চাকায় লক লাগিয়ে দেওয়ায় গণেশ নেপালি নামে ২৫ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এই ঘটনা প্রতিবাদ আন্দোলনকে আরও বেগবান করে।
রবিবারের বিক্ষোভটি নেপালের রাজধানীর একটি প্রধান সরকারি দপ্তরের বাইরে অনুষ্ঠিত হয়। এর আয়োজক ছিল জয়েন্ট ন্যাশনাল স্কোয়াটার্স ফ্রন্ট। বিপুল সংখ্যক মানুষ ‘গরিবদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করুন, মানবাধিকারকে সম্মান করুন, অবৈধ গ্রেপ্তার বন্ধ করুন এবং ভূমিহীনদের আশ্রয় দিন’—এর মতো স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করছিল।
প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ গত বছর জেন-জি প্রজন্মের তীব্র প্রতিবাদকে সমর্থন করেছিলেন, যার ফলে কেপি শর্মা ওলি ও তার দলের শাসনের অবসান ঘটেছিল। কিন্তু এবার একই প্রজন্মের প্রতিবাদের মুখে পড়েছেন তিনি।
এই সমাবেশের সাথে গত বছর হিমালয় অঞ্চলের এই দেশটিতে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সাদৃশ্য রয়েছে। আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন, উচ্ছেদের শিকার মানুষদের জন্য পুনর্বাসন পরিকল্পনা ছাড়া তাদের স্থানান্তর করা আইনগত ও মানবিক উভয় দিক থেকেই ভুল। তারা সরকারের কাছে অবিলম্বে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিষয় : নেপাল

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন