ঢাকা    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

২০২৭ অর্থবছরে ৫৬ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব

জাপানের ইতিহাসের সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা বাজেট

জাপানের ইতিহাসের সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা বাজেট

আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য রেকর্ড ৫৬ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটের পরিকল্পনা করছে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। চলতি আগস্টের শেষ দিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবটি জমা দেওয়া হবে।

জাপানের এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ৮.৯ ট্রিলিয়ন ইয়েনের এই বাজেটে অনেক খাতে নির্দিষ্ট ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। বছরের শেষ দিকে চূড়ান্ত বাজেট প্রণয়নের সময় তা আরও বাড়তে পারে এবং শেষ পর্যন্ত প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৬৩ বিলিয়ন ডলার) হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

'নতুন ধারার যুদ্ধ'-এর জন্য প্রস্তুতি

প্রস্তাবিত বাজেটে ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তির 'নতুন ধারার যুদ্ধ'-এর জন্য আত্মরক্ষা বাহিনীকে প্রস্তুত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • ইন্টারসেপ্টর ড্রোন: ভূপৃষ্ঠ থেকে আকাশে নিক্ষেপ করা মিসাইলের তুলনায় সস্তা এই ড্রোন দিয়ে শত্রুর আত্মঘাতী ড্রোন মোকাবিলার পরিকল্পনা রয়েছে।
  • এআইচালিত কমান্ড সিস্টেম: বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে এই প্রযুক্তি।
  • দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র: 'প্রত্যাঘাত সক্ষমতা' হিসেবে চিহ্নিত '২৫-ধরনের ভূমি থেকে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র'-এর আকাশ ও জাহাজ থেকে নিক্ষেপযোগ্য সংস্করণ তৈরি ও মোতায়েন করা হবে।
  • লেজার ও মাইক্রোওয়েভ অস্ত্র: উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

পাঁচ বছরের সামরিক পুনর্গঠন কর্মসূচির অংশ

এই বরাদ্দ জাপানের ২০২৩ থেকে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য গৃহীত ৪৩ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ২৭০ বিলিয়ন ডলারের পাঁচ বছর মেয়াদী সামরিক পুনর্গঠন কর্মসূচির অংশ। ২০২২ সালে চীন, উত্তর কোরিয়া এবং রাশিয়াকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণের পর থেকেই টোকিও ধারাবাহিকভাবে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে চলেছে।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, জাপানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির এই পদক্ষেপ পূর্ব এশিয়ায় নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে। চীন জাপানের এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছে এবং জাপানের দ্রুতগতির সামরিকীকরণকে আঞ্চলিক 'বারুদের গুদামে' পরিণত করছে বলে অভিহিত করেছে। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সিনিয়র কর্নেল চেন শি বলেছেন, যারা নিজেদের হুমকির মুখে দাবি করে তারাই প্রকৃত হুমকির উৎস। তবে জাপান নিজেদের এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং সাংবিধানিক সীমার মধ্যে বলে দাবি করে আসছে।

বিষয় : জাপান

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


জাপানের ইতিহাসের সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা বাজেট

প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image
আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য রেকর্ড ৫৬ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটের পরিকল্পনা করছে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। চলতি আগস্টের শেষ দিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবটি জমা দেওয়া হবে।জাপানের এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ৮.৯ ট্রিলিয়ন ইয়েনের এই বাজেটে অনেক খাতে নির্দিষ্ট ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। বছরের শেষ দিকে চূড়ান্ত বাজেট প্রণয়নের সময় তা আরও বাড়তে পারে এবং শেষ পর্যন্ত প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৬৩ বিলিয়ন ডলার) হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।'নতুন ধারার যুদ্ধ'-এর জন্য প্রস্তুতিপ্রস্তাবিত বাজেটে ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তির 'নতুন ধারার যুদ্ধ'-এর জন্য আত্মরক্ষা বাহিনীকে প্রস্তুত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে:ইন্টারসেপ্টর ড্রোন: ভূপৃষ্ঠ থেকে আকাশে নিক্ষেপ করা মিসাইলের তুলনায় সস্তা এই ড্রোন দিয়ে শত্রুর আত্মঘাতী ড্রোন মোকাবিলার পরিকল্পনা রয়েছে।এআইচালিত কমান্ড সিস্টেম: বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে এই প্রযুক্তি।দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র: 'প্রত্যাঘাত সক্ষমতা' হিসেবে চিহ্নিত '২৫-ধরনের ভূমি থেকে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র'-এর আকাশ ও জাহাজ থেকে নিক্ষেপযোগ্য সংস্করণ তৈরি ও মোতায়েন করা হবে।লেজার ও মাইক্রোওয়েভ অস্ত্র: উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।পাঁচ বছরের সামরিক পুনর্গঠন কর্মসূচির অংশএই বরাদ্দ জাপানের ২০২৩ থেকে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য গৃহীত ৪৩ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ২৭০ বিলিয়ন ডলারের পাঁচ বছর মেয়াদী সামরিক পুনর্গঠন কর্মসূচির অংশ। ২০২২ সালে চীন, উত্তর কোরিয়া এবং রাশিয়াকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণের পর থেকেই টোকিও ধারাবাহিকভাবে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে চলেছে।আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াবিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, জাপানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির এই পদক্ষেপ পূর্ব এশিয়ায় নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে। চীন জাপানের এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছে এবং জাপানের দ্রুতগতির সামরিকীকরণকে আঞ্চলিক 'বারুদের গুদামে' পরিণত করছে বলে অভিহিত করেছে। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সিনিয়র কর্নেল চেন শি বলেছেন, যারা নিজেদের হুমকির মুখে দাবি করে তারাই প্রকৃত হুমকির উৎস। তবে জাপান নিজেদের এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং সাংবিধানিক সীমার মধ্যে বলে দাবি করে আসছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা