ঢাকা    বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা আরও সহজ ও নাগরিকবান্ধব করতে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে একাধিক সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জন্মতারিখ সংশোধন থেকে শুরু করে ভোটার এলাকা পরিবর্তন এবং প্রবাসীদের এনআইডি প্রাপ্তির প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শেষে এসব সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি বলেন, এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি কমাতে মাঠ পর্যায়ে ডেলিগেশন বা ক্ষমতা হস্তান্তরের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে জেএসসি, এসএসসি বা পিএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষার সনদ দিয়ে জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদন করলে তা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পরিবর্তে মাঠ পর্যায় থেকেই নিষ্পত্তি করা হবে।

এ ছাড়া, এনআইডি স্থানান্তর বা ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদনও অনলাইনে করার সুযোগ চালু করা হচ্ছে। নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধের মাধ্যমে নাগরিকরা এই সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

এনআইডি নবায়নের ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থা আনা হচ্ছে। প্রতি ১৫ বছর পর নবায়নের সময় আবেদনকারীকে একটি নির্ধারিত ফরমে পরিবারের সদস্যদের তথ্য বা 'ফ্যামিলি ট্রি' উল্লেখ করতে হবে, যাতে পারিবারিক তথ্যের ধারাবাহিকতা ও সঠিকতা নিশ্চিত করা যায়।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়াও সহজ করা হচ্ছে। আগে আবেদন ও বায়োমেট্রিক গ্রহণের পর দেশে দুই ধাপে তদন্ত শেষে অনুমোদন দেওয়া হতো। নতুন ব্যবস্থায় বায়োমেট্রিক তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে অনলাইনে আপলোড হবে এবং ঢাকায় প্রাথমিক যাচাই শেষে তথ্য সঠিক পাওয়া গেলে এনআইডির অনুমোদন দেওয়া হবে। এতে একটি তদন্ত ধাপ বাদ পড়বে এবং পুরো প্রক্রিয়া আরও দ্রুত সম্পন্ন হবে।

এ ছাড়া, নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা আরও কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও ভবিষ্যতে এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি বা এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির বয়স থেকেই তথ্য সংগ্রহের সুযোগ রাখা যায় কি না, তা পর্যালোচনা করছে নির্বাচন কমিশন। এই বিষয়ে পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এনআইডি সেবাকে আরও আধুনিক, সহজ ও নাগরিকবান্ধব করতে কমিশন কাজ করছে। এই সংক্রান্ত প্রস্তাব ও সুপারিশ আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হবে।

এদিকে, একই কমিশন সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত আইন সংশোধনের কয়েকটি প্রস্তাবও চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের জন্য শিগগিরই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬


সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬

featured Image
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা আরও সহজ ও নাগরিকবান্ধব করতে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে একাধিক সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জন্মতারিখ সংশোধন থেকে শুরু করে ভোটার এলাকা পরিবর্তন এবং প্রবাসীদের এনআইডি প্রাপ্তির প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে।মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শেষে এসব সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।তিনি বলেন, এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি কমাতে মাঠ পর্যায়ে ডেলিগেশন বা ক্ষমতা হস্তান্তরের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে জেএসসি, এসএসসি বা পিএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষার সনদ দিয়ে জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদন করলে তা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পরিবর্তে মাঠ পর্যায় থেকেই নিষ্পত্তি করা হবে।এ ছাড়া, এনআইডি স্থানান্তর বা ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদনও অনলাইনে করার সুযোগ চালু করা হচ্ছে। নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধের মাধ্যমে নাগরিকরা এই সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।এনআইডি নবায়নের ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থা আনা হচ্ছে। প্রতি ১৫ বছর পর নবায়নের সময় আবেদনকারীকে একটি নির্ধারিত ফরমে পরিবারের সদস্যদের তথ্য বা 'ফ্যামিলি ট্রি' উল্লেখ করতে হবে, যাতে পারিবারিক তথ্যের ধারাবাহিকতা ও সঠিকতা নিশ্চিত করা যায়।প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়াও সহজ করা হচ্ছে। আগে আবেদন ও বায়োমেট্রিক গ্রহণের পর দেশে দুই ধাপে তদন্ত শেষে অনুমোদন দেওয়া হতো। নতুন ব্যবস্থায় বায়োমেট্রিক তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে অনলাইনে আপলোড হবে এবং ঢাকায় প্রাথমিক যাচাই শেষে তথ্য সঠিক পাওয়া গেলে এনআইডির অনুমোদন দেওয়া হবে। এতে একটি তদন্ত ধাপ বাদ পড়বে এবং পুরো প্রক্রিয়া আরও দ্রুত সম্পন্ন হবে।এ ছাড়া, নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা আরও কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও ভবিষ্যতে এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি বা এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির বয়স থেকেই তথ্য সংগ্রহের সুযোগ রাখা যায় কি না, তা পর্যালোচনা করছে নির্বাচন কমিশন। এই বিষয়ে পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এনআইডি সেবাকে আরও আধুনিক, সহজ ও নাগরিকবান্ধব করতে কমিশন কাজ করছে। এই সংক্রান্ত প্রস্তাব ও সুপারিশ আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হবে।এদিকে, একই কমিশন সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত আইন সংশোধনের কয়েকটি প্রস্তাবও চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের জন্য শিগগিরই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা