ঢাকা    শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার খসড়া চুক্তি প্রস্তুত

জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার খসড়া চুক্তি প্রস্তুত

চীন-নির্মিত জে-১০সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার বিষয়ে একটি খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করেছে এ নিয়ে কাজ করা কমিটি। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা করছে, এমন বিষয় সাম্প্রতিক সময়ে সামনে এসেছে। চীনের তৈরি এই যুদ্ধবিমানের সাম্প্রতিক বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় চীনের তৈরি জে-১০ যুদ্ধবিমানের গুলিতে ভারতীয় রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল এবং এ তথ্য এখন প্রমাণিত হয়েছে। জাহেদ উর রহমানের ভাষ্য, বিশ্বের অন্যতম উন্নত ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচিত রাফালের বিরুদ্ধে জে-১০ যুদ্ধে ভালো পারফর্ম করেছে। বাংলাদেশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং এ বিষয়ে সরকার ভালোভাবে এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, সরাসরি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় বিকল্প হিসেবে রাফাল বা ইউরোফাইটার টাইফুনের তুলনায় চীনের যুদ্ধবিমানগুলো তুলনামূলকভাবে অনেক সস্তা। তিনি বলেন, জনগণের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে। দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশের ‘নতুন স্বাধীনতা’ প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সরকার এটিকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা হিসেবে দেখছে না এবং ২০২৪ সালের ঘটনাকে ১৯৭১ সালের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের কোনো বিভ্রান্তি নেই। কিছু মানুষ ২০২৪ ও ১৯৭১ সালকে একই পাল্লায় রেখে ২০২৪ সালের ওজন বেশি বলে দাবি করেছেন এটিকে তিনি ‘চরম বোকামি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, 'কেন আমরা একে সস্নেহে দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলি? কারণ বাংলাদেশ একসময় তার পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিতে নিজস্ব স্বার্থে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে অক্ষম ছিল। সেই অর্থে, আমরা আসলে স্বাধীন হয়েছি। ৫ আগস্টের আগে জে-১০ বিমান কেনার আলোচনা করা সম্ভব হতো না। এ কারণেই আমরা এই স্বাধীনতার কথা বলি।'

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জে-১০সিই একটি ৪.৫-প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, যা উন্নত রাডার ও অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র বহনে সক্ষম। এই বিমান বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার বিষয়টিও প্রতিরক্ষা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। খসড়া চুক্তি প্রস্তুত হওয়ার পর চূড়ান্ত অনুমোদন ও ক্রয় প্রক্রিয়া এখন সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।

বিষয় : প্রতিরক্ষা

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার খসড়া চুক্তি প্রস্তুত

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image
চীন-নির্মিত জে-১০সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার বিষয়ে একটি খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করেছে এ নিয়ে কাজ করা কমিটি। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা করছে, এমন বিষয় সাম্প্রতিক সময়ে সামনে এসেছে। চীনের তৈরি এই যুদ্ধবিমানের সাম্প্রতিক বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় চীনের তৈরি জে-১০ যুদ্ধবিমানের গুলিতে ভারতীয় রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল এবং এ তথ্য এখন প্রমাণিত হয়েছে। জাহেদ উর রহমানের ভাষ্য, বিশ্বের অন্যতম উন্নত ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচিত রাফালের বিরুদ্ধে জে-১০ যুদ্ধে ভালো পারফর্ম করেছে। বাংলাদেশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং এ বিষয়ে সরকার ভালোভাবে এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, সরাসরি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় বিকল্প হিসেবে রাফাল বা ইউরোফাইটার টাইফুনের তুলনায় চীনের যুদ্ধবিমানগুলো তুলনামূলকভাবে অনেক সস্তা। তিনি বলেন, জনগণের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে। দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।বাংলাদেশের ‘নতুন স্বাধীনতা’ প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সরকার এটিকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা হিসেবে দেখছে না এবং ২০২৪ সালের ঘটনাকে ১৯৭১ সালের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের কোনো বিভ্রান্তি নেই। কিছু মানুষ ২০২৪ ও ১৯৭১ সালকে একই পাল্লায় রেখে ২০২৪ সালের ওজন বেশি বলে দাবি করেছেন এটিকে তিনি ‘চরম বোকামি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, 'কেন আমরা একে সস্নেহে দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলি? কারণ বাংলাদেশ একসময় তার পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিতে নিজস্ব স্বার্থে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে অক্ষম ছিল। সেই অর্থে, আমরা আসলে স্বাধীন হয়েছি। ৫ আগস্টের আগে জে-১০ বিমান কেনার আলোচনা করা সম্ভব হতো না। এ কারণেই আমরা এই স্বাধীনতার কথা বলি।'প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জে-১০সিই একটি ৪.৫-প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, যা উন্নত রাডার ও অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র বহনে সক্ষম। এই বিমান বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার বিষয়টিও প্রতিরক্ষা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। খসড়া চুক্তি প্রস্তুত হওয়ার পর চূড়ান্ত অনুমোদন ও ক্রয় প্রক্রিয়া এখন সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা