ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

বিএসএফের গুলিতে নিহত আসাদুলের মরদেহ ৪০ ঘণ্টা পর ফেরত

বিএসএফের গুলিতে নিহত আসাদুলের মরদেহ ৪০ ঘণ্টা পর ফেরত

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত আসাদুল হকের (৩৮) মরদেহ ফেরত দিয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে পীরগঞ্জের দানাজপুর সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর মরদেহটি ফেরত দিল  ঘাতক বিএসএফ।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান।

মরদেহ হস্তান্তরের সময় বাংলাদেশের পীরগঞ্জ থানা-পুলিশ এবং ভারতের রায়গঞ্জ থানা-পুলিশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। নিহত আসাদুল হক পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদ আলীর ছেলে। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক ছিলেন।

বিজিবি, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার ভোরে পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট বিওপির ৩৩৩ নম্বর মেইন পিলারের কাছে আসাদুলকে হত্যা করে। চার বাংলাদেশি ভারতের সীমান্তে প্রবেশচেষ্টার সন্দেহে ৬৩ চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের টহল দল তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে আসাদুল হক, মোস্তাকিম (৩২) ও উদা রায় (৩৪) নামের তিনজন গুরুতর আহত হন। ঘাতক বিএসএফ সদস্যরা তাদের ভারতের কালিয়াগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদুলের মৃত্যু হয়। এ সময় ঘটনার স্থান থেকে একই এলাকার আয়ুব আলী নামের এক যুবক নিখোঁজ হন।

আটক দুই যুবক মোস্তাকিম ওই এলাকার ওয়াহেদ আলীর ছেলে এবং উদা রায় মুনষা নারায়ণের ছেলে। চিকিৎসা শেষে বিএসএফ তাদের রায়গঞ্জ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।

ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহাজাহান আলী জানান, বিএসএফের গুলিতে হতাহত সকলেই তার এলাকার অধিবাসী। প্রথমে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি জানার পর স্থানীয়রা নিশ্চিত হন।

দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, সীমান্ত হত্যার খবর পাওয়ার পর থেকে বিএসএফের সঙ্গে একাধিকবার পতাকা বৈঠক করা হয়। বৈঠকে তারা একজন নিহত ও দুজন বিএসএফের হাতে আটক থাকার কথা স্বীকার করে। পরে টানা তিন দফা আলোচনা ও পতাকা বৈঠক শেষে রোববার রাতে বিএসএফ আসাদুলের মরদেহ হস্তান্তর করে।

পীরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল হাকিম জানান, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে আসাদুল হকের মরদেহটি পরিবারের সদস্যদের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা বিএসএফের এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। নিহত আসাদুলের মরদেহ ফেরত দেওয়ার পর স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার জানাজার নামাজে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, আসাদুল ছিলেন একমাত্র উপার্জনকারী। তার মৃত্যুতে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। এ ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


বিএসএফের গুলিতে নিহত আসাদুলের মরদেহ ৪০ ঘণ্টা পর ফেরত

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত আসাদুল হকের (৩৮) মরদেহ ফেরত দিয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে পীরগঞ্জের দানাজপুর সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর মরদেহটি ফেরত দিল  ঘাতক বিএসএফ।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান।মরদেহ হস্তান্তরের সময় বাংলাদেশের পীরগঞ্জ থানা-পুলিশ এবং ভারতের রায়গঞ্জ থানা-পুলিশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। নিহত আসাদুল হক পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদ আলীর ছেলে। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক ছিলেন।বিজিবি, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার ভোরে পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট বিওপির ৩৩৩ নম্বর মেইন পিলারের কাছে আসাদুলকে হত্যা করে। চার বাংলাদেশি ভারতের সীমান্তে প্রবেশচেষ্টার সন্দেহে ৬৩ চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের টহল দল তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে আসাদুল হক, মোস্তাকিম (৩২) ও উদা রায় (৩৪) নামের তিনজন গুরুতর আহত হন। ঘাতক বিএসএফ সদস্যরা তাদের ভারতের কালিয়াগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদুলের মৃত্যু হয়। এ সময় ঘটনার স্থান থেকে একই এলাকার আয়ুব আলী নামের এক যুবক নিখোঁজ হন।আটক দুই যুবক মোস্তাকিম ওই এলাকার ওয়াহেদ আলীর ছেলে এবং উদা রায় মুনষা নারায়ণের ছেলে। চিকিৎসা শেষে বিএসএফ তাদের রায়গঞ্জ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহাজাহান আলী জানান, বিএসএফের গুলিতে হতাহত সকলেই তার এলাকার অধিবাসী। প্রথমে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি জানার পর স্থানীয়রা নিশ্চিত হন।দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, সীমান্ত হত্যার খবর পাওয়ার পর থেকে বিএসএফের সঙ্গে একাধিকবার পতাকা বৈঠক করা হয়। বৈঠকে তারা একজন নিহত ও দুজন বিএসএফের হাতে আটক থাকার কথা স্বীকার করে। পরে টানা তিন দফা আলোচনা ও পতাকা বৈঠক শেষে রোববার রাতে বিএসএফ আসাদুলের মরদেহ হস্তান্তর করে।পীরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল হাকিম জানান, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে আসাদুল হকের মরদেহটি পরিবারের সদস্যদের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে।এদিকে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা বিএসএফের এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। নিহত আসাদুলের মরদেহ ফেরত দেওয়ার পর স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার জানাজার নামাজে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, আসাদুল ছিলেন একমাত্র উপার্জনকারী। তার মৃত্যুতে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। এ ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা