ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট দেখা দিয়েছে। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যানসহ অন্তত ১২ জন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাকে আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সামরিক নেতৃত্বে সবচেয়ে বড় ধরনের চাকরিচ্যুতির ঘটনা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করলেও পেন্টাগনের শীর্ষ জেনারেলরা সেটির তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা যুক্তি দেখান, এই অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃঙ্খলা আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং ব্যাপক প্রাণহানি ডেকে আনবে। অন্যদিকে ট্রাম্পের অনুগত মহল বলছে, কমান্ডার-ইন-চিফের নির্দেশ অমান্য করা মার্কিন সামরিক বাহিনীর মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী। বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, এটি কি ‘অবৈধ নির্দেশ’ অস্বীকারের আইনি পদক্ষেপ, না বেসামরিক নিয়ন্ত্রণের প্রতি সামরিক বাহিনীর সরাসরি অবাধ্যতা।
ইরানের বিষয়ে ট্রাম্পের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র দ্বিধাবিভক্তি দেখা দিয়েছে। এদিকে, বরখাস্ত জেনারেলদের জায়গায় দ্রুত নতুন নিয়োগ দেওয়া না হলে মার্কিন প্রতিরক্ষা কাঠামো অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই অস্থিরতার দিকে উদ্বিগ্ন দৃষ্টি রেখেছে।
অন্যদিকে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী রেজা এলহামি দাবি করেছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা শত্রুপক্ষের ১৬০টিরও বেশি ড্রোন, কয়েক ডজন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং বেশ কয়েকটি উন্নত যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। ভূপাতিত ড্রোনের মধ্যে এমকিউ-৯, হার্মিস ও লুকাস মডেল রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইরানি ইউনিটগুলো শত্রুর কাল্পনিক প্রোপাগান্ডা ভেঙে দিয়েছে। তারা যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের জন্য ওঁত পেতে আছে।’
এলহামি আরও জানান, সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ এবং যেকোনো মূল্যে ইরানের আকাশ সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের জবাবে ইরান ক্রমাগত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
মার্কিন সামরিক নেতৃত্বের এই টালমাটাল অবস্থা এবং ইরানের কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের জটিলতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন আশঙ্কা করছে, যেকোনো মুহূর্তে এই উত্তেজনা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন