ঢাকা    সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
গণবার্তা

জামায়াতের তীব্র প্রতিবাদ

জামায়াতের নারী সাংসদের পোশাক নিয়ে বিএনপির এম্পির কটাক্ষে সংসদে হট্টগোল

জামায়াতের নারী সাংসদের পোশাক নিয়ে বিএনপির এম্পির কটাক্ষে সংসদে হট্টগোল

জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। রবিবার (১৪ জুন) তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে উভয়পক্ষের মধ্যে হট্টগোল তৈরি হয়। একপর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনলেও বিরতির পর ফের বিতর্ক ছড়ায়।

বাজেট নিয়ে বক্তৃতা করতে গিয়ে জামায়াতের নারী সংসদ সদস্যদের প্রতি ইঙ্গিত করে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আমাদের হাউসে আমাদের বোনেরা আসছেন এমপি হয়ে। আপনি অভিনন্দন জানিয়েছেন, আমিও অভিনন্দন জানিয়েছি। সবাই মেধাবী। দুইজনের বক্তৃতা শুনছি, আগামী দিনে কিছু করতে পারবে। ভালো শিক্ষা আছে, লেখাপড়া জানা। কিন্তু বুঝলাম না তো আপনারা কারা? আপনারা এদিকে দেখতে পারেন, আমরা এদিকে দেখলে কি আছে এটা বুঝব না, এটা ঠিক না।”

এই বক্তব্যের পরই বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা উঠে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। আসন থেকে চিৎকার করে প্রতিক্রিয়া জানান তাঁরা।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তখন মনিরুল হক চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “মাননীয় সদস্য, ব্যক্তিগত ফ্রিডম নিয়ে কথা বলা উচিত না। এটা ঠিক না। আপনি যে বক্তব্য দিয়েছেন পার্সোনাল ফ্রিডম নিয়ে, এই অংশটুকু এক্সপাঞ্চ (বাদ) করা হলো।”

স্পিকারের এই নির্দেশনার পর সংসদ সদস্য তাঁর বাজেট বক্তৃতা চালিয়ে যান। তবে বিষয়টি সেখানেই থামেনি। কিছুক্ষণ পর সংসদ মূলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার। আধা ঘণ্টার বিরতি শেষে ফের বৈঠক শুরু হলে এ বিষয়ে কথা বলতে চান বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

স্পিকারের অনুমতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আজকে উনি উনার বক্তব্যে যা বলেছেন তা আসলে সংসদীয় রীতিনীতি এবং আমাদের সাংবিধানিক অধিকার—সকল কিছুর সীমা অতিক্রম করে গিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “উনি উনার বক্তব্যে আমাদের নারী সংসদ সদস্যদের তাদের পোশাক নিয়ে যে ধরনের কথা বললেন, তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে হরণ করার যে ধরনের বক্তব্য দিলেন, আমরা মনে করি এটি একটি অমার্জনীয় অপরাধ। প্রত্যেকটা ব্যক্তির গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তার ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে, পোশাকের স্বাধীনতা রয়েছে। উনি একজন সংসদ সদস্য হিসেবে সেই স্বাধীনতাকে লঙ্ঘন করে এই ধরনের হীন বক্তব্য দিয়েছেন।”

নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, এ বক্তব্যে একটি বর্ণবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সংসদে এ ধরনের বক্তব্য আর উচ্চারিত হবে না।

নাহিদ ইসলামের বক্তব্য শেষ হতে না হতেই প্রতিবাদ জানান পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, “এই সংসদে আমার তিনবার আসার সুযোগ হয়েছে। আমরা পার্লামেন্টে অনেক কথাবার্তা পক্ষে-বিপক্ষে, অনেক সময় হাসি ঠাট্টার আলোকেও কথা চলে আসে।”

পানি সম্পদ মন্ত্রী আরও বলেন, “মনিরুল হক চৌধুরী এমন কোনো কথা বলেননি যে স্পেসিফিক কাউকে আঘাত করে এবং ব্যক্তিগতভাবে এমন কোনো কথা বলেছেন যেটার জন্য এখানে এক্সপাঞ্জ করার মতো কিছু আসবে।”

এরপর উভয়পক্ষের মধ্যে প্রায় ৫ মিনিট ধরে হট্টগোল চলতে থাকে। পরে স্পিকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অধিবেশন চালিয়ে নেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর দুই নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁরা সংসদে ধর্মীয় পোশাকে উপস্থিত হন। মনিরুল হক চৌধুরীর মন্তব্য প্রসঙ্গে আজকের অধিবেশনে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ সংসদ সদস্যের বক্তব্যকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন, এটি তেমন গুরুতর কিছু নয়।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


জামায়াতের নারী সাংসদের পোশাক নিয়ে বিএনপির এম্পির কটাক্ষে সংসদে হট্টগোল

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image
জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। রবিবার (১৪ জুন) তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে উভয়পক্ষের মধ্যে হট্টগোল তৈরি হয়। একপর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনলেও বিরতির পর ফের বিতর্ক ছড়ায়।বাজেট নিয়ে বক্তৃতা করতে গিয়ে জামায়াতের নারী সংসদ সদস্যদের প্রতি ইঙ্গিত করে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আমাদের হাউসে আমাদের বোনেরা আসছেন এমপি হয়ে। আপনি অভিনন্দন জানিয়েছেন, আমিও অভিনন্দন জানিয়েছি। সবাই মেধাবী। দুইজনের বক্তৃতা শুনছি, আগামী দিনে কিছু করতে পারবে। ভালো শিক্ষা আছে, লেখাপড়া জানা। কিন্তু বুঝলাম না তো আপনারা কারা? আপনারা এদিকে দেখতে পারেন, আমরা এদিকে দেখলে কি আছে এটা বুঝব না, এটা ঠিক না।”এই বক্তব্যের পরই বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা উঠে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। আসন থেকে চিৎকার করে প্রতিক্রিয়া জানান তাঁরা।ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তখন মনিরুল হক চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “মাননীয় সদস্য, ব্যক্তিগত ফ্রিডম নিয়ে কথা বলা উচিত না। এটা ঠিক না। আপনি যে বক্তব্য দিয়েছেন পার্সোনাল ফ্রিডম নিয়ে, এই অংশটুকু এক্সপাঞ্চ (বাদ) করা হলো।”স্পিকারের এই নির্দেশনার পর সংসদ সদস্য তাঁর বাজেট বক্তৃতা চালিয়ে যান। তবে বিষয়টি সেখানেই থামেনি। কিছুক্ষণ পর সংসদ মূলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার। আধা ঘণ্টার বিরতি শেষে ফের বৈঠক শুরু হলে এ বিষয়ে কথা বলতে চান বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।স্পিকারের অনুমতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আজকে উনি উনার বক্তব্যে যা বলেছেন তা আসলে সংসদীয় রীতিনীতি এবং আমাদের সাংবিধানিক অধিকার—সকল কিছুর সীমা অতিক্রম করে গিয়েছে।”তিনি আরও বলেন, “উনি উনার বক্তব্যে আমাদের নারী সংসদ সদস্যদের তাদের পোশাক নিয়ে যে ধরনের কথা বললেন, তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে হরণ করার যে ধরনের বক্তব্য দিলেন, আমরা মনে করি এটি একটি অমার্জনীয় অপরাধ। প্রত্যেকটা ব্যক্তির গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তার ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে, পোশাকের স্বাধীনতা রয়েছে। উনি একজন সংসদ সদস্য হিসেবে সেই স্বাধীনতাকে লঙ্ঘন করে এই ধরনের হীন বক্তব্য দিয়েছেন।”নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, এ বক্তব্যে একটি বর্ণবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সংসদে এ ধরনের বক্তব্য আর উচ্চারিত হবে না।নাহিদ ইসলামের বক্তব্য শেষ হতে না হতেই প্রতিবাদ জানান পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, “এই সংসদে আমার তিনবার আসার সুযোগ হয়েছে। আমরা পার্লামেন্টে অনেক কথাবার্তা পক্ষে-বিপক্ষে, অনেক সময় হাসি ঠাট্টার আলোকেও কথা চলে আসে।”পানি সম্পদ মন্ত্রী আরও বলেন, “মনিরুল হক চৌধুরী এমন কোনো কথা বলেননি যে স্পেসিফিক কাউকে আঘাত করে এবং ব্যক্তিগতভাবে এমন কোনো কথা বলেছেন যেটার জন্য এখানে এক্সপাঞ্জ করার মতো কিছু আসবে।”এরপর উভয়পক্ষের মধ্যে প্রায় ৫ মিনিট ধরে হট্টগোল চলতে থাকে। পরে স্পিকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অধিবেশন চালিয়ে নেন।উল্লেখ্য, সম্প্রতি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর দুই নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁরা সংসদে ধর্মীয় পোশাকে উপস্থিত হন। মনিরুল হক চৌধুরীর মন্তব্য প্রসঙ্গে আজকের অধিবেশনে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ সংসদ সদস্যের বক্তব্যকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন, এটি তেমন গুরুতর কিছু নয়।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা