স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে থেকে শুরু হবে তা চূড়ান্ত হয়নি, তবে ইউপি নির্বাচন আগামী বছরের ৬ জুনের আগে শেষ করতে হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে দুপুর আড়াইটায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ বৈঠক শুরু হয়।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘বিভিন্ন পরীক্ষার কারণে ভোটের সম্ভাব্য সময়সূচি থেকে সরতে হতে পারে নির্বাচন কমিশনকে। কমতে পারে ভোটের ধাপও। তবে স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ৬ জুনের আগে শেষ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরীক্ষা যেন ব্যাহত না হয়, সেটি লক্ষ রাখা হবে। যত দ্রুত সম্ভব ভোটের চূড়ান্ত তারিখ জানানো হবে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে পরীক্ষা আছে। জানুয়ারিতে ফাঁকা পাওয়া যাবে। তবে রোজা আছে। কয়েক দফা বসব। কমিশন সভায় ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।’ এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ২৯ অক্টোবর হবে বলে জানান তিনি।
জাতীয় নির্বাচনের মতো উপনির্বাচনেও সেনাবাহিনী ও আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্যে কাজ করছে কমিশন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে দেশজুড়ে বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও এর পরপরই পবিত্র রমজান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকসহ বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা শুরু হবে। এই সময়সূচির মধ্যে উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন কীভাবে আয়োজন করা যায়, তা নিয়ে কমিশন কাজ করছে।
তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ করতে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি উপনির্বাচনগুলোতেও জাতীয় নির্বাচনের মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, বন্যার কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে যে প্রভাব পড়েছে, তা এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয় রয়েছে। পরীক্ষা যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুরোধ জানিয়েছেন। এসব উদ্বেগ যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন নির্বাচন কমিশনার।
ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনার ওপর সংশ্লিষ্ট সবাই মতামত দিয়েছেন জানিয়ে সানাউল্লাহ বলেন, এসব বিষয় নিয়ে কমিশনে আলোচনা হবে। কর্মকর্তা ও সচিব পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কাজ সম্পন্ন করবেন ইসি সচিব। ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে স্থানীয় সরকারের অন্য নির্বাচনগুলোর বিষয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘অন্যান্য নির্বাচনের ব্যাপারেও আমরা আইন অনুযায়ী যখন যেটা করার প্রয়োজন, তখন সেটা করব।’

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন