ঢাকা    সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহে শ্যালকের বন্ধুকে হত্যা, দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন; গ্রেপ্তার ৪

দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহে শ্যালকের বন্ধুকে হত্যা, দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন; গ্রেপ্তার ৪

ময়মনসিংহে এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ। নিখোঁজের ছয় দিন পর অর্ধগলিত ও মাথাবিচ্ছিন্ন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সোহেল সরকার (২৫) হত্যা মামলায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সদর উপজেলার মীরকান্দাপাড়া গ্রামের মো. সেলিম মিয়া (৩০), আবদুল কাদির ওরফে আল আমিন (২৫), মো. সেলিম ওরফে নাপিত সেলিম (৩২) এবং লাল চাঁন ওরফে লালু (২৬)। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার চারজনই এই হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা ও সন্দেহের বিষবৃক্ষ। প্রধান অভিযুক্ত সেলিম মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে নিহত সোহেলের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল বলে সন্দেহ করতেন তিনি। এই সন্দেহ থেকেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে সোহেলকে হত্যা করা হয়। সম্পর্কের সূত্র ধরে নিহত সোহেল ছিলেন মূল অভিযুক্ত সেলিমের বোনের ভাশুর, অর্থাৎ সেলিমের বোনের স্বামীর ভাই। সম্পর্কের এই ঘনিষ্ঠতা সত্ত্বেও সন্দেহের বশবর্তী হয়ে এমন বর্বরতাই শেষ পর্যন্ত ঘটানো হলো। পুলিশ জানায়, সেলিমের অভিযোগ ছিল যে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে সোহেল গত তিন মাস ধরে ঢাকায় গোপনে বসবাস করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে সেলিম কৌশলে সোহেলকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে ডেকে আনেন। পরে অন্য আসামিদের সহযোগিতায় পরিকল্পনা অনুযায়ী সোহেলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার পর তার দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ জুলাই। সেদিন রাত সাড়ে আটটার দিকে নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে সোহেল নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। দীর্ঘ ছয় দিন পর ২২ জুলাই বিকেলে অম্বিকাগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের মাঠ সংলগ্ন একটি বাগানে স্থানীয়রা একটি অর্ধগলিত ও বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনুসন্ধান চালায় এবং ওই এলাকারই অন্য একটি স্থান থেকে মাটিচাপা দেওয়া একটি মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা পরনের জামাকাপড় দেখে মরদেহটি নিখোঁজ সোহেলের বলে শনাক্ত করেন। এই ঘটনায় সোহেলের বাবা নূরুল ইসলাম বাদী হয়ে গত শনিবার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা ও আলামত গুমের মামলা দায়ের করেন।

মামলা রুজুর পরপরই পুলিশের একাধিক দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় অভিযানে নামে। ভালুকা, ময়মনসিংহ সদর এবং মীরকান্দাপাড়া এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে শনিবার রাতেই চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও লাশ গুমের বিস্তারিত বর্ণনা দেয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো দা, কোদাল, রক্তমাখা পোশাক এবং নিহতের স্যান্ডেল উদ্ধার করে পুলিশ। আলামতগুলো মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। এই ঘটনা সোহেলের পরিবারে নেমে আসা এক অন্ধকারাচ্ছন্ন শোকের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি পারিবারিক সম্পর্কের গভীরে লুকিয়ে থাকা চরম অবিশ্বাস ও সহিংসতার এক ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ। পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের আদালতে প্রেরণ করেছে এবং মামলার পরবর্তী তদন্ত অব্যাহত আছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬


দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহে শ্যালকের বন্ধুকে হত্যা, দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন; গ্রেপ্তার ৪

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬

featured Image
ময়মনসিংহে এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ। নিখোঁজের ছয় দিন পর অর্ধগলিত ও মাথাবিচ্ছিন্ন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সোহেল সরকার (২৫) হত্যা মামলায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সদর উপজেলার মীরকান্দাপাড়া গ্রামের মো. সেলিম মিয়া (৩০), আবদুল কাদির ওরফে আল আমিন (২৫), মো. সেলিম ওরফে নাপিত সেলিম (৩২) এবং লাল চাঁন ওরফে লালু (২৬)। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার চারজনই এই হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা ও সন্দেহের বিষবৃক্ষ। প্রধান অভিযুক্ত সেলিম মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে নিহত সোহেলের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল বলে সন্দেহ করতেন তিনি। এই সন্দেহ থেকেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে সোহেলকে হত্যা করা হয়। সম্পর্কের সূত্র ধরে নিহত সোহেল ছিলেন মূল অভিযুক্ত সেলিমের বোনের ভাশুর, অর্থাৎ সেলিমের বোনের স্বামীর ভাই। সম্পর্কের এই ঘনিষ্ঠতা সত্ত্বেও সন্দেহের বশবর্তী হয়ে এমন বর্বরতাই শেষ পর্যন্ত ঘটানো হলো। পুলিশ জানায়, সেলিমের অভিযোগ ছিল যে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে সোহেল গত তিন মাস ধরে ঢাকায় গোপনে বসবাস করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে সেলিম কৌশলে সোহেলকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে ডেকে আনেন। পরে অন্য আসামিদের সহযোগিতায় পরিকল্পনা অনুযায়ী সোহেলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার পর তার দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে মাটিচাপা দেওয়া হয়।ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ জুলাই। সেদিন রাত সাড়ে আটটার দিকে নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে সোহেল নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। দীর্ঘ ছয় দিন পর ২২ জুলাই বিকেলে অম্বিকাগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের মাঠ সংলগ্ন একটি বাগানে স্থানীয়রা একটি অর্ধগলিত ও বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনুসন্ধান চালায় এবং ওই এলাকারই অন্য একটি স্থান থেকে মাটিচাপা দেওয়া একটি মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা পরনের জামাকাপড় দেখে মরদেহটি নিখোঁজ সোহেলের বলে শনাক্ত করেন। এই ঘটনায় সোহেলের বাবা নূরুল ইসলাম বাদী হয়ে গত শনিবার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা ও আলামত গুমের মামলা দায়ের করেন।মামলা রুজুর পরপরই পুলিশের একাধিক দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় অভিযানে নামে। ভালুকা, ময়মনসিংহ সদর এবং মীরকান্দাপাড়া এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে শনিবার রাতেই চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও লাশ গুমের বিস্তারিত বর্ণনা দেয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো দা, কোদাল, রক্তমাখা পোশাক এবং নিহতের স্যান্ডেল উদ্ধার করে পুলিশ। আলামতগুলো মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। এই ঘটনা সোহেলের পরিবারে নেমে আসা এক অন্ধকারাচ্ছন্ন শোকের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি পারিবারিক সম্পর্কের গভীরে লুকিয়ে থাকা চরম অবিশ্বাস ও সহিংসতার এক ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ। পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের আদালতে প্রেরণ করেছে এবং মামলার পরবর্তী তদন্ত অব্যাহত আছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা