ঢাকা    রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
গণবার্তা

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার

ঢাকা: পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ।

পুলিশ সদরদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুদকের মামলায় ইন্টারপোলের মাধ্যমেই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। গত ১২ জুন ইন্টারপোল একটি চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে।

বেনজীর আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে অবস্থান করছিলেন। তার বিরুদ্ধে পুলিশে চাকরিকালে অবৈধ সম্পদ অর্জন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। দুদক গত কয়েক বছরে এসব অভিযোগ তদন্ত করে মামলা দায়ের করে।

বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাধারণ মানুষ এই গ্রেপ্তারকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন। অনেকে দ্রুত তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন।

এক নাগরিক মন্তব্য করেন, “অবশেষে দুর্নীতিখ্যাত ও গণবিরোধী এই পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার। জাতির জন্য এটি মহা সুসংবাদ।”

আরেকজন লেখেন, “বিচারের দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে যদি দ্রুত তাকে ফিরিয়ে আনা যায়, তবে এ বার্তা সব দুর্নীতিবাজের জন্য অশনিসংকেত হবে।”

এর আগেও বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নানা বিতর্ক ছিল। তার আমলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা থাকলেও এতদিন তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করে আইনি প্রক্রিয়া ফাঁকি দিয়ে আসছিলেন।

পুলিশ সদরদপ্তর ও দুদক সূত্র জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুবাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এটা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থানেরই প্রতিফলন। কেউ আইনের বাইরে নয়—এই বার্তাই পৌঁছাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বেনজীর আহমেদ দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোতে জিজ্ঞাসাবাদ ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু করবে দুদক ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ।

এই গ্রেপ্তারকে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত বিচারের মাধ্যমে যেন এ মামলার নিষ্পত্তি হয়।

গণমাধ্যমের একাংশ জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদ দুবাই পুলিশের হেফাজতে আছেন। তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালতে হাজির করে পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকা হবে। বাংলাদেশ সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে তাকে দ্রুত দেশে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image
ঢাকা: পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ।পুলিশ সদরদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুদকের মামলায় ইন্টারপোলের মাধ্যমেই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। গত ১২ জুন ইন্টারপোল একটি চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে।বেনজীর আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে অবস্থান করছিলেন। তার বিরুদ্ধে পুলিশে চাকরিকালে অবৈধ সম্পদ অর্জন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। দুদক গত কয়েক বছরে এসব অভিযোগ তদন্ত করে মামলা দায়ের করে।বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাধারণ মানুষ এই গ্রেপ্তারকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন। অনেকে দ্রুত তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন।এক নাগরিক মন্তব্য করেন, “অবশেষে দুর্নীতিখ্যাত ও গণবিরোধী এই পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার। জাতির জন্য এটি মহা সুসংবাদ।”আরেকজন লেখেন, “বিচারের দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে যদি দ্রুত তাকে ফিরিয়ে আনা যায়, তবে এ বার্তা সব দুর্নীতিবাজের জন্য অশনিসংকেত হবে।”এর আগেও বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নানা বিতর্ক ছিল। তার আমলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা থাকলেও এতদিন তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করে আইনি প্রক্রিয়া ফাঁকি দিয়ে আসছিলেন।পুলিশ সদরদপ্তর ও দুদক সূত্র জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুবাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এটা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থানেরই প্রতিফলন। কেউ আইনের বাইরে নয়—এই বার্তাই পৌঁছাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বেনজীর আহমেদ দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোতে জিজ্ঞাসাবাদ ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু করবে দুদক ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ।এই গ্রেপ্তারকে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত বিচারের মাধ্যমে যেন এ মামলার নিষ্পত্তি হয়।গণমাধ্যমের একাংশ জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদ দুবাই পুলিশের হেফাজতে আছেন। তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালতে হাজির করে পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকা হবে। বাংলাদেশ সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে তাকে দ্রুত দেশে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা