ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তিশালী প্রতিশোধমূলক হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২০০-র বেশি মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের তরফে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের নিজস্ব বার্তা সংস্থা তাসনিম এই খবর প্রকাশ করেছে [সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি]
দপ্তরের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর আওতায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে। এতে আগ্রাসী মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক জনবল এবং সামরিক অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ।
বিবৃতিতে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে, মার্কিন ৫ম ফ্লিটে চালানো হামলায় ২১ জন আমেরিকান সেনা নিহত হয়েছে এবং আরও অনেকে গুরুতর আহত হয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বিমান ঘাঁটিতে ইরানি হামলার ফলে নিহতের সংখ্যা এবং আহতের হার প্রায় ২০০-এর কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে পারস্য উপসাগরের উত্তর অংশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে [সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি]।
খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তর মূলত ইরানের সামরিক অভিযানগুলোর পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের কাজ করে। সেখান থেকে দাবি করা হয়েছে, এই হামলাগুলো ছিল মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি জবাব।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে হতাহতের যেসব পরিসংখ্যান দেওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে অনেক কম সংখ্যা জানিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (CENTCOM)। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে তাদের এখন পর্যন্ত ৬ জন সেনা নিহত এবং ১৮ জন গুরুতর আহত হয়েছে। একইসঙ্গে ইরানের দাবিকৃত কয়েকশ' হতাহতের সংখ্যা অস্বীকার করে তারা বলেছে, এ ধরনের তথ্য নির্ভরযোগ্য নয় ।
মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের একজন মুখপাত্র ইরানের দেওয়া কয়েকশ' হতাহতের দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানান, সংশ্লিষ্ট সংখ্যাগুলো সঠিক নয়। লড়াই এখনও চলমান থাকায় এবং নিহত সেনাদের পরিবারকে জানানোর প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য না দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে ওয়াশিংটন ।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের হত্যার ঘটনা ঘটে । এরপর থেকে ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানি সশস্ত্র বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু এবং ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবকে লক্ষ্য করে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চালিয়ে আসছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই পক্ষের দেওয়া হতাহতের সংখ্যার এই বড় ব্যবধান যুদ্ধকালীন তথ্যযুদ্ধের (ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার) অংশ হতে পারে। ইরান নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরোধের চিত্র তুলে ধরতে হতাহতের সংখ্যা বেশি দেখাতে পারে, অন্যদিকে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব ও আভ্যন্তরীণ চাপ এড়াতে নিজেদের হতাহতের সংখ্যা কম দেখানোর কৌশল নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ।

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন