ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

বিজিবির অভিযানে দুই মাসে ২৫টি পুশইন চেষ্টা প্রতিহত

বিজিবির অভিযানে দুই মাসে ২৫টি পুশইন চেষ্টা প্রতিহত

সরাইল রিজিয়নের প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার সীমান্তে গত দুই মাসে অন্তত ২৫টি পুশইন বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সর্বশেষ কুমিল্লার সালদা নদী সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা চারজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে কুমিল্লা ১০ ও ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের জব্দ করা মাদকদ্রব্য ধ্বংস অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিজিবির উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী এ তথ্য জানান।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ভারত থেকে পুশইন বা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি জানান, গত তিন বছরে কুমিল্লা ১০ ও ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ২০ হাজার ২০০টি অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৫২ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে। এই সব অভিযানে মাদকসহ ৫২৬ জনকে আটক করা হয়েছে এবং আড়াই শতাধিক আসামি এখনও পলাতক।

অনুষ্ঠানে কুমিল্লা ১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কুমিল্লা ১০ ব্যাটালিয়ন এবং ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সুলতানপুর ৬০ ব্যাটালিয়নের অভিযানে মোট ৫১ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ১২৫ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে।

উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩৪ হাজার ২৩৫ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল, ৩৪ হাজার ১৭২ বোতল স্কাফ সিরাপ, ১৮ হাজার ৪৯ বোতল বিয়ার, ৮৪ হাজার ৯৫৮ বোতল হুইস্কি, ২৩ হাজার ৯৮১ কেজি গাঁজা, ৩ লাখ ১০ হাজার ৫৯৮টি ইয়াবা এবং ২৪ দশমিক ৫ লিটার খোলা মদ। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট, ইনজেকশন, সিরাপ, হার্বাল ওষুধ, সিগারেট, জর্দা ও বিড়িও উদ্ধার করা হয়েছে।

বিজিবি জানায়, কুমিল্লা ১০ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ৯৬ দশমিক ১০ কিলোমিটার এবং সুলতানপুর ৬০ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ৭৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার সীমান্ত দিয়ে এসব মাদক দেশে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। বিজিবির একক অভিযান ও বিভিন্ন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে এই সব মাদক জব্দ করা হয়েছে। জনসচেতনতা তৈরির অংশ হিসেবে উদ্ধার করা মাদক প্রকাশ্যে ধ্বংস করা হয়।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার বলেন, সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানে বিজিবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান বন্ধে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রিজিয়ন কমান্ডার সাইফুল ইসলাম বলেন, মাদক ধ্বংসের এই আয়োজন প্রতীকী। পুরো উত্তর-পূর্ব রিজিয়নে উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ আরও বেশি। তিনি মাদকের সরবরাহ চেইন ভেঙে দিতে জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেন।

বিষয় : বিজিবি #বিজিবি

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬


বিজিবির অভিযানে দুই মাসে ২৫টি পুশইন চেষ্টা প্রতিহত

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬

featured Image
সরাইল রিজিয়নের প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার সীমান্তে গত দুই মাসে অন্তত ২৫টি পুশইন বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সর্বশেষ কুমিল্লার সালদা নদী সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা চারজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে কুমিল্লা ১০ ও ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের জব্দ করা মাদকদ্রব্য ধ্বংস অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিজিবির উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী এ তথ্য জানান।ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ভারত থেকে পুশইন বা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি জানান, গত তিন বছরে কুমিল্লা ১০ ও ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ২০ হাজার ২০০টি অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৫২ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে। এই সব অভিযানে মাদকসহ ৫২৬ জনকে আটক করা হয়েছে এবং আড়াই শতাধিক আসামি এখনও পলাতক।অনুষ্ঠানে কুমিল্লা ১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কুমিল্লা ১০ ব্যাটালিয়ন এবং ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সুলতানপুর ৬০ ব্যাটালিয়নের অভিযানে মোট ৫১ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ১২৫ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে।উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩৪ হাজার ২৩৫ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল, ৩৪ হাজার ১৭২ বোতল স্কাফ সিরাপ, ১৮ হাজার ৪৯ বোতল বিয়ার, ৮৪ হাজার ৯৫৮ বোতল হুইস্কি, ২৩ হাজার ৯৮১ কেজি গাঁজা, ৩ লাখ ১০ হাজার ৫৯৮টি ইয়াবা এবং ২৪ দশমিক ৫ লিটার খোলা মদ। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট, ইনজেকশন, সিরাপ, হার্বাল ওষুধ, সিগারেট, জর্দা ও বিড়িও উদ্ধার করা হয়েছে।বিজিবি জানায়, কুমিল্লা ১০ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ৯৬ দশমিক ১০ কিলোমিটার এবং সুলতানপুর ৬০ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ৭৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার সীমান্ত দিয়ে এসব মাদক দেশে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। বিজিবির একক অভিযান ও বিভিন্ন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে এই সব মাদক জব্দ করা হয়েছে। জনসচেতনতা তৈরির অংশ হিসেবে উদ্ধার করা মাদক প্রকাশ্যে ধ্বংস করা হয়।কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার বলেন, সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানে বিজিবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান বন্ধে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।রিজিয়ন কমান্ডার সাইফুল ইসলাম বলেন, মাদক ধ্বংসের এই আয়োজন প্রতীকী। পুরো উত্তর-পূর্ব রিজিয়নে উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ আরও বেশি। তিনি মাদকের সরবরাহ চেইন ভেঙে দিতে জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেন।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা