ঢাকা    রোববার, ১০ মে ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ১০ মে ২০২৬
গণবার্তা

আবাসন প্রতিষ্ঠানের ডিএমডি গ্রেপ্তার: শতাধিক গ্রাহকের ১২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আবাসন প্রতিষ্ঠানের ডিএমডি গ্রেপ্তার: শতাধিক গ্রাহকের ১২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় আবাসন প্রতিষ্ঠান হলিস্টিক হোম বিল্ডার্সের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) হায়দার কবির মিথুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিদেশ থেকে শনিবার (৯ মে) রাতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রোববার (১০ মে) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানান, মিথুনের বাড়ি দক্ষিণখানের উত্তর ফায়দাবাদ এলাকায়। উত্তরা পূর্ব থানার একটি প্রতারণা মামলায় হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেডের এই ডিএমডিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কীভাবে প্রতারণা

এজাহার সূত্রে জানা যায়, হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স উত্তরখান থানার কাছে ১০ কাঠা জমির ওপর ৯ তলার চার ইউনিটের একটি ভবন নির্মাণের কথা বলে ৩৬টি শেয়ার বিক্রির প্রচার চালায়। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ধরা হয় ১৫ লাখ টাকা। ভুক্তভোগী বাদীসহ বিভিন্ন গ্রাহক কোম্পানির উত্তরা সেক্টর-৪ এর অফিসে গিয়ে শেয়ার কিনতে অর্থ লগ্নি করেন।

এর মধ্যে বাদী ২০২৩ সালের এপ্রিলে প্রথমে এক লাখ ও পরে বিভিন্ন সময়ে মোট ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা কোম্পানিতে দেন। এ সময় কোম্পানির তৎকালীন এমডি শিশির আহমেদ, ডিএমডি হায়দার কবির মিথুন, ফিন্যান্স ডিরেক্টর মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বাহার এবং আইটি ও অ্যাকাউন্টস ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম জাহিদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাদীর এক বন্ধুও ৯ লাখ টাকা লগ্নি করেন। অর্থ নেওয়ার পর কোম্পানির পক্ষ থেকে মানি রিসিট ও চেক দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও শেয়ারভুক্ত জমি রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়া হয়নি।

৪৭০ গ্রাহকের ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ

বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। পরে গ্রাহকরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন—রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া নেওয়া থ্রি-স্টার হোটেল ও মৌজার জমির শেয়ার বিক্রির নামে প্রায় ৪৭০ গ্রাহকের কাছ থেকে আনুমানিক ১২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মিথুনসহ চক্রের সদস্যরা। পাওনা টাকা ফেরত চাইলে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

একপর্যায়ে গ্রাহকরা জানতে পারেন—কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর শিশির আহমেদ আত্মগোপনে চলে গেছেন এবং নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। নতুন পর্ষদের নোটিশে বলা হয়, ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিতে যেসব আর্থিক লেনদেন হয়েছে, তার দায়ভার তারা নেবেন না।

পলাতক থেকে দেশে ফিরে গ্রেপ্তার

হায়দার কবির মিথুন কোম্পানির ডিএমডি হিসেবে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ ও আত্মসাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মামলার পর তিনিও আত্মগোপনে চলে যান এবং ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখে কৌশলে বিদেশে পালিয়ে যান। পরে বিদেশ থেকে ফেরার সময় বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি জানায়, মিথুনের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা এলাকার একাধিক প্রতারণা মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কয়েকটিতে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ১০ মে ২০২৬


আবাসন প্রতিষ্ঠানের ডিএমডি গ্রেপ্তার: শতাধিক গ্রাহকের ১২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image
শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় আবাসন প্রতিষ্ঠান হলিস্টিক হোম বিল্ডার্সের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) হায়দার কবির মিথুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিদেশ থেকে শনিবার (৯ মে) রাতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।রোববার (১০ মে) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানান, মিথুনের বাড়ি দক্ষিণখানের উত্তর ফায়দাবাদ এলাকায়। উত্তরা পূর্ব থানার একটি প্রতারণা মামলায় হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেডের এই ডিএমডিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।কীভাবে প্রতারণাএজাহার সূত্রে জানা যায়, হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স উত্তরখান থানার কাছে ১০ কাঠা জমির ওপর ৯ তলার চার ইউনিটের একটি ভবন নির্মাণের কথা বলে ৩৬টি শেয়ার বিক্রির প্রচার চালায়। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ধরা হয় ১৫ লাখ টাকা। ভুক্তভোগী বাদীসহ বিভিন্ন গ্রাহক কোম্পানির উত্তরা সেক্টর-৪ এর অফিসে গিয়ে শেয়ার কিনতে অর্থ লগ্নি করেন।এর মধ্যে বাদী ২০২৩ সালের এপ্রিলে প্রথমে এক লাখ ও পরে বিভিন্ন সময়ে মোট ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা কোম্পানিতে দেন। এ সময় কোম্পানির তৎকালীন এমডি শিশির আহমেদ, ডিএমডি হায়দার কবির মিথুন, ফিন্যান্স ডিরেক্টর মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বাহার এবং আইটি ও অ্যাকাউন্টস ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম জাহিদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাদীর এক বন্ধুও ৯ লাখ টাকা লগ্নি করেন। অর্থ নেওয়ার পর কোম্পানির পক্ষ থেকে মানি রিসিট ও চেক দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও শেয়ারভুক্ত জমি রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়া হয়নি।৪৭০ গ্রাহকের ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎবিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। পরে গ্রাহকরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন—রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া নেওয়া থ্রি-স্টার হোটেল ও মৌজার জমির শেয়ার বিক্রির নামে প্রায় ৪৭০ গ্রাহকের কাছ থেকে আনুমানিক ১২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মিথুনসহ চক্রের সদস্যরা। পাওনা টাকা ফেরত চাইলে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।একপর্যায়ে গ্রাহকরা জানতে পারেন—কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর শিশির আহমেদ আত্মগোপনে চলে গেছেন এবং নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। নতুন পর্ষদের নোটিশে বলা হয়, ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিতে যেসব আর্থিক লেনদেন হয়েছে, তার দায়ভার তারা নেবেন না।পলাতক থেকে দেশে ফিরে গ্রেপ্তারহায়দার কবির মিথুন কোম্পানির ডিএমডি হিসেবে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ ও আত্মসাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মামলার পর তিনিও আত্মগোপনে চলে যান এবং ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখে কৌশলে বিদেশে পালিয়ে যান। পরে বিদেশ থেকে ফেরার সময় বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।সিআইডি জানায়, মিথুনের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা এলাকার একাধিক প্রতারণা মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কয়েকটিতে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা