এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামের নানা নাটকীয়তায় ঠাসা বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মেক্সিকো। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শুভসূচনা করেছে স্বাগতিকরা। তিনটি লাল কার্ড ও সমান সংখ্যক হলুদ কার্ড—মোট ছয়টি কার্ডের ম্যাচটি অবশ্য যথেষ্ট একপেশে হয়েছে। মেক্সিকোর বিপক্ষে বল দখল, আক্রমণ কিংবা গোল, কোথাও পেরে ওঠেনি দক্ষিণ আফ্রিকা।
এর আগে বিশ্বকাপে সাতবার উদ্বোধনী ম্যাচ খেলেও একবারও জিততে পারেনি মেক্সিকো। ঘরের মাঠের সেই সুযোগে ৯৬ বছরের অভিশাপ কাটিয়ে দিয়েছে স্বাগতিকরা। অভিষেকের বাধা সহজেই টপকেছে তারা।
অভিশাপ মোচনের ম্যাচে ৮ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে জুলিয়ান কুইনোনেসের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক দল। ৬৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাউল জিমিনেজ। শেষ পর্যন্ত সেটিই গড়ে দিয়েছে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান। ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে উদ্বোধনী ম্যাচেই দুঃস্বপ্নের শুরু পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
ম্যাচের ৫ মিনিটের মাথায় রাউলের একটি শট দারুণ দক্ষতায় আটকে দিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস। তবে ৮ মিনিটের মাথায় স্কোরবোর্ড শূন্য রাখতে পারেননি তিনি। কুইনোনেসের ক্ষিপ্রতার কাছে হার মানতে হয়েছে। বিরতির আগে কুইনোনেসের আরেকটি শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে না এলে ব্যবধান আরও বাড়ত।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ম্যাচ যেন নাটকীয়ভাবে মোড় নিতে থাকে। ৪৮ মিনিটে গুতিয়েরেজকে ফাউল করে সিথোলে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দক্ষিণ আফ্রিকা ১০ জনের দলে পরিণত হয়। সেই সুযোগ দারুণভাবে লুফে নেয় মেক্সিকো।
৬৭ মিনিটে আলভারাদোর নিখুঁত ক্রসে রাউল জিমিনেজ অসাধারণ হেডে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মেক্সিকো। চতুর্থ বিশ্বকাপে খেলা রাউলের এটাই প্রথম বিশ্বকাপ গোল।
ম্যাচ শেষ হওয়ার ৬ মিনিট আগে জুয়ানে মেক্সিকান খেলোয়াড় আলভারাদোকে চড় মারার অপরাধে দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখলে সফরকারীরা ৯ জনের দলে নেমে আসে। তখনও নাটকীয়তার বাকি ছিল। যোগ করা সময়ে মাদ্দাওকে ফাউল করে বসেন মেক্সিকোর মন্তেস। সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। তবে ১০ জনের দলে পরিণ্ত হলেও ‘অভিষেকের বাধা’ সহজেই টপকেছে মেক্সিকো।
দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফের দেখা হয়েছিল মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার। ২০১০ সালের বিশ্বকাপের সেই স্মরণীয় ১-১ ড্রয়ের পর এবার মেক্সিকো হেসেখেলে হারাল দক্ষিণ আফ্রিকাকে। পরিসংখ্যান বলছে, ৬০ শতাংশ বল দখলে রেখে মেক্সিকো নিয়েছে ১৬টি শট। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা নিতে পেরেছে মাত্র ৩টি শট। রীতিমতো অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে তারা।
মেক্সিকান সমর্থকরা ম্যাচ শেষে মাঠে নেমে উল্লাস করে। আজতেকা স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৮০ হাজার দর্শক স্বাগতিক দলের অভিষেক জয় উদযাপন করেন। গ্রুপের অন্য দুটি দল দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক রিপাবলিক। এই জয়ের পর মেক্সিকোর পক্ষে গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে গেল।
দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস ম্যাচ শেষে বলেন, “আমরা খুব খারাপ খেলেছি। তিনটি লাল কার্ড কোনো দলের জন্যই স্বাভাবিক না। আমাদের খেলোয়াড়রা চাপ সামলাতে পারেনি। সামনে আমাদের আরও কঠিন ম্যাচ আছে, সেগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।”
অন্যদিকে মেক্সিকান কোচ হ্যাভিয়ের আগুয়েরে বলেন, “এটি দারুণ এক সন্ধ্যা। আমরা ইতিহাস গড়েছি। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আগে কখনো জিতিনি, আজ জিতেছি। দলের প্রতিটি খেলোয়াড়কে ধন্যবাদ।”
ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন গোলদাতা জুলিয়ান কুইনোনেস। তিনি বলেন, “সমর্থকদের সামনে গোল করা ও দলকে জয় এনে দেওয়া অসাধারণ অনুভূতি। এটি আমার ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত।”
এখন গ্রুপ ‘এ’-তে মেক্সিকোর ৩ পয়েন্ট। দক্ষিণ আফ্রিকা, চেক রিপাবলিক ও দক্ষিণ কোরিয়ার এখনো পয়েন্ট খোলা হয়নি। পরবর্তী ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে চেক রিপাবলিক। সেটি হবে গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচ।
বিষয় : ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন