ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় রংপুরে ৪ জনকে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় রংপুরে ৪ জনকে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

‘মাদক সেবনে বাধা’ দেয়ায় রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার স্ত্রী-সন্তানসহ চারজনকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ। তিনি বলেন, ‘ওই এলাকার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুই মাদকসেবী তাদের হত্যা করেন।’

রোববার নিজ দপ্তর মিলনায়তনে মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রতিবেশী দেবুর নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে এসে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ মাদকসেবন করছিল। এটি দেখে ফেলায় গণপতি চক্রবর্তী, স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীকে একে একে হত্যা করে তারা। হত্যাকাণ্ডের পর ওই বাড়িতেই ইয়াবা সেবন ও শষা-খেজুর খেয়ে গোসল করেন হত্যাকারীরা।

পুলিশ কমিশনার জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত শেষ রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পাশের বিল্ডিং দিয়ে ওই শিক্ষকের বিল্ডিংয়ের ছাদে এসে ইয়াবা সেবন করতে প্রবেশ করেন। পরে ছাদে বসেই তারা ইয়াবা সেবন করলে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী টের পেয়ে উপরে যান। এক পর্যায়ে তাদের সামনে ওই শিক্ষক গেলে খুনিরা তাদের পরিচয় সমাজে জেনে যাওয়ার ভয়ে শিক্ষকের গলার গামছা কেড়ে নিয়ে সেই গামছা পেঁচিয়েই তাকে হত্যা করে।

পুলিশ আরো জানায়, গণপতি চক্রবর্তী বাঁচার আকুতি করে চিৎকার করলে শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সিঁড়িতেই পুরনো গামছা পেঁচিয়ে তাকেও হত্যা করা হয়। একে একে মায়ের চিৎকার শুনে মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী এগিয়ে আসলে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে প্রথমে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় খুনিরা। পরে গামছা ও রশি পেঁচিয়ে পার্থীকে হত্যা করা হয়। আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পার্থীকে হত্যা করতে প্রায় চার থেকে পাঁচ মিনিট সময় ব্যয় হয়। এদের তিনজনের মৃত্যুর পর ঘুমন্ত অবস্থায় শিশু প্রিয়মকে হত্যা করে এই দুই যুবক। তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয় বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গতকাল রংপুরে নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের ৪ সদস্যের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা ছিল, গত ৩ থেকে ৪ দিন আগে বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করে ওই বাড়িতে ‘ডাকাতির ঘটনা’ ঘটেছে। গণপতির বাড়ির আসবাবপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অবস্থা পাওয়া গেছে। ডাকাতির পর পুরো পরিবারকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

বাড়িতে পড়ে ছিল চারটি লাশ: এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানায়, গণপতি চক্রবর্তী ৪ বছর আগে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় দোতলা বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তিনি বাড়িতে বসবাস করতেন। রংপুর জিলা স্কুল থেকে অবসরের পর তিনি রোগীদের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা দিতেন। তবে এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল খুবই কম। গত বৃহস্পতিবার থেকে তালাবদ্ধ বাড়িতে কোনো সাড়া শব্দ পায়নি এলাকাবাসী। সেই সঙ্গে বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল। ৩ দিন ধরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে শিক্ষক গণপতির শ্যালিকা শনিবার সন্ধ্যায় তার বাড়িতে আসেন। অনেক ডাকাডাকি করে কেউ সাড়া না দিলে বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানান তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গণপতির বাড়ি এসে প্রথম তলার দ্বিতীয় সিঁড়িতে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০) ও মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী (২৫), দ্বিতীয় তলায় খাটের নিচে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২) এবং চিলেকোঠা থেকে গণপতি চক্রবর্তীর (৬৫) লাশ উদ্ধার করে। এ সময় বাড়ির আসবাবপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকাসহ আলমারির ড্রয়ার ভাঙা অবস্থা ছিল।

অবসরের টাকা তুলেছিলেন গণপতি: প্রতিবেশী মোকছেদুল ইসলাম, অঞ্জনা রানীসহ অন্যরা জানান, গণপতি চক্রবর্তী এলাকার লোকজনের সঙ্গে তেমন মিশতেন না। তবে এলাকার কারও সাথে তার কোনো ঝগড়া-বিবাদ ছিল না। রংপুর জিলা স্কুল থেকে অবসরের পর বাসায় থাকতেন তিনি। শিক্ষক গণপতি অবসরের মোটা অংকের টাকা বৃহস্পতিবার তুলেছিলেন বলে তার এক সহকর্মী জানিয়েছেন।

তদন্তে পুলিশ, পিবিআই, সিআইডি: এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডি। সিআইডির ক্রাইম সিন টিম পুরো ভবনটি ক্রাইম সিনের ফিতা দিয়ে ঘিরে রেখেছে। সেইসঙ্গে ভবনের আনাচে-কানাচে চারদিকে আলামত সংগ্রহ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পিবিআই, সিআইডির সাথে সমন্বয় করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

লাশের গলায় রশি, গামছা ও গেঞ্জি পেঁচানো: হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে থাকা সিআইডি রংপুরের ইনচার্জ সুমিত চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোতয়ালী থানা পুলিশের ফোন পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। বাড়ির ভেতরে ৩ থেকে ৪ দিন আগে মারা যাওয়া ৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতিটি লাশ পঁচন ধরা অবস্থায় ছিল। সেইসঙ্গে বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও প্রাথমিক তদন্তে বোঝা যাচ্ছে এটি ডাকাতির ঘটনা। তবে অধিকর তদন্ত শেষে চূড়ান্ত কারণ বলা যাবে। এছাড়া বাড়ির যেসব আসবাবপত্রে টাকা-পয়সা রাখা হয় সেইসব আসবাবপত্র তারা ভেঙে ফেলেছে। প্রতিটি লাশের গলায় রশি, গামছা কিংবা গেঞ্জি পেঁচানো ছিল। আমরা হত্যাকাণ্ডের আলামত সংগ্রহ করছি। বিস্তারিত তদন্ত শেষে বলা যাবে।’

পুলিশ কমিশনার আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে। ইয়াবা সেবনের আলামত থেকেই পুলিশ অভিযান শুরু করলে ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এলাকাবাসী ও স্বজনরা ঘটনার বিচার চেয়ে আহ্বান জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় রংপুরে ৪ জনকে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image
‘মাদক সেবনে বাধা’ দেয়ায় রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার স্ত্রী-সন্তানসহ চারজনকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ। তিনি বলেন, ‘ওই এলাকার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুই মাদকসেবী তাদের হত্যা করেন।’রোববার নিজ দপ্তর মিলনায়তনে মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রতিবেশী দেবুর নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে এসে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ মাদকসেবন করছিল। এটি দেখে ফেলায় গণপতি চক্রবর্তী, স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীকে একে একে হত্যা করে তারা। হত্যাকাণ্ডের পর ওই বাড়িতেই ইয়াবা সেবন ও শষা-খেজুর খেয়ে গোসল করেন হত্যাকারীরা।পুলিশ কমিশনার জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত শেষ রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পাশের বিল্ডিং দিয়ে ওই শিক্ষকের বিল্ডিংয়ের ছাদে এসে ইয়াবা সেবন করতে প্রবেশ করেন। পরে ছাদে বসেই তারা ইয়াবা সেবন করলে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী টের পেয়ে উপরে যান। এক পর্যায়ে তাদের সামনে ওই শিক্ষক গেলে খুনিরা তাদের পরিচয় সমাজে জেনে যাওয়ার ভয়ে শিক্ষকের গলার গামছা কেড়ে নিয়ে সেই গামছা পেঁচিয়েই তাকে হত্যা করে।পুলিশ আরো জানায়, গণপতি চক্রবর্তী বাঁচার আকুতি করে চিৎকার করলে শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সিঁড়িতেই পুরনো গামছা পেঁচিয়ে তাকেও হত্যা করা হয়। একে একে মায়ের চিৎকার শুনে মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী এগিয়ে আসলে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে প্রথমে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় খুনিরা। পরে গামছা ও রশি পেঁচিয়ে পার্থীকে হত্যা করা হয়। আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পার্থীকে হত্যা করতে প্রায় চার থেকে পাঁচ মিনিট সময় ব্যয় হয়। এদের তিনজনের মৃত্যুর পর ঘুমন্ত অবস্থায় শিশু প্রিয়মকে হত্যা করে এই দুই যুবক। তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয় বলেও জানিয়েছে পুলিশ।এর আগে গতকাল রংপুরে নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের ৪ সদস্যের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা ছিল, গত ৩ থেকে ৪ দিন আগে বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করে ওই বাড়িতে ‘ডাকাতির ঘটনা’ ঘটেছে। গণপতির বাড়ির আসবাবপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অবস্থা পাওয়া গেছে। ডাকাতির পর পুরো পরিবারকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।বাড়িতে পড়ে ছিল চারটি লাশ: এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানায়, গণপতি চক্রবর্তী ৪ বছর আগে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় দোতলা বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তিনি বাড়িতে বসবাস করতেন। রংপুর জিলা স্কুল থেকে অবসরের পর তিনি রোগীদের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা দিতেন। তবে এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল খুবই কম। গত বৃহস্পতিবার থেকে তালাবদ্ধ বাড়িতে কোনো সাড়া শব্দ পায়নি এলাকাবাসী। সেই সঙ্গে বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল। ৩ দিন ধরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে শিক্ষক গণপতির শ্যালিকা শনিবার সন্ধ্যায় তার বাড়িতে আসেন। অনেক ডাকাডাকি করে কেউ সাড়া না দিলে বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানান তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গণপতির বাড়ি এসে প্রথম তলার দ্বিতীয় সিঁড়িতে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০) ও মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী (২৫), দ্বিতীয় তলায় খাটের নিচে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২) এবং চিলেকোঠা থেকে গণপতি চক্রবর্তীর (৬৫) লাশ উদ্ধার করে। এ সময় বাড়ির আসবাবপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকাসহ আলমারির ড্রয়ার ভাঙা অবস্থা ছিল।অবসরের টাকা তুলেছিলেন গণপতি: প্রতিবেশী মোকছেদুল ইসলাম, অঞ্জনা রানীসহ অন্যরা জানান, গণপতি চক্রবর্তী এলাকার লোকজনের সঙ্গে তেমন মিশতেন না। তবে এলাকার কারও সাথে তার কোনো ঝগড়া-বিবাদ ছিল না। রংপুর জিলা স্কুল থেকে অবসরের পর বাসায় থাকতেন তিনি। শিক্ষক গণপতি অবসরের মোটা অংকের টাকা বৃহস্পতিবার তুলেছিলেন বলে তার এক সহকর্মী জানিয়েছেন।তদন্তে পুলিশ, পিবিআই, সিআইডি: এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডি। সিআইডির ক্রাইম সিন টিম পুরো ভবনটি ক্রাইম সিনের ফিতা দিয়ে ঘিরে রেখেছে। সেইসঙ্গে ভবনের আনাচে-কানাচে চারদিকে আলামত সংগ্রহ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পিবিআই, সিআইডির সাথে সমন্বয় করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।লাশের গলায় রশি, গামছা ও গেঞ্জি পেঁচানো: হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে থাকা সিআইডি রংপুরের ইনচার্জ সুমিত চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোতয়ালী থানা পুলিশের ফোন পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। বাড়ির ভেতরে ৩ থেকে ৪ দিন আগে মারা যাওয়া ৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতিটি লাশ পঁচন ধরা অবস্থায় ছিল। সেইসঙ্গে বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও প্রাথমিক তদন্তে বোঝা যাচ্ছে এটি ডাকাতির ঘটনা। তবে অধিকর তদন্ত শেষে চূড়ান্ত কারণ বলা যাবে। এছাড়া বাড়ির যেসব আসবাবপত্রে টাকা-পয়সা রাখা হয় সেইসব আসবাবপত্র তারা ভেঙে ফেলেছে। প্রতিটি লাশের গলায় রশি, গামছা কিংবা গেঞ্জি পেঁচানো ছিল। আমরা হত্যাকাণ্ডের আলামত সংগ্রহ করছি। বিস্তারিত তদন্ত শেষে বলা যাবে।’পুলিশ কমিশনার আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে। ইয়াবা সেবনের আলামত থেকেই পুলিশ অভিযান শুরু করলে ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এলাকাবাসী ও স্বজনরা ঘটনার বিচার চেয়ে আহ্বান জানিয়েছেন।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা