ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
গণবার্তা

এইচএসসি ফল বিপর্যয়: উচ্চশিক্ষায় ৮ লাখের বেশি আসন খালি থাকার শঙ্কা

এইচএসসি ফল বিপর্যয়: উচ্চশিক্ষায় ৮ লাখের বেশি আসন খালি থাকার শঙ্কা

ঢাকা: উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে বড় ধরনের শূন্যতার মুখে পড়তে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট আসন রয়েছে ১৪ লাখ ৯২ হাজার ২৮৮টি। অন্যদিকে এবার পাস করেছেন মাত্র ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। ফলে পাস করা সব শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও প্রায় ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬০৩টি আসন খালি থাকবে, যা মোট আসনের প্রায় ৫৭ শতাংশ ।

বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বড় ব্যবধান

এবারের ফলাফলে বিভাগভিত্তিক পার্থক্য বেশ স্পষ্ট। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৩.১২ শতাংশ হলেও মানবিক বিভাগে তা মাত্র ৪২.১৭ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষায় পাসের হার ৫০.৭৭ শতাংশ । এই বিপুল সংখ্যক অকৃতকার্যের প্রভাব সরাসরি পড়বে উপজেলা ও মফস্বল পর্যায়ের কলেজগুলোতে, বিশেষ করে মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তিতে।

কোন প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে?

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রথম সারির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে আসনপ্রতি প্রতিযোগিতা কিছুটা কমলেও আসন খালি থাকার শঙ্কা নেই। মোট ৬৩ হাজার ৬৫৬টি আসনের বিপরীতে ৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থী থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে ।

তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা সামলাতে হবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোকে। এসব কলেজে অনার্স ও ডিগ্রি মিলিয়ে আসন রয়েছে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫টি, যা মোট উচ্চশিক্ষা আসনের অর্ধেকেরও বেশি। শিক্ষার্থীসংখ্যা কমে যাওয়ায় এসব কলেজের অনেকগুলোতে ভর্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে ।

একইভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে নিম্নসারির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ইউজিসি স্বীকৃত ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৪ লাখ ১০ হাজার আসন রয়েছে। ব্র্যাক বা নর্থ সাউথের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থী পেলেও মাঝারি ও নিম্নমানের প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টিউশন ফি-নির্ভর এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকটও দেখা দিতে পারে ।

উত্তরণের পথ কী?

শিক্ষাবিদদের মতে, এই সংকট কাটাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শেখ নাহিদ নিয়াজী মনে করেন, শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে সংস্কার প্রয়োজন—পাঠদান পদ্ধতি, মূল্যায়ন, অবকাঠামো, শিক্ষক নিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি। তিনি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের পরিবর্তে একটি শিক্ষা কমিশন গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন, যা নিচের স্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত সমন্বয় করবে ।

অন্যদিকে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, আসন খালি থাকা কোনো সংকট নয়। তাদের মতে, উচ্চশিক্ষা সবার জন্য নয় এবং মান না কমিয়ে বরং গুণগত শিক্ষার ওপর মনোযোগ দেওয়া উচিত ।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


এইচএসসি ফল বিপর্যয়: উচ্চশিক্ষায় ৮ লাখের বেশি আসন খালি থাকার শঙ্কা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image
ঢাকা: উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে বড় ধরনের শূন্যতার মুখে পড়তে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট আসন রয়েছে ১৪ লাখ ৯২ হাজার ২৮৮টি। অন্যদিকে এবার পাস করেছেন মাত্র ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। ফলে পাস করা সব শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও প্রায় ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬০৩টি আসন খালি থাকবে, যা মোট আসনের প্রায় ৫৭ শতাংশ ।বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বড় ব্যবধানএবারের ফলাফলে বিভাগভিত্তিক পার্থক্য বেশ স্পষ্ট। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৩.১২ শতাংশ হলেও মানবিক বিভাগে তা মাত্র ৪২.১৭ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষায় পাসের হার ৫০.৭৭ শতাংশ । এই বিপুল সংখ্যক অকৃতকার্যের প্রভাব সরাসরি পড়বে উপজেলা ও মফস্বল পর্যায়ের কলেজগুলোতে, বিশেষ করে মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তিতে।কোন প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে?সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রথম সারির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে আসনপ্রতি প্রতিযোগিতা কিছুটা কমলেও আসন খালি থাকার শঙ্কা নেই। মোট ৬৩ হাজার ৬৫৬টি আসনের বিপরীতে ৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থী থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে ।তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা সামলাতে হবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোকে। এসব কলেজে অনার্স ও ডিগ্রি মিলিয়ে আসন রয়েছে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫টি, যা মোট উচ্চশিক্ষা আসনের অর্ধেকেরও বেশি। শিক্ষার্থীসংখ্যা কমে যাওয়ায় এসব কলেজের অনেকগুলোতে ভর্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে ।একইভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে নিম্নসারির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ইউজিসি স্বীকৃত ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৪ লাখ ১০ হাজার আসন রয়েছে। ব্র্যাক বা নর্থ সাউথের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থী পেলেও মাঝারি ও নিম্নমানের প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টিউশন ফি-নির্ভর এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকটও দেখা দিতে পারে ।উত্তরণের পথ কী?শিক্ষাবিদদের মতে, এই সংকট কাটাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শেখ নাহিদ নিয়াজী মনে করেন, শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে সংস্কার প্রয়োজন—পাঠদান পদ্ধতি, মূল্যায়ন, অবকাঠামো, শিক্ষক নিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি। তিনি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের পরিবর্তে একটি শিক্ষা কমিশন গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন, যা নিচের স্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত সমন্বয় করবে ।অন্যদিকে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, আসন খালি থাকা কোনো সংকট নয়। তাদের মতে, উচ্চশিক্ষা সবার জন্য নয় এবং মান না কমিয়ে বরং গুণগত শিক্ষার ওপর মনোযোগ দেওয়া উচিত ।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা