ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
গণবার্তা

সংবিধানে জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের অবদান যুক্ত হচ্ছে

সংবিধানে বাদ যাচ্ছে মুজিবের ‘জাতির পিতা’ স্বীকৃতি

সংবিধানে বাদ যাচ্ছে মুজিবের ‘জাতির পিতা’ স্বীকৃতি

সংবিধানে প্রথমবার যুক্ত হতে যাচ্ছে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের বিষয়টি। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর জিয়ার দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা ঠাঁই পাবে সংবিধানে। বিপরীতে বাদ যাচ্ছে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ হিসাবে স্বীকৃতি, তার ৭ মার্চের ভাষণ ও ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা। থাকছে না তার প্রতিকৃতি টানানোর বাধ্যবাধকতাও।

একই সঙ্গে সংবিধানে ফিরছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান। আর সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও জুলাই যোদ্ধাদের অবদান। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। আজ সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক ঘিরেই সামনে এসেছে এই প্রস্তাবনাগুলো।

যা যুক্ত হচ্ছে ও বাদ যাচ্ছে

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ হিসেবে স্বীকৃতি, তার ৭ মার্চের ভাষণ ও ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা বাদ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তার প্রতিকৃতি টানানোর বাধ্যবাধকতাও থাকছে না। পরিবর্তে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমানের দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা সংবিধানে স্থান পাবে।

সংবিধানের দ্বিতীয়ভাগের ৮-এর ১ অনুচ্ছেদে থাকা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি-জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা-এও পরিবর্তন আসবে। একই ভাগের ৯ অনুচ্ছেদে থাকা ‘বাঙালি জাতির ঐক্য ও সংহতি হইবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি’-এখানে ‘বাঙালি’র জায়গায় যুক্ত করা হতে পারে ‘বাংলাদেশি’ শব্দ।

আদালতের রায় মেনে যা বাদ যাচ্ছে

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রায় মেনে সংবিধান থেকে বাদ যাবে প্রথম ভাগের ৪-এর (ক), ৭-এর ১ (ক), (খ), ৭-এর ২, ৭-এর ৩, ৭-এর (খ) ও ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ। এছাড়াও বাদ দেওয়া হবে সংবিধানের শেষে যুক্ত করা দুটি তফসিল। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পঞ্চম তফসিলে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, ষষ্ঠ তফসিলে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা যুক্ত করা হয়েছিল, যা বাদ দেওয়া হতে পারে।

নতুন যা যুক্ত হচ্ছে

জানা যায়, নৈতিক অপরাধে অভিযুক্ত সংসদ-সদস্যদের (এমপি) সদস্যপদ বাতিলে নতুন বিধানসহ যুক্ত হবে আরও কিছু বিধান। বিশেষ করে জুলাই সনদকে সামনে রেখে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী নয়, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো, একাধিক ডেপুটি স্পিকারের পদ সৃষ্টি, নারী সদস্যদের আসন বাড়ানোসহ আরও অনেক প্রস্তাবনা সংবিধানে যুক্ত করার বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে।

কমিটির বৈঠক

আজ বেলা ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেছেন কমিটির সভাপতি, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার দুই দিন আগে ১৩ জুলাই সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে সংবিধান সংশোধনের জন্য ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ১৭ সদস্যের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিরোধী দল নাম না দেওয়ায় ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি পদ শূন্য রাখা হলেও এখন পর্যন্ত কমিটিতে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কোনো নাম দেয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬


সংবিধানে বাদ যাচ্ছে মুজিবের ‘জাতির পিতা’ স্বীকৃতি

প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image
সংবিধানে প্রথমবার যুক্ত হতে যাচ্ছে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের বিষয়টি। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর জিয়ার দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা ঠাঁই পাবে সংবিধানে। বিপরীতে বাদ যাচ্ছে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ হিসাবে স্বীকৃতি, তার ৭ মার্চের ভাষণ ও ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা। থাকছে না তার প্রতিকৃতি টানানোর বাধ্যবাধকতাও।একই সঙ্গে সংবিধানে ফিরছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান। আর সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও জুলাই যোদ্ধাদের অবদান। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। আজ সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক ঘিরেই সামনে এসেছে এই প্রস্তাবনাগুলো।যা যুক্ত হচ্ছে ও বাদ যাচ্ছেসংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ হিসেবে স্বীকৃতি, তার ৭ মার্চের ভাষণ ও ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা বাদ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তার প্রতিকৃতি টানানোর বাধ্যবাধকতাও থাকছে না। পরিবর্তে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমানের দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা সংবিধানে স্থান পাবে।সংবিধানের দ্বিতীয়ভাগের ৮-এর ১ অনুচ্ছেদে থাকা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি-জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা-এও পরিবর্তন আসবে। একই ভাগের ৯ অনুচ্ছেদে থাকা ‘বাঙালি জাতির ঐক্য ও সংহতি হইবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি’-এখানে ‘বাঙালি’র জায়গায় যুক্ত করা হতে পারে ‘বাংলাদেশি’ শব্দ।আদালতের রায় মেনে যা বাদ যাচ্ছেসংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রায় মেনে সংবিধান থেকে বাদ যাবে প্রথম ভাগের ৪-এর (ক), ৭-এর ১ (ক), (খ), ৭-এর ২, ৭-এর ৩, ৭-এর (খ) ও ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ। এছাড়াও বাদ দেওয়া হবে সংবিধানের শেষে যুক্ত করা দুটি তফসিল। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পঞ্চম তফসিলে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, ষষ্ঠ তফসিলে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা যুক্ত করা হয়েছিল, যা বাদ দেওয়া হতে পারে।নতুন যা যুক্ত হচ্ছেজানা যায়, নৈতিক অপরাধে অভিযুক্ত সংসদ-সদস্যদের (এমপি) সদস্যপদ বাতিলে নতুন বিধানসহ যুক্ত হবে আরও কিছু বিধান। বিশেষ করে জুলাই সনদকে সামনে রেখে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী নয়, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো, একাধিক ডেপুটি স্পিকারের পদ সৃষ্টি, নারী সদস্যদের আসন বাড়ানোসহ আরও অনেক প্রস্তাবনা সংবিধানে যুক্ত করার বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে।কমিটির বৈঠকআজ বেলা ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেছেন কমিটির সভাপতি, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার দুই দিন আগে ১৩ জুলাই সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে সংবিধান সংশোধনের জন্য ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ১৭ সদস্যের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিরোধী দল নাম না দেওয়ায় ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি পদ শূন্য রাখা হলেও এখন পর্যন্ত কমিটিতে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কোনো নাম দেয়নি।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা