ঢাকা    বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
গণবার্তা

দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের প্রায় ৫০টি শহর, উপজেলা ও গ্রাম দখল করছে ইসরায়েল

দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের প্রায় ৫০টি শহর, উপজেলা ও গ্রাম দখল করছে ইসরায়েল

দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের প্রায় ৫০টি শহর, উপজেলা ও গ্রামের মানুষকে মাত্র একদিনের ব্যবধানে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এসব এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী যেকোনো সময় বড় ধরনের হামলা চালিয়ে দখলে নিতে পারে। বুধবার (২৭ মে) প্রকাশিত আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে একের পর এক সতর্কবার্তা জারি করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তারা সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায়, যার ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সবচেয়ে বড় এবং কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ লেবাননের প্রধান শহর নাবিতাহের বাসিন্দাদের। সেখানে পুরো শহরের মানুষকে একযোগে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার ঝুঁকিতে থাকা সব এলাকার মানুষকে সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জাহরানি নদীর উত্তরে চলে যেতে হবে।

এই আকস্মিক ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, মানুষ তীব্র আতঙ্কে দ্রুত ঘরবাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়ছেন। বাসিন্দাদের কেউ গাড়িতে, কেউ মোটরসাইকেলে, আবার কেউ কেউ কেবল অতিপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হাতে নিয়ে পায়ে হেঁটে নিরাপদ স্থানের দিকে ছুটে যাচ্ছেন।

ইসরায়েলের প্রকাশ করা এই উচ্ছেদ তালিকায় দক্ষিণ লেবাননের বহু সুপরিচিত শহর ও গ্রামের নাম রয়েছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এলাকাগুলো হলো— জেবশিত, কফর সির, মাজদাল সিলম, মারাকা, জুয়াইয়া এবং দেইর কিফা।

ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বিশালসংখ্যক মানুষকে এলাকা ছাড়ার এই নির্দেশ চলমান পরিস্থিতির চরম ভয়াবহতার দিকেই ইঙ্গিত করছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আরও বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

ইসরায়েলের এই ব্যাপক উচ্ছেদ নির্দেশ লেবাননের বেসামরিক জনজীবনে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে। নাবিতাহের মতো বড় শহরের পুরো জনগোষ্ঠীকে এক দিনের নোটিশে ঘর ছাড়তে বলা হয়েছে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কাকে উসকে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত দ্রুত হস্তক্ষেপ করে আরও মানবিক বিপর্যয় ঠেকানো।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬


দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের প্রায় ৫০টি শহর, উপজেলা ও গ্রাম দখল করছে ইসরায়েল

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬

featured Image
দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের প্রায় ৫০টি শহর, উপজেলা ও গ্রামের মানুষকে মাত্র একদিনের ব্যবধানে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এসব এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী যেকোনো সময় বড় ধরনের হামলা চালিয়ে দখলে নিতে পারে। বুধবার (২৭ মে) প্রকাশিত আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে একের পর এক সতর্কবার্তা জারি করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তারা সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায়, যার ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।সবচেয়ে বড় এবং কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ লেবাননের প্রধান শহর নাবিতাহের বাসিন্দাদের। সেখানে পুরো শহরের মানুষকে একযোগে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার ঝুঁকিতে থাকা সব এলাকার মানুষকে সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জাহরানি নদীর উত্তরে চলে যেতে হবে।এই আকস্মিক ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, মানুষ তীব্র আতঙ্কে দ্রুত ঘরবাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়ছেন। বাসিন্দাদের কেউ গাড়িতে, কেউ মোটরসাইকেলে, আবার কেউ কেউ কেবল অতিপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হাতে নিয়ে পায়ে হেঁটে নিরাপদ স্থানের দিকে ছুটে যাচ্ছেন।ইসরায়েলের প্রকাশ করা এই উচ্ছেদ তালিকায় দক্ষিণ লেবাননের বহু সুপরিচিত শহর ও গ্রামের নাম রয়েছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এলাকাগুলো হলো— জেবশিত, কফর সির, মাজদাল সিলম, মারাকা, জুয়াইয়া এবং দেইর কিফা।ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বিশালসংখ্যক মানুষকে এলাকা ছাড়ার এই নির্দেশ চলমান পরিস্থিতির চরম ভয়াবহতার দিকেই ইঙ্গিত করছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আরও বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।ইসরায়েলের এই ব্যাপক উচ্ছেদ নির্দেশ লেবাননের বেসামরিক জনজীবনে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে। নাবিতাহের মতো বড় শহরের পুরো জনগোষ্ঠীকে এক দিনের নোটিশে ঘর ছাড়তে বলা হয়েছে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কাকে উসকে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত দ্রুত হস্তক্ষেপ করে আরও মানবিক বিপর্যয় ঠেকানো।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা