কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক কিশোরী অপহরণের ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা, পরে হামলাকারীদের ওপর পুলিশের নির্যাতন এবং ভিকটিমের ছবি প্রকাশের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযানে গিয়ে এক তরুণীকে উদ্ধার করে। এ সময় প্রেমিক-প্রেমিকাকে লাঠিপেটার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে অভিযুক্ত এসআই মোহাম্মদ আরকানুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
চকরিয়া থানার ওসি মনির হোসেন ভিকটিমের ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এটি ভিকটিমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে জনদৃষ্টি সরানোর চেষ্টা। অভিযোগ রয়েছে, ছবিটি আপত্তিকরভাবে ওসি নিজেই তুলেছেন এবং দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের তৎপরতা জাহির করেছেন। সমালোচনার মুখে ফেসবুক পেজটি পরে ডিএকটিভ করা হয়।
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৪ ধারা অনুযায়ী কোনো ধর্ষণ বা নির্যাতনের শিকার নারীর ছবি বা পরিচয় প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস. এম. জুলফিকার আলী জুনু জানান, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ভিকটিমের পরিচয় প্রকাশ মানবাধিকার ও আইনের পরিপন্থী।
ভিকটিমের ছবি প্রকাশের ঘটনায় ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে স্বরাষ্ট্রসচিব, আইজিপি, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও কক্সবাজারের পুলিশ সুপার বরাবর। নোটিশে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশের সকল ইউনিটকে নির্দেশনা জারির দাবি জানানো হয়েছে।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, ভিকটিমের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি, যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন