ঢাকা    রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

কোরআন-হাদিস বিরোধী কোনো আইন সংবিধানে থাকলে তা বাতিল: বায়তুল মোকাররমের খতিব

কোরআন-হাদিস বিরোধী কোনো আইন সংবিধানে থাকলে তা বাতিল: বায়তুল মোকাররমের খতিব

কোরআন ও হাদিস বিরোধী কোনো আইন সংবিধানে থাকলে তা এমনিতেই বাতিল মন্তব্য করেছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক। তিনি বলেছেন, শরিয়া বিরোধী কোনো আইনকে মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত শানে রেসালত সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনী, আদর্শ ও ইসলামী শরিয়াহর বিভিন্ন দিক নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা করা হয়।

মাওলানা আব্দুল মালেক বলেন, আইন প্রণেতারা পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ থেকে আইন ও বিধান গ্রহণ করতে পারেন। তবে দেশীয় ব্যবস্থাপনার কোনো আইনকে ইসলামী শরিয়ার সমতুল্য মনে করার সুযোগ নেই। ভুলবশত সংবিধানে কোরআন-সুন্নাহর স্পষ্ট নির্দেশনার বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো ধারা যুক্ত হয়ে থাকলে, তা অবিলম্বে সংশোধন বা বাতিল করা উচিত।

সংসদ সদস্যদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা সংবিধান রক্ষা ও সংরক্ষণের শপথ নেন। কিন্তু সংবিধানের কোনো বিধান যদি কোরআন, হাদিস, আকিদা ও ইসলামী শরিয়াহর মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। শরিয়াহবিরোধী আইনের শুধু প্রতিবাদ করলেই হবে না, সেগুলো পরিবর্তন বা বাতিলের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বক্তব্যের একটি বড় অংশজুড়ে তিনি কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের আকিদাগত অবস্থান নিয়ে কঠোর আলোচনা করেন। তিনি জানান, তারা নিজেদের মুসলমান দাবি করে নামাজ ও জাকাত আদায়ের কথা বলে। তাদের উপাসনালয়েও ইসলামী নানা নিদর্শন দেখা যায়। কিন্তু তাদের আকিদা ও বিশ্বাসের সঙ্গে মূলধারার ইসলামী আকিদার মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি কাদিয়ানিদের ‘প্রতারক, বেইমান ও দাজ্জাল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, পৃথিবীতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী মানুষ রয়েছেন এবং তারা নিজ নিজ ধর্মীয় পরিচয়ে পরিচিত। তবে কাদিয়ানিদের বিশ্বাস ও আকিদা নিয়ে মুসলিম সমাজে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশিদ। এতে হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা ও বিপুলসংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

বায়তুল মোকাররমের খতিবের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধানে ইসলামী বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন থাকলে তা সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। অন্যদিকে, কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের বিষয়ে খতিবের মন্তব্য ধর্মীয় মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


কোরআন-হাদিস বিরোধী কোনো আইন সংবিধানে থাকলে তা বাতিল: বায়তুল মোকাররমের খতিব

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image
কোরআন ও হাদিস বিরোধী কোনো আইন সংবিধানে থাকলে তা এমনিতেই বাতিল মন্তব্য করেছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক। তিনি বলেছেন, শরিয়া বিরোধী কোনো আইনকে মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত শানে রেসালত সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনী, আদর্শ ও ইসলামী শরিয়াহর বিভিন্ন দিক নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা করা হয়।মাওলানা আব্দুল মালেক বলেন, আইন প্রণেতারা পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ থেকে আইন ও বিধান গ্রহণ করতে পারেন। তবে দেশীয় ব্যবস্থাপনার কোনো আইনকে ইসলামী শরিয়ার সমতুল্য মনে করার সুযোগ নেই। ভুলবশত সংবিধানে কোরআন-সুন্নাহর স্পষ্ট নির্দেশনার বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো ধারা যুক্ত হয়ে থাকলে, তা অবিলম্বে সংশোধন বা বাতিল করা উচিত।সংসদ সদস্যদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা সংবিধান রক্ষা ও সংরক্ষণের শপথ নেন। কিন্তু সংবিধানের কোনো বিধান যদি কোরআন, হাদিস, আকিদা ও ইসলামী শরিয়াহর মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। শরিয়াহবিরোধী আইনের শুধু প্রতিবাদ করলেই হবে না, সেগুলো পরিবর্তন বা বাতিলের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।বক্তব্যের একটি বড় অংশজুড়ে তিনি কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের আকিদাগত অবস্থান নিয়ে কঠোর আলোচনা করেন। তিনি জানান, তারা নিজেদের মুসলমান দাবি করে নামাজ ও জাকাত আদায়ের কথা বলে। তাদের উপাসনালয়েও ইসলামী নানা নিদর্শন দেখা যায়। কিন্তু তাদের আকিদা ও বিশ্বাসের সঙ্গে মূলধারার ইসলামী আকিদার মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি কাদিয়ানিদের ‘প্রতারক, বেইমান ও দাজ্জাল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, পৃথিবীতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী মানুষ রয়েছেন এবং তারা নিজ নিজ ধর্মীয় পরিচয়ে পরিচিত। তবে কাদিয়ানিদের বিশ্বাস ও আকিদা নিয়ে মুসলিম সমাজে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশিদ। এতে হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা ও বিপুলসংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।বায়তুল মোকাররমের খতিবের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধানে ইসলামী বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন থাকলে তা সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। অন্যদিকে, কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের বিষয়ে খতিবের মন্তব্য ধর্মীয় মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা