চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত দুটি মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ বুধবার (১৭ জুন)। এর মধ্যে রয়েছে বাকলিয়ায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলা এবং বন্দরটিলার শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত অপহরণ ও হত্যা মামলা। দুটি মামলার রায়কে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে জনমনে। ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় আদালতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারসহ দেশবাসী।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রায় ঘোষণার জন্য বুধবার সকালে দুই মামলার আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়েছে। বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত রায় ঘোষণা করবেন।
চলতি বছরের ২১ মে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পরে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে।
ঘটনার তদন্ত শেষে একমাত্র অভিযুক্ত মনির হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয় পুলিশ। গত ১০ জুন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। ঘটনার মাত্র ২৫ দিনের মাথায় মামলার রায় ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছানোয় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রামের বন্দরটিলা এলাকার বহুল আলোচিত শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত হত্যা মামলার রায়ও আজ ঘোষণা করা হবে। ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর পাঁচ বছর বয়সী আয়াত নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। পরবর্তীতে তদন্তে বেরিয়ে আসে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের তথ্য। পরে উদ্ধার করা হয় শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ।
পুলিশের তদন্তে জানা যায়, বাসার ভাড়াটিয়া আবির শিশুটিকে অপহরণের পর হত্যা করে। এ ঘটনায় আবির এবং তার ১৭ বছর বয়সী এক সহযোগীকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। মামলাটি দেশের অন্যতম আলোচিত শিশু হত্যা মামলায় পরিণত হয় এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ এর রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে।
দুটি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
এদিকে মানবাধিকারকর্মী ও আইন বিশ্লেষকদের মতে, এসব মামলার রায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে। তাই রায়ের দিকে নজর রয়েছে পুরো দেশের।
বিষয় : শিশু ধর্ষণ

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন