ঢাকা    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তালাবদ্ধ ঘর থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তালাবদ্ধ ঘর থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে মা ও তার ১১ বছর বয়সী মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের ধুপুরিয়া গ্রাম থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন—কণিকা আক্তার (২৪) ও তার মেয়ে রাজিয়া (১১)।

পুলিশ জানায়, কণিকা ওই এলাকার রাজিব মিয়ার স্ত্রী। শুক্রবার দুপুরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। শিশুকন্যাকে হত্যার পর মা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে রাজীব ও কণিকার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে রাজীব হোসেন সিলেটে বেড়াতে যান। শুক্রবার সকালে কণিকা তার মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু পথে শ্বশুর নাজিমউদ্দিন ও শাশুড়ি তাকে বাবার বাড়িতে যেতে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়।

বাড়িতে ফিরে কণিকা মেয়েকে নিয়ে বসতঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। কিছুক্ষণ পর ঘরের ভেতর থেকে শিশু রাজিয়ার চিৎকার শুনতে পান স্থানীয়রা। পরে দরজা ভেঙে কণিকাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। একই ঘরের মেঝেতে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়রা শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে। মির্জাপুর থানার ওসি মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কেউ অভিযুক্ত না হলেও পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

এলাকাবাসী জানান, কণিকা দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক অশান্তিতে ভুগছিলেন। স্বামী রাজীবের সঙ্গে তার প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনও তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করত বলে অভিযোগ রয়েছে। শিশু রাজিয়াও পারিবারিক অশান্তির শিকার ছিল বলে স্থানীয়দের ধারণা।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রতিবেশীরা জানান, কণিকা অত্যন্ত শান্ত ও ধার্মিক মেয়ে ছিলেন। তার এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে তারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পুলিশ মামলার প্রক্রিয়া শেষে তদন্ত শুরু করবে বলে জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তালাবদ্ধ ঘর থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে মা ও তার ১১ বছর বয়সী মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের ধুপুরিয়া গ্রাম থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন—কণিকা আক্তার (২৪) ও তার মেয়ে রাজিয়া (১১)।পুলিশ জানায়, কণিকা ওই এলাকার রাজিব মিয়ার স্ত্রী। শুক্রবার দুপুরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। শিশুকন্যাকে হত্যার পর মা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে রাজীব ও কণিকার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে রাজীব হোসেন সিলেটে বেড়াতে যান। শুক্রবার সকালে কণিকা তার মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু পথে শ্বশুর নাজিমউদ্দিন ও শাশুড়ি তাকে বাবার বাড়িতে যেতে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়।বাড়িতে ফিরে কণিকা মেয়েকে নিয়ে বসতঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। কিছুক্ষণ পর ঘরের ভেতর থেকে শিশু রাজিয়ার চিৎকার শুনতে পান স্থানীয়রা। পরে দরজা ভেঙে কণিকাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। একই ঘরের মেঝেতে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়রা শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে। মির্জাপুর থানার ওসি মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কেউ অভিযুক্ত না হলেও পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।এলাকাবাসী জানান, কণিকা দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক অশান্তিতে ভুগছিলেন। স্বামী রাজীবের সঙ্গে তার প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনও তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করত বলে অভিযোগ রয়েছে। শিশু রাজিয়াও পারিবারিক অশান্তির শিকার ছিল বলে স্থানীয়দের ধারণা।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রতিবেশীরা জানান, কণিকা অত্যন্ত শান্ত ও ধার্মিক মেয়ে ছিলেন। তার এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে তারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পুলিশ মামলার প্রক্রিয়া শেষে তদন্ত শুরু করবে বলে জানিয়েছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা