নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার খামারগুলো এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কারণ, বিশ্বের আলোচিত নেতাদের নামে এখানে নামকরণ করা হয়েছে কুরবানির পশুর। ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি — কেবল রাজনীতির মঞ্চেই নয়, এবার ঈদুল আজহার আগে ভাইরাল হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের একাধিক খামারের গরু, মহিষ ও ছাগল হিসেবে।
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার খামারগুলো এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কারণ, বিশ্বের আলোচিত নেতাদের নামে এখানে নামকরণ করা হয়েছে কুরবানির পশুর। ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি — কেবল রাজনীতির মঞ্চেই নয়, এবার ঈদুল আজহার আগে ভাইরাল হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের একাধিক খামারের গরু, মহিষ ও ছাগল হিসেবে।
ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর কুরবানির পশুর বাজার জমে ওঠে। কিন্তু এবার নারায়ণগঞ্জের খামারিরা ভেবেছেন ভিন্নভাবে। গত বছর তারা বলিউড ও হলিউড তারকাদের নামে পশুর নাম রেখে সাফল্য পান। এবার চিন্তা করলেন আরেকটু বাড়তি কিছু — বিশ্বনেতাদের নাম। ফলাফল রাতারাতি ভাইরাল হওয়া।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘ট্রাম্প’, ‘নেতানিয়াহু’ কিংবা ‘মোদি’ নামে পশুর ভিডিও ও ছবি ঘুরতে শুরু করতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা ফোন করতে থাকেন। অনেকে সরাসরি খামারে ছুটে আসেন।
বন্দরের এসএস ক্যাটেল ফার্মে লালন-পালন করা বিশালাকৃতির এলবিনো জাতের মহিষটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘নেতানিয়াহু’। ভাইরাল হওয়ার পর ওই মহিষটি একনজর দেখতেও খামারে ভিড় জমান হাজারো মানুষ। গত শুক্রবার ঢাকার এক ব্যবসায়ী সাড়ে ৬ লাখ টাকা দিয়ে মহিষটি কিনে নেন।
অন্যদিকে, পাইকপাড়ার রাবেয়া এগ্রো ফার্মের গোলাপি রঙের মহিষটির নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। সেটিও ক্রেতাদের দৃষ্টি কাড়তে কোনো কমতি রাখেনি। সাড়ে ৩ লাখ টাকায় ঢাকার আরেক ব্যবসায়ী ‘ট্রাম্প’কে ক্রয় করেন।
শুধু কেনাবেচাই নয়, দর্শনার্থীদের ভিড়ও এখন প্রতিদিনের ঘটনা। খামারগুলোতে এ ‘সেলিব্রিটি পশু’দের দেখতে আসেন উৎসুক জনতা। খামারিরা জানান, কখনো কখনো দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের সামলাতে তাদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে এ প্রচারণায় সবচেয়ে বড় লাভ হয়েছে খামারিদেরই।
বন্দরের এসএস ক্যাটেল ফার্মের ম্যানেজার মেহেদী হাসান জানান, তাদের খামারে আড়াইশ পশু ছিল। ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে প্রায় ৯০ শতাংশ। অনেকে বাড়িতে পশু রাখার জায়গা না থাকায় টাকা পরিশোধ করে খামারেই রেখে গেছেন। ঈদের আগের দিন এসে পশু নিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
বন্দর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. একেএম আহসান উল্লাহ বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঠিক ব্যবহার এবং অভিনব প্রচারণার কারণে খামারিরা এবার হাটে না গিয়েই ভালো মূল্য পাচ্ছেন। এটি পুরো ডেইরি খাতের জন্য ইতিবাচক।”
এবারের অভিনব উদ্যোগ দেখে মনে হচ্ছে, আগামী বছরও কুরবানির পশুর বাজারে নেমে আসতে পারে আরও চমক — হয়তো নতুন কোনো নাম, নতুন কোনো কৌশল।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন