ঢাকা    রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

অস্ত্র মামলায় ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক ‘কিলার মাসুদ’ গ্রেপ্তার

অস্ত্র মামলায় ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক ‘কিলার মাসুদ’ গ্রেপ্তার

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে অস্ত্র মামলায় ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. মাসুদুল করিম ওরফে ‘কিলার মাসুদ’ (৫০) গ্রেপ্তার হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া মো. মাসুদুল করিম ওরফে কিলার মাসুদ ফরিদগঞ্জ উপজেলার চর দুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের পূর্ব লাড়ুয়া গ্রামের মৃত আবদুল হালিম ভূঁইয়ার ছেলে। একটি অস্ত্র মামলায় আদালত তাকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর থেকে তিনি দীর্ঘদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন।

ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্ল্যাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ প্রথমে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং এলাকায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে। পরে রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে কৌশলগত অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি থানার হাজতে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের গ্যাংস্টার পিচ্চি হান্নানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তার অস্ত্রভান্ডারের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে মাসুদ পরিচিত ছিলেন। ২০০৪ সালের ২৬ জুন রাতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ক্রসফায়ারে পিচ্চি হান্নান নিহত হওয়ার পর মাসুদ আত্মগোপনে চলে যান।

সূত্র আরও জানায়, এর আগে পিচ্চি হান্নানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে মাসুদ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। মাসুদ বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং একটি মামলায় ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত। তথ্যপ্রযুক্তি ও পুলিশের নানা কৌশল ব্যবহার করে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার গভীর রাতে ডবলমুরিং এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ফরিদগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক জুমায়েত হোসেন ও মাসুদ আলম স্থানীয় থানা-পুলিশের সহযোগিতায় অংশ নেন।

ফরিদগঞ্জের রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ আসনের সাবেক এমপি প্রয়াত ড. শামছুল হক ভূঁইয়ার হাত ধরে মাসুদ ফরিদগঞ্জে যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। তৎকালীন সময়ে তিনি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে ফরিদগঞ্জে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে আতঙ্ক হিসেবে পরিচিতি পান মাসুদ। ২০০৪ সালে পিচ্চি হান্নান নিহত হওয়ার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আইনের আওতায় আসায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে। কিলার মাসুদ নামে পরিচিত এই আসামির বিরুদ্ধে একাধিক অস্ত্র ও সন্ত্রাসী মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


অস্ত্র মামলায় ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক ‘কিলার মাসুদ’ গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে অস্ত্র মামলায় ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. মাসুদুল করিম ওরফে ‘কিলার মাসুদ’ (৫০) গ্রেপ্তার হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার হওয়া মো. মাসুদুল করিম ওরফে কিলার মাসুদ ফরিদগঞ্জ উপজেলার চর দুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের পূর্ব লাড়ুয়া গ্রামের মৃত আবদুল হালিম ভূঁইয়ার ছেলে। একটি অস্ত্র মামলায় আদালত তাকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর থেকে তিনি দীর্ঘদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন।ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্ল্যাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ প্রথমে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং এলাকায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে। পরে রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে কৌশলগত অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি থানার হাজতে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের গ্যাংস্টার পিচ্চি হান্নানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তার অস্ত্রভান্ডারের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে মাসুদ পরিচিত ছিলেন। ২০০৪ সালের ২৬ জুন রাতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ক্রসফায়ারে পিচ্চি হান্নান নিহত হওয়ার পর মাসুদ আত্মগোপনে চলে যান।সূত্র আরও জানায়, এর আগে পিচ্চি হান্নানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে মাসুদ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। মাসুদ বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং একটি মামলায় ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত। তথ্যপ্রযুক্তি ও পুলিশের নানা কৌশল ব্যবহার করে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার গভীর রাতে ডবলমুরিং এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ফরিদগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক জুমায়েত হোসেন ও মাসুদ আলম স্থানীয় থানা-পুলিশের সহযোগিতায় অংশ নেন।ফরিদগঞ্জের রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ আসনের সাবেক এমপি প্রয়াত ড. শামছুল হক ভূঁইয়ার হাত ধরে মাসুদ ফরিদগঞ্জে যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। তৎকালীন সময়ে তিনি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে ফরিদগঞ্জে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে আতঙ্ক হিসেবে পরিচিতি পান মাসুদ। ২০০৪ সালে পিচ্চি হান্নান নিহত হওয়ার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আইনের আওতায় আসায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে। কিলার মাসুদ নামে পরিচিত এই আসামির বিরুদ্ধে একাধিক অস্ত্র ও সন্ত্রাসী মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা