সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা ওরছ শরিফ চত্বরে আহছানিয়া মিশনের উদ্যোগে রমজানজুড়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইফতারের আয়োজন চলছে। প্রতিদিন এখানে পাঁচ থেকে ছয় হাজার রোজাদার মুসল্লি একসঙ্গে ইফতার করেন।
২২ ফেব্রুয়ারি রবিবার সকাল থেকে দেখা যায়, স্বেচ্ছাসেবকরা ইফতার প্রস্তুতে ব্যস্ত। কেউ সিংগাড়া বানাচ্ছেন, কেউ দুধের ফিন্নি রান্না করছেন, আবার কেউ ছোলা ও ডিম সিদ্ধ করছেন। নির্ধারিত সময়ের আগে ৬ হাজার মানুষের জন্য ইফতার প্রস্তুত করতে আড়াইশ থেকে তিনশত স্বেচ্ছাসেবী স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এখানে কোনো ভেদাভেদ নেই। পীর এ কামেল আলহাজ খান বাহাদুর আহসান উল্লাহর ভক্তরা এই আয়োজনকে আত্মতৃপ্তির সঙ্গে আখেরাতের পথ সুগম করার আশায় পরিচালনা করেন। অনেক ভক্ত অনুদান দিয়ে ইফতারে অংশ নেন।
আহছানিয়া মিশনের প্রতিষ্ঠালগ্নে ক্ষুদ্র পরিসরে ইফতার আয়োজন শুরু হলেও পরে তা বড় আকার ধারণ করে। করোনার আগে একসঙ্গে ১০ হাজার রোজাদারকে ইফতার করানো হতো। মহামারির কারণে দুই বছর বন্ধ থাকার পর এখন প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষ ইফতার করছেন।
কর্মরত বাবুর্চিদের কেউ ২৫ বছর, কেউবা ৩৫ বছর ধরে এই মিশনে কাজ করছেন। তারা জানান, ভোর ৬টা থেকে কাজ শুরু হয় এবং বিকেল ৫টার মধ্যে ডিম, ছোলা, চিঁড়া, কলা, ফিন্নি—সব প্রস্তুত হয়ে যায়।
নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের নির্বাহী সদস্য আলহাজ মো. ইউনুছ বলেন, পীর কেবলা বেঁচে থাকতে ছোট পরিসরে ইফতার আয়োজন হতো। পরে প্রয়াত খাদেম মৌলভী আনছার উদ্দীন বড় পরিসরে আয়োজন শুরু করেন। এখন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভক্তরা এখানে আসেন।
মিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিদিন এই আয়োজনে প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়। স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক সম্প্রীতিরও অনন্য দৃষ্টান্ত। প্রতিবছর সাতক্ষীরাসহ পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে হাজারো মানুষ নলতা শরিফে সমবেত হয়ে রমজানজুড়ে এই গণ-ইফতারকে বৃহৎ ধর্মীয় ও সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত করে।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন