মাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজের ছেলেকে গলা কেটে হত্যা করেছেন সত্তরোর্ধ্ব বাবা। ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভুলইন দক্ষিণ ইউনিয়নের রামপুর কাজি বাড়িতে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত কাজি মোহাম্মদ উল্লা ওই গ্রামের কাজি হিরণ মিয়ার তৃতীয় ছেলে। শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিয়েছেন লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নুরুজ্জামান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, বাবা-মাকে মারধর, বড় ভাইয়ের স্ত্রীদের যৌন হয়রানিসহ মাদকাসক্তের অভিযোগে প্রায় তিন মাস আগে নিহত মোহাম্মদ উল্লাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দিয়ে জেলে পাঠায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে তাহমিনা মিতু। গত ২ এপ্রিল সে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে পরিবারের সদস্যদের পুনরায় হয়রানি ও গালাগালি শুরু করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মাদকের টাকা চেয়ে না পেয়ে মোহাম্মদ উল্লা নিজের বাবাকে ঘরের দেয়ালে চেপে ধরে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে একটি ধারালো ছুরি নিয়ে বাবাকে হত্যা করতে ছুটে আসলে বাবা উল্টো তাকে ধাক্কা দেন। এতে ছেলে মোহাম্মদ উল্লা ঘরের বারান্দার মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। তখন ক্ষুব্ধ হয়ে ছেলের হাত থেকে ছুরি কেড়ে নিয়ে হিরণ মিয়া ছেলের গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যা করেন। এতে ঘটনাস্থলেই ছেলের মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাই কাজি আহমেদ বলেন, তার ভাই মাদকাসক্ত ছিল। বিয়ের পর নিজের স্ত্রীকেও মারধর করত, এ কারণে তার স্ত্রীও চলে গেছে। আজকে সে তাদের বাবাকে হত্যা করতে চেয়েছিল, তখন বাবা নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে তাকে হত্যা করে। বাবা তাকে হত্যা না করলে সে বাবাকেই হত্যা করত, তার বাবা নির্দোষ বলে জানান তিনি।
লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নুরুজ্জামান জানান, ছেলেকে গলা কেটে হত্যার পর বাবা হিরণ মিয়া নিজেই থানায় ফোন করে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছেন। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। হত্যার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন