কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমকে (১৩) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই দাফন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়া গেলে ক্যাম্পাসের নির্ধারিত স্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম বিদ্যুৎ।
তিনি বলেন, ‘তাদের মা-বাবার কোনো আপত্তি নেই কুবি ক্যাম্পাসে দাফন করার বিষয়ে। প্রশাসন যদি ক্যাম্পাসে কবরস্থানের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা দিতে পারে এবং অনুমতি দেয়, তাহলে তাকে সেখানে কবর দেওয়া হবে। আর তা যদি সম্ভব না হয় তাহলে আশেপাশের কোনো কবরস্থানেই তাকে দাফন করা হবে।’
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর তার মরদেহের সন্ধান মেলে। মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের সন্তান।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। সন্ধ্যার পর পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয় এবং তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের পর অপ্রতীমের মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের সন্ধান চেয়ে আকুতি জানান। তিনি জানান, ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং তাকে উদ্ধারে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশের একটি নির্জন স্থানে অপ্রতীমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় কয়েকজন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তিনজন আটক
অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে পুলিশ। প্রথমে তুহিন নামে এক তরুণকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদ নামে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস। তিনি জানান, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে অপ্রতীমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। পরে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।
সহকারী পুলিশ সুপার বলেন, তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ফাহিম আহমেদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক। তিনি বলেন, তুহিন ও আনাসকে আটকের পর ফাহিমকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক তুহিনের বাড়ি কুমিল্লার সানন্দা এলাকায়। তার বাবার নাম নুরুল আলম। আনাস ও ফাহিমের বিস্তারিত পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপরতা শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার সময় অপ্রতীমের সঙ্গে এক তরুণকে দেখা যায়। তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত অপ্রতীমের মুঠোফোনের অবস্থান গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে মরদেহের সঙ্গে অপ্রতীমের মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি।
শখের ছবি তোলাই কাল হলো
ছবি তোলার শখটাই যে কাল হবে, তা কে জানত! বয়স মাত্র ১৩, পড়ত সপ্তম শ্রেণিতে। মুঠোফোন হাতে প্রকৃতির ছবি তুলতে ভালোবাসত শিশু অপ্রতীম। গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলেও মায়ের আইফোনটি নিয়ে সে উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়েছিল। কিন্তু নিখোঁজের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের এক জঙ্গল থেকে উদ্ধার হলো তার নিথর মরদেহ।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতীমের এই নির্মম মৃত্যুতে শোকের আহাজারি শুধু তাদের বাড়িতেই নয়, গোটা দেশে। শোবিজের তারকারাও এ ঘটনায় স্তব্ধ। অনেকেই প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন।
অভিনেতা সিয়াম আহমেদ তার ফেসবুক বার্তায় লিখেছেন, ‘অপ্রতীমের ছবিটার দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারছি না। বাবা হওয়ার পর থেকে কোনো শিশুর এমন খবর দেখলে নিজের সন্তানের মুখটাই বারবার চোখের সামনে আসে। একটা সন্তান বিকেলে বাসা থেকে বের হয়েছিল ছবি তুলবে বলে। সেই সন্তান আর বাসায় ফিরল না। একজন বাবা মায়ের জন্য এর চেয়ে ভয়ংকর কোনো অপেক্ষা, কোনো সংবাদ হতে পারে কিনা আমি জানি না।’
সিয়াম আরো লেখেন, ‘অপ্রতীমের বাবা মা ও পরিবারের মানুষগুলোর এই মুহূর্তের কষ্ট আসলে কোনো শব্দ দিয়ে বোঝানো সম্ভব নয়। তাদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। কী ঘটেছিল, কেন ঘটেছিল, তার সঠিক উত্তর তদন্তের মাধ্যমে সামনে আসুক। কোনোভাবেই যেন সত্যটা চাপা না পড়ে। সর্বোচ্চ সততার সাথে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অপ্রতীম, তোমার এভাবে চলে যাওয়ার কথা ছিল না। একজন বাবা হিসেবে আজ শুধু এটুকুই মনে হচ্ছে, আমাদের সন্তানদের জন্য আরও নিরাপদ একটা পৃথিবী তৈরি করার দায় আমাদের সবার।’
অভিনেত্রী পূজা চেরীও হতবাক হয়ে গেছেন এই নৃশংসতায়। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘অপ্রতীমের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরটি দেখে সত্যিই আমি গভীরভাবে মর্মাহত। একজন মায়ের একমাত্র সন্তান, একটি পরিবারের স্বপ্ন-এভাবে অকালে ঝরে যাবে; এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। একটি শিশুর এমন মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, আমাদের সবার হৃদয়ে গভীর শোকের ছাপ রেখে যায়। অপ্রতীমের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা ও প্রার্থনা রইল। সৃষ্টিকর্তা যেন তার পরিবারকে এই অপূরণীয় শোক সহ্য করার শক্তি দেন।’
বিচারের দাবি জানিয়ে পূজা লেখেন, ‘এই ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্যটা সামনে আসুক এবং যারা দায়ী, তারা যেন আইনের আওতায় আসে-এটাই প্রত্যাশা। অপ্রতীম, তুমি শান্তিতে থেকো। তোমার জন্য রইল অশেষ ভালোবাসা ও প্রার্থনা।’
অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ শোকের সঙ্গে প্রকাশ করলেন ক্ষোভও। ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আহা বাচ্চাটা! বাংলাদেশি হিসেবে সবচাইতে বড় স্বপ্ন হওয়া উচিত বাংলাদেশই ছেড়ে দেওয়া। যারা অলরেডি ছেড়ে গেছেন, এই অভিশপ্ত দেশ থেকে বেঁচে গেছেন। সবাই সোনার বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখায়, কিন্তু কেউ ন্যূনতম নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারে না। আর যে দেশে প্রত্যক্ষ প্রমাণ থাকার পরও বিচার হয় না, সে দেশ জীবনেও নিরাপদ হবে না। যদি সামর্থ্য থাকে সুযোগ থাকে এই দেশ ছেড়ে ভাগেন। যাতে আপনার সন্তানকেও অলস শুক্রবারের দুপুর বেলা বাসা থেকে বের হয়ে লাশ হয়ে ফিরে আসতে না হয়।’
এমপি মনিরুল হকের কান্না, স্বরাষ্ট্র সচিবকে ফোন
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্র সচিবকে ফোন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এ সময় অপ্রতীমের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। স্বরাষ্ট্র সচিবকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঘটনাস্থল থেকে স্বরাষ্ট্র সচিবকে ফোন করেন এমপি মনিরুল হক। এমপি মনিরুল হকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এর ভিডিও প্রকাশ করে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফোনে নিজের পরিচয় দিয়ে মনিরুল হক বলেন, ‘আমি মনিরুল হক চৌধুরী বলছিলাম। ভাই, সরি যে আমি কান্নার মধ্যে.... শুনছেন তো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এখানে কী ঘটনা ঘটেছে।’ পরে তিনি বলেন, ‘আমি কল করেছি যে আপনি জানেন কিনা। এই ব্যাপারে একটু তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’
জবাবে অপরপ্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘জ্বি, শুনেছি। আমরা সেটা নিয়েই ব্যবস্থার চিন্তা করছি, কী করবো। আমি রিপোর্টটা পেয়েছি এবং দেখছি।’ পরে মনিরুল হক বলেন, ‘একেবারে অসহনীয় সিচুয়েশন। থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ ফর অ্যাটেনশন।’
এর আগে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর তার বাসায় যান এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। ছেলেকে হারানোর শোকে ভেঙে পড়েন অপ্রতীমের মা ড. নাহিদা বেগম। তিনি বিলাপ করে বলেন, ‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমাকে জবাব দেন, আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমি এই কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটা কি আমার অন্যায়? আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি এটার জবাব চাই?’
নাহিদা বেগম আরও বলেন, ‘আমি কোনও বিচার চাই না, আমাকে এর উত্তর দিতে হবে। আমার ছোট্ট একটা ছেলে, সে কি অন্যায় করেছে। তার কী অন্যায় ছিল, আমি শুধু জানতে চাই। এটা কোন দেশ?’ ছেলেকে হারিয়ে কীভাবে জীবন কাটাবেন, সেই অসহায়ত্বের কথাও বলতে থাকেন তিনি। বলেন, ‘আমার তো একটাই ছেলে। আমি কেমনে আমার জীবন কাটাবো? আমি আমার জীবন পার করবো কেমনে? আমারে একটু সবাই বলেন, আমি আমার জীবনটা পার করবো কেমনে।’ মায়ের এসব কথা শুনে মনিরুল হক চৌধুরীও কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘এর কোনো জবাব আমার কাছে নেই মা।’
নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শনিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকায় অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতীম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার একজন ব্যবসায়ী।
শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের মোবাইল ফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে কুবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ ভিড় করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করেন। দুপুর পৌনে ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে মনিরুল হক চৌধুরী হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আটক করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অনেকটা নিশ্চিত, মোবাইল ফোনের জন্যই এ হত্যার ঘটনা।’ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপ্রতীমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
জামায়াত আমিরের সমালোচনা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টার দিকে বগুড়া মহানগরীর মাটিডালি বিমান মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় জামায়াত আমির বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার ১৩ বছরের সন্তান নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর মৃত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা চাই। কিন্তু দুঃখের বিষয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্বমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও নিজের মন্ত্রণালয়ের খোঁজ রাখতে পারেন না।’
উল্লেখ্য, শনিবার ঢাকা থেকে রংপুর লংমার্চ করছে ১১ দলীয় ঐক্য। পথে পথে তারা সভাও করছে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টার দিকে মায়ের মোবাইল ফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় কিশোর অপ্রতীম। নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ প্রশাসন বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে খোঁজাখুঁজি করেন। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন