ঢাকা    শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের পর সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু, নতুন নির্বাচনের পথে দেশ

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের পর সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু, নতুন নির্বাচনের পথে দেশ

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর তার পদত্যাগের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত লিখিতপত্র দিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ, পদত্যাগ ও অভিশংসন বিষয়ে বিধান রয়েছে। এর ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'স্পীকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে রাষ্ট্রপতি স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।' এই বিধান অনুসারেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর দায়িত্ব পালনের বিষয়েও সংবিধানে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলে বা অন্য কোনো কারণে নিজের দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার।

রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, তিনি সম্পূর্ণ সংবিধান রক্ষা করে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তিনি কোনো অপরাধী নন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি সবসময় মাথা উঁচু করে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী কঠিন সময়ে কার্যকরভাবে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট বা সংকট মোকাবেলা করেছেন বলে মন্তব্য করেন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে দেওয়ার পর একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। নিজের পদত্যাগের মূল কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি জানান, অসুস্থতাই তার পদত্যাগের প্রধান ও মূল কারণ। সাম্প্রতিক সময়ের নানা গুঞ্জন ও খবর খারিজ করে দিয়ে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে যেসব কথাবার্তা উঠে আসছে তার সবই অপতথ্য, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, তৈরি করা এবং কল্পনাপ্রসূত। মনগড়া তথ্য লিখে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, কোনো ফোন বা বাহ্যিক চাপের যে কথা বলা হচ্ছে তা একেবারেই অবান্তর।

বঙ্গভবন ত্যাগ করার বিষয়ে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, পদত্যাগের পর নিয়মানুযায়ী বঙ্গভবনে আরও এক মাস থাকার আইনি বিধান থাকলেও তিনি সেখানে বেশি দিন অবস্থান করবেন না। তিনি জানান, যত দ্রুত সম্ভব তিনি নিজ বাসায় ফিরে যাবেন এবং গুলশানের বাসভবনেই উঠবেন।

দেশ পরিচালনায় নিজের ভূমিকা ও অবদানের কথা স্মরণ করে সদ্য পদত্যাগ করা এই রাষ্ট্রপতি বলেন, সংকটময় পরিস্থিতিতে সংবিধানকে অক্ষুণ্ণ রাখা এবং একটি নতুন সরকার গঠন করে দেওয়াটা তার বড় সাফল্য। সংবিধান অনুযায়ী কেবল রাষ্ট্রপতিরই সরকার গঠনের এখতিয়ার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি নিজ ক্ষমতাবলে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে দিয়েছিলেন। সেই অন্তর্বর্তী সরকার দেশ চালিয়েছে, পরবর্তীতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। দেশের এই রূপান্তর ও স্থিতিশীলতার পেছনে নিজের কৃতিত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি আত্মতৃপ্তি প্রকাশ করেন।

পদত্যাগের পর একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথোপকথনের সময় এনসিপির পক্ষ থেকে তার বিচারের দাবি তোলার প্রসঙ্গে সাহাবুদ্দিন বলেন, 'ধুর! এগুলো বাদ দেন। এগুলো পাত্তা দেই না।' অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা তার কাছেই শপথ নিয়েছিলেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'আর কীসের বিচার করবে? কীসের? কীসের বিচার করবে? সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ পড়ে দেখুক।'

বিদায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সাংবিধানিক নিয়ম মেনে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংবিধানের সুনির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির আসন শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। এই আইনি কাঠামোর আলোকেই খুব শিগগিরই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়সূচি বা তফসিল সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করার পরিকল্পনা করছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বিষয়টি স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের আলোকে রাষ্ট্রপতির পদ খালি হওয়ার নির্ধারিত নব্বই দিনের সময়সীমার ভেতরেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, বিদায়ী রাষ্ট্রপতি গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর থেকেই পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

ইসির দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন-১৯৯১ এর নীতিমালা অনুসরণে পুরো নির্বাচন কাজ পরিচালিত হবে। প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে স্বয়ং প্রধান নির্বাচন কমিশনার রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমানে বহাল সাংবিধানিক বিধান অনুসারে, জাতীয় সংসদের মোট ৩৫০ জন সংসদ সদস্য এই নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। ফলে ইসি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ে এসব সংসদ সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুতের কাজে হাত দিচ্ছে।

ইসি কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এই সংক্রান্ত বিষয়ে আরও অবহিত করে জানান, ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণের কাজটি শেষ হওয়ামাত্রই নির্বাচনের প্রাক-তফসিল ঘোষণা করা হবে। সম্পূর্ণ আয়োজনটি অনেকটা সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচনের কাঠামোর মতো করেই পরিচালনা করা হবে। যদি নির্বাচনে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকেন, তবে নির্ধারিত দিনে সরাসরি জাতীয় সংসদ ভবনে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। আর যদি একজন মাত্র বৈধ প্রার্থী থাকেন, তবে তাকে কোনো ভোট গ্রহণ ছাড়াই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত বলে ঘোষণা করা হবে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় কমিশনের সব ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম স্থগিত ছিল। তাই আগামী রবিবার অথবা সপ্তাহের পরবর্তী কার্যদিবসগুলোতে তফসিল সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বিশেষ বৈঠকে বসবেন কমিশনের নীতি নির্ধারকরা। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে যে, আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই দেশের মানুষ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি জানতে পারবেন।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬


রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের পর সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু, নতুন নির্বাচনের পথে দেশ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬

featured Image
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর তার পদত্যাগের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত লিখিতপত্র দিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন।সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ, পদত্যাগ ও অভিশংসন বিষয়ে বিধান রয়েছে। এর ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'স্পীকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে রাষ্ট্রপতি স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।' এই বিধান অনুসারেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে।রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর দায়িত্ব পালনের বিষয়েও সংবিধানে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলে বা অন্য কোনো কারণে নিজের দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার।রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, তিনি সম্পূর্ণ সংবিধান রক্ষা করে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তিনি কোনো অপরাধী নন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি সবসময় মাথা উঁচু করে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী কঠিন সময়ে কার্যকরভাবে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট বা সংকট মোকাবেলা করেছেন বলে মন্তব্য করেন।শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে দেওয়ার পর একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। নিজের পদত্যাগের মূল কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি জানান, অসুস্থতাই তার পদত্যাগের প্রধান ও মূল কারণ। সাম্প্রতিক সময়ের নানা গুঞ্জন ও খবর খারিজ করে দিয়ে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে যেসব কথাবার্তা উঠে আসছে তার সবই অপতথ্য, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, তৈরি করা এবং কল্পনাপ্রসূত। মনগড়া তথ্য লিখে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, কোনো ফোন বা বাহ্যিক চাপের যে কথা বলা হচ্ছে তা একেবারেই অবান্তর।বঙ্গভবন ত্যাগ করার বিষয়ে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, পদত্যাগের পর নিয়মানুযায়ী বঙ্গভবনে আরও এক মাস থাকার আইনি বিধান থাকলেও তিনি সেখানে বেশি দিন অবস্থান করবেন না। তিনি জানান, যত দ্রুত সম্ভব তিনি নিজ বাসায় ফিরে যাবেন এবং গুলশানের বাসভবনেই উঠবেন।দেশ পরিচালনায় নিজের ভূমিকা ও অবদানের কথা স্মরণ করে সদ্য পদত্যাগ করা এই রাষ্ট্রপতি বলেন, সংকটময় পরিস্থিতিতে সংবিধানকে অক্ষুণ্ণ রাখা এবং একটি নতুন সরকার গঠন করে দেওয়াটা তার বড় সাফল্য। সংবিধান অনুযায়ী কেবল রাষ্ট্রপতিরই সরকার গঠনের এখতিয়ার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি নিজ ক্ষমতাবলে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে দিয়েছিলেন। সেই অন্তর্বর্তী সরকার দেশ চালিয়েছে, পরবর্তীতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। দেশের এই রূপান্তর ও স্থিতিশীলতার পেছনে নিজের কৃতিত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি আত্মতৃপ্তি প্রকাশ করেন।পদত্যাগের পর একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথোপকথনের সময় এনসিপির পক্ষ থেকে তার বিচারের দাবি তোলার প্রসঙ্গে সাহাবুদ্দিন বলেন, 'ধুর! এগুলো বাদ দেন। এগুলো পাত্তা দেই না।' অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা তার কাছেই শপথ নিয়েছিলেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'আর কীসের বিচার করবে? কীসের? কীসের বিচার করবে? সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ পড়ে দেখুক।'বিদায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সাংবিধানিক নিয়ম মেনে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংবিধানের সুনির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির আসন শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। এই আইনি কাঠামোর আলোকেই খুব শিগগিরই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়সূচি বা তফসিল সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করার পরিকল্পনা করছে কমিশন।নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বিষয়টি স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের আলোকে রাষ্ট্রপতির পদ খালি হওয়ার নির্ধারিত নব্বই দিনের সময়সীমার ভেতরেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, বিদায়ী রাষ্ট্রপতি গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর থেকেই পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।ইসির দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন-১৯৯১ এর নীতিমালা অনুসরণে পুরো নির্বাচন কাজ পরিচালিত হবে। প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে স্বয়ং প্রধান নির্বাচন কমিশনার রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমানে বহাল সাংবিধানিক বিধান অনুসারে, জাতীয় সংসদের মোট ৩৫০ জন সংসদ সদস্য এই নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। ফলে ইসি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ে এসব সংসদ সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুতের কাজে হাত দিচ্ছে।ইসি কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এই সংক্রান্ত বিষয়ে আরও অবহিত করে জানান, ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণের কাজটি শেষ হওয়ামাত্রই নির্বাচনের প্রাক-তফসিল ঘোষণা করা হবে। সম্পূর্ণ আয়োজনটি অনেকটা সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচনের কাঠামোর মতো করেই পরিচালনা করা হবে। যদি নির্বাচনে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকেন, তবে নির্ধারিত দিনে সরাসরি জাতীয় সংসদ ভবনে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। আর যদি একজন মাত্র বৈধ প্রার্থী থাকেন, তবে তাকে কোনো ভোট গ্রহণ ছাড়াই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত বলে ঘোষণা করা হবে।সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় কমিশনের সব ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম স্থগিত ছিল। তাই আগামী রবিবার অথবা সপ্তাহের পরবর্তী কার্যদিবসগুলোতে তফসিল সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বিশেষ বৈঠকে বসবেন কমিশনের নীতি নির্ধারকরা। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে যে, আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই দেশের মানুষ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি জানতে পারবেন।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা