যুক্তরাষ্ট্র হামলা স্থগিত রাখলে ইরানও পাল্টা সামরিক আঘাত বন্ধ রাখবে বলে জানিয়েছেন তেহরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক বাহিনীর কাছে লক্ষ্যবস্তু কমে যাওয়া ও গোলাবারুদের ঘাটতির প্রেক্ষাপটে সাময়িকভাবে বিমান হামলা স্থগিত রাখার পর এই বার্তা এল।
টানা ১৩ রাতের তীব্র বিমান হামলার পর পেন্টাগন শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে অভিযান স্থগিত করে, যার ফলে টানা দুই দিন দুই পক্ষ থেকেই কোনো নতুন হামলা চালানো হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান যে 'আঘাতের বদলে আঘাত' নীতিতেই তেহরান অটল রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলে ইরানও তাদের অভিযান স্থগিত রাখবে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ফক্স নিউজ ও অন্যান্য গণমাধ্যমকে জানান যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ দিতে সামরিক হামলা সাময়িকভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে পেন্টাগন ও যৌথ বাহিনীর প্রধান জেনারেল ড্যান কেইন গোলাবারুদের সম্ভাব্য ঘাটতি ও ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে মার্কিন সামরিক সূত্রে জানা গেছে।
পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সীমিত সামরিক সরঞ্জামের মুখোমুখি বলে জানান মাইক ওয়াল্টজ। সিএনএন ও অ্যাক্সিওস জানিয়েছে যে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারও এই বিমান হামলার কার্যকারিতা শেষ হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হামলা স্থগিতের পরামর্শ দিয়েছিলেন।
তবে এই যুদ্ধ বিরতি নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে চরম সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। তেহরানের জ্যেষ্ঠ সূত্রটি জানায় যে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে তারা কৌশলী বিরতি হিসেবে দেখছেন এবং আমেরিকার প্রতিশ্রুতি পালনে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে এটিকে স্থায়ী সমাধান বলে মনে করছেন না। ইরানি কর্মকর্তা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও হামলা শুরু করে, তাহলে তেহরান আরও শক্তিশালী প্রতিশোধ নেবে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয় পক্ষকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন