ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

পিরোজপুরে বৃদ্ধ হত্যার রহস্য উন্মোচনে ‘ঘুণ পোকার গুঁড়ো’ গুরুত্বপূর্ণ আলামত, গ্রেপ্তার স্ত্রী-সন্তান

পিরোজপুরে বৃদ্ধ হত্যার রহস্য উন্মোচনে ‘ঘুণ পোকার গুঁড়ো’ গুরুত্বপূর্ণ আলামত, গ্রেপ্তার স্ত্রী-সন্তান

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় মো. ইসমাইল শরীফ (৬০) হত্যার পর লাশ উদ্ধারের মাত্র ১৬ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। লাশের গায়ে লেগে থাকা 'ঘুণ পোকার গুঁড়ো' থেকেই এই রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।

পুলিশ জানায়, লাশের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত, বিশেষ করে ডান কানের আঘাতের রক্তের সঙ্গে ঘুণ পোকার গুঁড়ো লেগে থাকার সূত্র ধরে তারা ঘটনার সময়সহ বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে তদন্ত শুরু করে। সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের পোশাকে নিহতের রক্তের দাগ থেকেই হত্যার মূল আসামিদের শনাক্ত করা হয়।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, নিজের বসতঘরেই কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে ইসমাইলকে। পরে হত্যার ঘটনা আড়াল করতে লাশ নিয়ে ফেলে রাখা হয় স্থানীয় কচা নদীর বেড়িবাঁধ এলাকায়।

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার। ওইদিন ইসমাইল শরীফকে হত্যা করা হয়। রবিবার তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে ঘটনাটি একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড হিসেবে সামনে আসে। কিন্তু লাশের গায়ে থাকা ঘুণ পোকার গুঁড়ো পুলিশের নজর কাড়ে। পুলিশ বুঝতে পারে, লাশটি সেই স্থানে হত্যা করা হয়নি, বরং অন্য কোনো স্থান থেকে এনে ফেলে রাখা হয়েছে। কারণ লাশের সাথে ঘুণ পোকার গুঁড়ো লেগে ছিল, যা কোনো ঘরের ভেতরের পুরোনো আসবাবপত্র বা কাঠের সাথে লেগে থাকতে পারে।

এই ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই জয়নাল শরীফ বাদী হয়ে নিহতের স্ত্রী শেফালী বেগম এবং তিন ছেলে রুবেল শরীফ, রুমান শরীফ ও রাসেল শরীফকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ভেঙে পড়েন নিহতের ছোট ছেলে রাসেল শরীফ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বারান্দার খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা কুঠার। এছাড়া সংগ্রহ করা হয়েছে রক্তমাখা মাটি এবং লাশের গায়ে লেগে থাকা সেই ঘুণ পোকার গুঁড়ো। নিহতের স্ত্রী শেফালী বেগমের শরীরেও রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা কুঠারসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে।

রবিবার রাতে ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, “মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি প্রথমে ক্লুলেস মনে হলেও বিভিন্ন আলামত মিলতে থাকায় পুলিশের কাছে পরিষ্কার হতে থাকে, হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে ইসমাইল শরীফের নিজের ঘরেই।”

ঘুণ পোকার গুঁড়োর মতো সামান্য আলামত থেকেও কীভাবে হত্যার রহস্য উদঘাটন করা যায়, তার একটি উদাহরণ তৈরি করেছে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


পিরোজপুরে বৃদ্ধ হত্যার রহস্য উন্মোচনে ‘ঘুণ পোকার গুঁড়ো’ গুরুত্বপূর্ণ আলামত, গ্রেপ্তার স্ত্রী-সন্তান

প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬

featured Image
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় মো. ইসমাইল শরীফ (৬০) হত্যার পর লাশ উদ্ধারের মাত্র ১৬ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। লাশের গায়ে লেগে থাকা 'ঘুণ পোকার গুঁড়ো' থেকেই এই রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।পুলিশ জানায়, লাশের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত, বিশেষ করে ডান কানের আঘাতের রক্তের সঙ্গে ঘুণ পোকার গুঁড়ো লেগে থাকার সূত্র ধরে তারা ঘটনার সময়সহ বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে তদন্ত শুরু করে। সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের পোশাকে নিহতের রক্তের দাগ থেকেই হত্যার মূল আসামিদের শনাক্ত করা হয়।তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, নিজের বসতঘরেই কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে ইসমাইলকে। পরে হত্যার ঘটনা আড়াল করতে লাশ নিয়ে ফেলে রাখা হয় স্থানীয় কচা নদীর বেড়িবাঁধ এলাকায়।ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার। ওইদিন ইসমাইল শরীফকে হত্যা করা হয়। রবিবার তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে ঘটনাটি একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড হিসেবে সামনে আসে। কিন্তু লাশের গায়ে থাকা ঘুণ পোকার গুঁড়ো পুলিশের নজর কাড়ে। পুলিশ বুঝতে পারে, লাশটি সেই স্থানে হত্যা করা হয়নি, বরং অন্য কোনো স্থান থেকে এনে ফেলে রাখা হয়েছে। কারণ লাশের সাথে ঘুণ পোকার গুঁড়ো লেগে ছিল, যা কোনো ঘরের ভেতরের পুরোনো আসবাবপত্র বা কাঠের সাথে লেগে থাকতে পারে।এই ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই জয়নাল শরীফ বাদী হয়ে নিহতের স্ত্রী শেফালী বেগম এবং তিন ছেলে রুবেল শরীফ, রুমান শরীফ ও রাসেল শরীফকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ভেঙে পড়েন নিহতের ছোট ছেলে রাসেল শরীফ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বারান্দার খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা কুঠার। এছাড়া সংগ্রহ করা হয়েছে রক্তমাখা মাটি এবং লাশের গায়ে লেগে থাকা সেই ঘুণ পোকার গুঁড়ো। নিহতের স্ত্রী শেফালী বেগমের শরীরেও রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে।তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা কুঠারসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে।রবিবার রাতে ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, “মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি প্রথমে ক্লুলেস মনে হলেও বিভিন্ন আলামত মিলতে থাকায় পুলিশের কাছে পরিষ্কার হতে থাকে, হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে ইসমাইল শরীফের নিজের ঘরেই।”ঘুণ পোকার গুঁড়োর মতো সামান্য আলামত থেকেও কীভাবে হত্যার রহস্য উদঘাটন করা যায়, তার একটি উদাহরণ তৈরি করেছে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা