ঢাকা    রোববার, ১৭ মে ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ১৭ মে ২০২৬
গণবার্তা

কাপাসিয়া পাঁচ হত্যার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার মরদেহ পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার

 কাপাসিয়া পাঁচ হত্যার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার মরদেহ পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার মরদেহ পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন লৌহজংয়ের মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ইলিয়াস।

মরদেহ উদ্ধারের বিবরণ

পরিদর্শক মো. ইলিয়াস জানান, পদ্মা সেতু থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে লৌহজং উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা নৌ পুলিশে খবর দেয়। নৌ পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া
গাজীপুরের ৫ হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার ভাই আব্দুল জব্বার ও কাপাসিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জুবায়ের রহমান লাশটি ফোরকানের বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেন। লাশটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পদ্মা সেতু থেকে লাফানোর পূর্বাভাস
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন জানান, অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা সেতু থেকে নদীতে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি জানান, পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখা গেছে, যাকে দেখে ফোরকান বলে ধারণা করছেন তার পরিবার ও মামলার বাদী। তবে মরদেহ উদ্ধার ও ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

ঘটনার পর তল্লাশি অভিযান
পুলিশ সুপার আরও জানান, পাঁচ খুনের ঘটনার পরপরই প্রধান আসামি ফোরকানকে গ্রেপ্তারে তিনটি দল অভিযানে নামে। একটি দল গোপালগঞ্জে ফোরকানের গ্রামের বাড়ি এবং অপর একটি দল বেনাপোলে যায়, যাতে সে সীমান্ত পার হতে না পারে। পরে গত সোমবার (১১ মে) মেহেরপুরে এক বাস হেলপারের কাছ থেকে ফোরকানের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।

সিসিটিভি ফুটেজের বর্ণনা
জিজ্ঞাসাবাদে ওই হেলপার জানান, তিনি মোবাইলটি পদ্মা সেতু থেকে পেয়েছেন। এরপর পুলিশের একটি দল পদ্মা সেতুতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে। ফুটেজে দেখা যায়, একটি প্রাইভেটকার থেকে এক ব্যক্তি নেমে হাতের মোবাইলটি ফুটপাতের ওপর রাখেন। এরপর দুই থেকে তিন মিনিট অপেক্ষা করে রেলিং টপকে নদীতে লাফ দেন।

শনাক্তে ভিডিও দেখানো
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি নিশ্চিত হতে মামলার বাদী (নিহত শারমিনের বাবা) এবং গোপালগঞ্জে ফোরকানের ভাই জব্বারসহ স্থানীয় কয়েকজনকে ভিডিওটি দেখানো হয়। তারা পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও তাদের কাছে মনে হয়েছে ভিডিওর ওই ব্যক্তিটিই ফোরকান। তবে চেহারা স্পষ্টভাবে দেখা না যাওয়ায় শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গাড়ি ও মোবাইলের তথ্য
পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওর প্রাইভেটকারটি ঢাকার পল্টনের একটি ‘রেন্ট-এ-কার’ থেকে ভাড়া করেছিলেন ফোরকান। চালককে তিনি বলেছিলেন, এক আত্মীয় মারা যাওয়ায় সেখানে যাওয়ার জন্য গাড়িটি নিচ্ছেন। তবে অল্প সময়ের জন্য দেখায় চালক ফোরকানকে পুরোপুরি শনাক্ত করতে পারেনি। উদ্ধার হওয়া মোবাইলটি যে ফোরকানের, তা ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পটভূমি
উল্লেখ্য, শুক্রবার দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া। ফোরকান ছাড়া এই হত্যাকাণ্ডে দ্বিতীয় কারও সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

পদ্মা নদী থেকে ফোরকান মোল্লার মরদেহ উদ্ধারের মাধ্যমে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্তের পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেল। তবে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার পরেই পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পাঁচটি নিরপরাধ প্রাণের মৃত্যুর ঘটনায় এ যেন এক শোকাবহ সমাপ্তি।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ১৭ মে ২০২৬


কাপাসিয়া পাঁচ হত্যার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার মরদেহ পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার মরদেহ পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন লৌহজংয়ের মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ইলিয়াস।মরদেহ উদ্ধারের বিবরণপরিদর্শক মো. ইলিয়াস জানান, পদ্মা সেতু থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে লৌহজং উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা নৌ পুলিশে খবর দেয়। নৌ পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াগাজীপুরের ৫ হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার ভাই আব্দুল জব্বার ও কাপাসিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জুবায়ের রহমান লাশটি ফোরকানের বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেন। লাশটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।পদ্মা সেতু থেকে লাফানোর পূর্বাভাসএর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন জানান, অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা সেতু থেকে নদীতে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি জানান, পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখা গেছে, যাকে দেখে ফোরকান বলে ধারণা করছেন তার পরিবার ও মামলার বাদী। তবে মরদেহ উদ্ধার ও ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।ঘটনার পর তল্লাশি অভিযানপুলিশ সুপার আরও জানান, পাঁচ খুনের ঘটনার পরপরই প্রধান আসামি ফোরকানকে গ্রেপ্তারে তিনটি দল অভিযানে নামে। একটি দল গোপালগঞ্জে ফোরকানের গ্রামের বাড়ি এবং অপর একটি দল বেনাপোলে যায়, যাতে সে সীমান্ত পার হতে না পারে। পরে গত সোমবার (১১ মে) মেহেরপুরে এক বাস হেলপারের কাছ থেকে ফোরকানের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।সিসিটিভি ফুটেজের বর্ণনাজিজ্ঞাসাবাদে ওই হেলপার জানান, তিনি মোবাইলটি পদ্মা সেতু থেকে পেয়েছেন। এরপর পুলিশের একটি দল পদ্মা সেতুতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে। ফুটেজে দেখা যায়, একটি প্রাইভেটকার থেকে এক ব্যক্তি নেমে হাতের মোবাইলটি ফুটপাতের ওপর রাখেন। এরপর দুই থেকে তিন মিনিট অপেক্ষা করে রেলিং টপকে নদীতে লাফ দেন।শনাক্তে ভিডিও দেখানোপুলিশ কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি নিশ্চিত হতে মামলার বাদী (নিহত শারমিনের বাবা) এবং গোপালগঞ্জে ফোরকানের ভাই জব্বারসহ স্থানীয় কয়েকজনকে ভিডিওটি দেখানো হয়। তারা পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও তাদের কাছে মনে হয়েছে ভিডিওর ওই ব্যক্তিটিই ফোরকান। তবে চেহারা স্পষ্টভাবে দেখা না যাওয়ায় শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।গাড়ি ও মোবাইলের তথ্যপুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওর প্রাইভেটকারটি ঢাকার পল্টনের একটি ‘রেন্ট-এ-কার’ থেকে ভাড়া করেছিলেন ফোরকান। চালককে তিনি বলেছিলেন, এক আত্মীয় মারা যাওয়ায় সেখানে যাওয়ার জন্য গাড়িটি নিচ্ছেন। তবে অল্প সময়ের জন্য দেখায় চালক ফোরকানকে পুরোপুরি শনাক্ত করতে পারেনি। উদ্ধার হওয়া মোবাইলটি যে ফোরকানের, তা ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে।হত্যাকাণ্ডের পটভূমিউল্লেখ্য, শুক্রবার দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া। ফোরকান ছাড়া এই হত্যাকাণ্ডে দ্বিতীয় কারও সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।পদ্মা নদী থেকে ফোরকান মোল্লার মরদেহ উদ্ধারের মাধ্যমে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্তের পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেল। তবে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার পরেই পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পাঁচটি নিরপরাধ প্রাণের মৃত্যুর ঘটনায় এ যেন এক শোকাবহ সমাপ্তি।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা