মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ১৬তম দিনে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে ড্রোন পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ব্রিটেন।
ইরানের অভ্যন্তর থেকে নিজেদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজ রোববার (১৫ মার্চ) দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, আকাশপথে আসা এ হুমকি মোকাবিলায় তাদের ‘প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়’ রয়েছে।
একই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে নিজেদের নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
সিএনএন জানিয়েছে, ইসরায়েলের তেল আবিব শহরের বেশ কয়েকটি স্থানে গোলাবারুদ বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানার ঘটনা তদারকি করছে দেশটির পুলিশ। এক পুলিশ মুখপাত্র বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো আলাদা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে পুলিশ সদস্য ও বোমা বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বাহরাইনের রাজধানী মানামায় ভোরে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। বাহরাইন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ইরানের হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২০৩টি ড্রোন প্রতিহত করেছে তারা। এসব হামলায় বাহরাইনে এ পর্যন্ত দুজন এবং পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় দেশগুলোতে আরও ২৪ জন নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহারের জন্য ইরানকে ‘শাহেদ’ ড্রোন সরবরাহ করছে রাশিয়া। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গতকাল শনিবার সাক্ষাৎকারের এই অংশটি প্রচারিত হয়।
সিএনএনের ফরিদ জাকারিয়াকে জেলেনস্কি বলেন, এটি ‘শতভাগ সত্য’ যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাতে ইরান রাশিয়ার তৈরি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে। এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশে চালানো হামলার সঙ্গেও শাহেদ ড্রোনের যোগসূত্র পাওয়া গেছে।
মূলত ইরানই প্রথম এ শাহেদ ড্রোন তৈরি করে, যা ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী। ইউক্রেনের দাবি, ২০২২ সালের শরৎকাল থেকে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণে এই ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। শুরুতে ইরান এসব ড্রোন সরবরাহ করলেও এখন রাশিয়া নিজেই শাহেদ ড্রোন তৈরি করছে।
বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আধিপত্য কমাতে সেখানে মাইন শনাক্তকারী ড্রোন পাঠানোর কথা ভাবছে ব্রিটেন। এর আগে ওই অঞ্চলে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর সুরক্ষায় মিত্র দেশগুলোর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘নানা ধরনের বিকল্প’ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশ্বের মোট উত্তোলিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ প্রতিদিন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
দ্য সানডে টাইমস জানায়, ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির ‘মাইন অ্যান্ড থ্রেট এক্সপ্লোয়েটেশন গ্রুপ’ থেকে এসব ড্রোন মোতায়েন করা হতে পারে; যারা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে। এদিকে দ্য সানডে টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা ব্রিটিশ ইন্টারসেপ্টর ড্রোনগুলো ইরানের ‘শাহেদ’ ড্রোন প্রতিহত করতেও ব্যবহার করা হতে পারে।

রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন