ঢাকা    শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

ধর্মান্তরিত শুভ চন্দ্র দাসের দাফন সম্পন্ন, পুলিশি পাহারায় জানাজা

ধর্মান্তরিত শুভ চন্দ্র দাসের দাফন সম্পন্ন, পুলিশি পাহারায় জানাজা

নারায়ণগঞ্জ নগরীর মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে পুলিশি পাহারায় জানাজা শেষে ধর্মান্তরিত শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লালকে দাফন করা হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টায় মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ইসলামী রীতি অনুযায়ী তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ শহরে মাদক বিরোধের জেরে গুলিতে নিহত হন শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লাল। তার মৃত্যুর পর লাশের শেষকৃত্য নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।

নিহতের সনাতন ধর্মাবলম্বী বাবা হিন্দু রীতি অনুযায়ী ছেলের সৎকারের দাবি করেন। অন্যদিকে স্ত্রী, মা, ভাই ও বোন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন জানিয়ে বিল্লালের লাশ ইসলামী রীতি অনুযায়ী দাফনের দাবি জানান।

এ নিয়ে বিল্লালের স্ত্রী জ্যোতি হাইকোর্টে রিট করেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মুহাম্মদ ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের বেঞ্চ শুনানি শেষে বিল্লালের লাশ তার স্ত্রী জ্যোতির কাছে হস্তান্তর এবং ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী দাফনের নির্দেশ দেন।

রিটকারীর আইনজীবী জুয়েল আজাদ জানান, ২০০৩ সালের ২৬ জুন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে করা এফিডেভিটে শুভ, তার মা পার্বতী রাণী দাস ও ভাই সজীব চন্দ্র দাস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে শুভর নাম রাখা হয় মো. বিল্লাল। তিনি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন।

পরবর্তীতে রূপগঞ্জের বাসিন্দা আব্দুল মান্নানের মেয়ে জ্যোতিকে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে করেন বিল্লাল। তাদের দুই বছর বয়সি একটি সন্তান রয়েছে।

আইনি জটিলতার কারণে এত দিন বিল্লালের লাশ পুলিশের তত্ত্বাবধানে হিমঘরে রাখা হয়েছিল। হাইকোর্টের নির্দেশের পর লাশটি স্ত্রী জ্যোতির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পুলিশি পাহারায় জানাজা শেষে মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এদিকে নিহতের মা আয়েশা বেগম বলেন, আমি সন্তান ছাড়া এতিম হয়েছি। দেড় বছরের আমার নাতিরে যারা এতিম করছে, আমি তাদের বিচার চাই। আমার ছেলেরে যে গুলি করে মারছে, তার ফাঁসি চাই।

এই ঘটনা ধর্মীয় সহনশীলতা ও পারিবারিক আইন নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, ধর্মান্তরিত ব্যক্তির শেষকৃত্য নিয়ে জটিলতা এড়াতে আগে থেকেই আইনি প্রস্তুতি রাখা প্রয়োজন। পুলিশ জানিয়েছে, বিল্লাল হত্যার ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


ধর্মান্তরিত শুভ চন্দ্র দাসের দাফন সম্পন্ন, পুলিশি পাহারায় জানাজা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
নারায়ণগঞ্জ নগরীর মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে পুলিশি পাহারায় জানাজা শেষে ধর্মান্তরিত শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লালকে দাফন করা হয়েছে।রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টায় মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ইসলামী রীতি অনুযায়ী তাকে দাফন করা হয়।এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ শহরে মাদক বিরোধের জেরে গুলিতে নিহত হন শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লাল। তার মৃত্যুর পর লাশের শেষকৃত্য নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।নিহতের সনাতন ধর্মাবলম্বী বাবা হিন্দু রীতি অনুযায়ী ছেলের সৎকারের দাবি করেন। অন্যদিকে স্ত্রী, মা, ভাই ও বোন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন জানিয়ে বিল্লালের লাশ ইসলামী রীতি অনুযায়ী দাফনের দাবি জানান।এ নিয়ে বিল্লালের স্ত্রী জ্যোতি হাইকোর্টে রিট করেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মুহাম্মদ ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের বেঞ্চ শুনানি শেষে বিল্লালের লাশ তার স্ত্রী জ্যোতির কাছে হস্তান্তর এবং ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী দাফনের নির্দেশ দেন।রিটকারীর আইনজীবী জুয়েল আজাদ জানান, ২০০৩ সালের ২৬ জুন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে করা এফিডেভিটে শুভ, তার মা পার্বতী রাণী দাস ও ভাই সজীব চন্দ্র দাস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে শুভর নাম রাখা হয় মো. বিল্লাল। তিনি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন।পরবর্তীতে রূপগঞ্জের বাসিন্দা আব্দুল মান্নানের মেয়ে জ্যোতিকে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে করেন বিল্লাল। তাদের দুই বছর বয়সি একটি সন্তান রয়েছে।আইনি জটিলতার কারণে এত দিন বিল্লালের লাশ পুলিশের তত্ত্বাবধানে হিমঘরে রাখা হয়েছিল। হাইকোর্টের নির্দেশের পর লাশটি স্ত্রী জ্যোতির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পুলিশি পাহারায় জানাজা শেষে মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।এদিকে নিহতের মা আয়েশা বেগম বলেন, আমি সন্তান ছাড়া এতিম হয়েছি। দেড় বছরের আমার নাতিরে যারা এতিম করছে, আমি তাদের বিচার চাই। আমার ছেলেরে যে গুলি করে মারছে, তার ফাঁসি চাই।এই ঘটনা ধর্মীয় সহনশীলতা ও পারিবারিক আইন নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, ধর্মান্তরিত ব্যক্তির শেষকৃত্য নিয়ে জটিলতা এড়াতে আগে থেকেই আইনি প্রস্তুতি রাখা প্রয়োজন। পুলিশ জানিয়েছে, বিল্লাল হত্যার ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা