ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

চট্টগ্রামের জাহাজভাঙা কারখানায় গ্যাস বিষক্রিয়ায় নিহত বেড়ে ৯

চট্টগ্রামের জাহাজভাঙা কারখানায় গ্যাস বিষক্রিয়ায় নিহত বেড়ে ৯

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারির একটি জাহাজভাঙা কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজের গ্যাস সিলিন্ডারের বিষক্রিয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারি ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল নামের কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ইশতিয়াক রহমান জানান, ওই কারখানা থেকে দুই দফায় সাতজনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে ছয়জনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। তাদের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। অপরজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ঘটনাস্থলে দুজনের মরদেহ রয়েছে বলে জানান সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর। পরে বিকেলে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরেক শ্রমিক।

কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মাহবুবুল হাসান জানান, ১০ জন শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি গ্যাস নিঃসরণ নাকি বিস্ফোরণ, তা তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মৃত শ্রমিকদের মধ্যে চারজনের নাম–পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই সহোদর মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। তারা সবাই ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা। বাকি পাঁচজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হয়নি।

স্থানীয় জেলেরা জানান, শুক্রবার সকালে কারখানাটির ভেতর থেকে তীব্র গন্ধযুক্ত গ্যাস বের হতে দেখা যায়। গ্যাসের গন্ধের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে সাগরে ইলিশ ধরতে যাওয়া জেলেরা কারখানার পাশের খালে প্রবেশ করতে পারেননি। তাদের অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে ঘাটে নৌকা ভেড়াতে হয়েছে।

হঠাৎ কারখানার ভেতর থেকে মানুষের চিৎকার শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা কারখানা এলাকায় গিয়ে দেখেন, অসুস্থ কিছু লোককে গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর জাহাজের ভেতরে কয়েকজন মৃত পড়ে রয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে কারখানার ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কারখানার মালিক মো. মহিউদ্দিন মুঠোফোনে জানান, তিনি কারখানার বাইরে রয়েছেন। কারখানা থেকে তিনি জেনেছেন, জাহাজে থাকা ছয় থেকে আটজন কর্মী অসতর্কতায় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বিস্তারিত জানাবেন।

ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম জানান, ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড ও রিসাইক্লিং কারখানায় যে জাহাজ কাটা হচ্ছে, সেটি এলএনজি বহন করত। এ ধরনের জাহাজ আগে গ্যাসমুক্ত করে তারপর কাটতে হয়। কিছু ট্যাংকে ফ্লোরিন, কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড থাকতে পারে। তিনি বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ ট্যাংক গ্যাসমুক্ত না করে কাটার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেখানে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থাও খুবই দুর্বল ছিল। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু করে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


চট্টগ্রামের জাহাজভাঙা কারখানায় গ্যাস বিষক্রিয়ায় নিহত বেড়ে ৯

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারির একটি জাহাজভাঙা কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজের গ্যাস সিলিন্ডারের বিষক্রিয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারি ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল নামের কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ইশতিয়াক রহমান জানান, ওই কারখানা থেকে দুই দফায় সাতজনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে ছয়জনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। তাদের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। অপরজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ঘটনাস্থলে দুজনের মরদেহ রয়েছে বলে জানান সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর। পরে বিকেলে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরেক শ্রমিক।কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মাহবুবুল হাসান জানান, ১০ জন শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি গ্যাস নিঃসরণ নাকি বিস্ফোরণ, তা তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মৃত শ্রমিকদের মধ্যে চারজনের নাম–পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই সহোদর মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। তারা সবাই ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা। বাকি পাঁচজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হয়নি।স্থানীয় জেলেরা জানান, শুক্রবার সকালে কারখানাটির ভেতর থেকে তীব্র গন্ধযুক্ত গ্যাস বের হতে দেখা যায়। গ্যাসের গন্ধের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে সাগরে ইলিশ ধরতে যাওয়া জেলেরা কারখানার পাশের খালে প্রবেশ করতে পারেননি। তাদের অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে ঘাটে নৌকা ভেড়াতে হয়েছে।হঠাৎ কারখানার ভেতর থেকে মানুষের চিৎকার শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা কারখানা এলাকায় গিয়ে দেখেন, অসুস্থ কিছু লোককে গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর জাহাজের ভেতরে কয়েকজন মৃত পড়ে রয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে কারখানার ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।কারখানার মালিক মো. মহিউদ্দিন মুঠোফোনে জানান, তিনি কারখানার বাইরে রয়েছেন। কারখানা থেকে তিনি জেনেছেন, জাহাজে থাকা ছয় থেকে আটজন কর্মী অসতর্কতায় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বিস্তারিত জানাবেন।ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম জানান, ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড ও রিসাইক্লিং কারখানায় যে জাহাজ কাটা হচ্ছে, সেটি এলএনজি বহন করত। এ ধরনের জাহাজ আগে গ্যাসমুক্ত করে তারপর কাটতে হয়। কিছু ট্যাংকে ফ্লোরিন, কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড থাকতে পারে। তিনি বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ ট্যাংক গ্যাসমুক্ত না করে কাটার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেখানে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থাও খুবই দুর্বল ছিল। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু করে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা