ঢাকা    সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
গণবার্তা

বাতিল হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের ‘বিশেষ সুবিধা’

বাতিল হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের ‘বিশেষ সুবিধা’

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য চালু থাকা ‘বিশেষ সুবিধা’ বা বিশেষ ইনক্রিমেন্ট আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে বাতিল হতে পারে। কারণ ওই সময় থেকে নবম পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেলের আওতায় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন (বেসিক) সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। বেতন কাঠামোয় এ ধরনের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হওয়ায় বর্তমানে চালু থাকা বিশেষ সুবিধা নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রত্যাহার করা হবে।বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত সরকারি চাকরিজীবীরা মূল বেতনের অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা ভোগ করছেন। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা পাচ্ছেন ১০ শতাংশ বিশেষ সুবিবিধা। 

২০২৩ সালের জুলাই থেকে এই বিশেষ সুবিধা চালু করা হয়েছিল, যেখানে সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা এবং পেনশনভোগীদের জন্য সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা হারে প্রদেয় ছিল। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে তিন ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়িত হবে:

  • প্রথম ধাপ (১ জুলাই ২০২৬ থেকে): মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি 
  • দ্বিতীয় ধাপ (২০২৭-২৮ অর্থবছর): বাকি ৫০ শতাংশ মূল বেতন সমন্বয় 
  • তৃতীয় ধাপ (২০২৮-২৯ অর্থবছর): ভাতাগুলো নতুন কাঠামো অনুযায়ী বাস্তবায়ন সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পর ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের মূল বেতন প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন বাড়বে প্রায় ৪০ শতাংশ। ফলে বিদ্যমান বিশেষ সুবিধা বহাল রাখার প্রয়োজনীয়তা থাকবে না এবং তা বাতিল করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশেষ সুবিধা ছিল একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা। ২০২৩ সালে যখন এটি চালু করা হয়েছিল, তখন তখনকার অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে-স্কেলের জন্য বেতন কমিশন গঠন করেছিল। সেই কমিশন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।  এখন যেহেতু নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে এবং তাতে মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে, তাই বিশেষ সুবিধা আর প্রয়োজন নেই। একজন কর্মকর্তার উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে:

বর্তমানে ৫০ হাজার টাকা মূল বেতনের কর্মকর্তা পাচ্ছেন ৫০ হাজার + ১০% বিশেষ সুবিধা (৫ হাজার) = ৫৫ হাজার টাকা (মোট বেতন) । নতুন পে-স্কেলে (প্রথম ধাপে ৫০% বাড়লে) তাঁর মূল বেতন হবে ৭৫ হাজার টাকা। বিশেষ সুবিধা ছাড়াই তিন ধাপ শেষে এই কর্মকর্তার মূল বেতন হবে ১ লাখ টাকা, যা বর্তমান বিশেষ সুবিধাসহ বেতনের প্রায় দ্বিগুণ।

সরকার ঘোষণা করেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে।  সেই তারিখ থেকেই নতুন পে-স্কেলের আওতায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতন বৃদ্ধি পেতে শুরু করবেন। আর ওই দিন থেকেই বিদ্যমান ‘বিশেষ সুবিধা’ বাতিল হয়ে যাবে।

পেনশনভোগীদের জন্য বিশেষ সুবিধা কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী পেনশনও বাড়বে, এবং সেটি পেনশনভোগীদের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ সুবিধার চেয়ে বেশি উপকারী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার আগামী ৩০ জুনের মধ্যে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে পারে, যেখানে সব বিস্তারিত জানানো হবে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


বাতিল হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের ‘বিশেষ সুবিধা’

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য চালু থাকা ‘বিশেষ সুবিধা’ বা বিশেষ ইনক্রিমেন্ট আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে বাতিল হতে পারে। কারণ ওই সময় থেকে নবম পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার।অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেলের আওতায় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন (বেসিক) সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। বেতন কাঠামোয় এ ধরনের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হওয়ায় বর্তমানে চালু থাকা বিশেষ সুবিধা নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রত্যাহার করা হবে।বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত সরকারি চাকরিজীবীরা মূল বেতনের অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা ভোগ করছেন। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা পাচ্ছেন ১০ শতাংশ বিশেষ সুবিবিধা। ২০২৩ সালের জুলাই থেকে এই বিশেষ সুবিধা চালু করা হয়েছিল, যেখানে সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা এবং পেনশনভোগীদের জন্য সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা হারে প্রদেয় ছিল। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে তিন ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়িত হবে:প্রথম ধাপ (১ জুলাই ২০২৬ থেকে): মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি দ্বিতীয় ধাপ (২০২৭-২৮ অর্থবছর): বাকি ৫০ শতাংশ মূল বেতন সমন্বয় তৃতীয় ধাপ (২০২৮-২৯ অর্থবছর): ভাতাগুলো নতুন কাঠামো অনুযায়ী বাস্তবায়ন সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পর ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের মূল বেতন প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন বাড়বে প্রায় ৪০ শতাংশ। ফলে বিদ্যমান বিশেষ সুবিধা বহাল রাখার প্রয়োজনীয়তা থাকবে না এবং তা বাতিল করা হবে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশেষ সুবিধা ছিল একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা। ২০২৩ সালে যখন এটি চালু করা হয়েছিল, তখন তখনকার অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে-স্কেলের জন্য বেতন কমিশন গঠন করেছিল। সেই কমিশন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।  এখন যেহেতু নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে এবং তাতে মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে, তাই বিশেষ সুবিধা আর প্রয়োজন নেই। একজন কর্মকর্তার উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে:বর্তমানে ৫০ হাজার টাকা মূল বেতনের কর্মকর্তা পাচ্ছেন ৫০ হাজার + ১০% বিশেষ সুবিধা (৫ হাজার) = ৫৫ হাজার টাকা (মোট বেতন) । নতুন পে-স্কেলে (প্রথম ধাপে ৫০% বাড়লে) তাঁর মূল বেতন হবে ৭৫ হাজার টাকা। বিশেষ সুবিধা ছাড়াই তিন ধাপ শেষে এই কর্মকর্তার মূল বেতন হবে ১ লাখ টাকা, যা বর্তমান বিশেষ সুবিধাসহ বেতনের প্রায় দ্বিগুণ।সরকার ঘোষণা করেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে।  সেই তারিখ থেকেই নতুন পে-স্কেলের আওতায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতন বৃদ্ধি পেতে শুরু করবেন। আর ওই দিন থেকেই বিদ্যমান ‘বিশেষ সুবিধা’ বাতিল হয়ে যাবে।পেনশনভোগীদের জন্য বিশেষ সুবিধা কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী পেনশনও বাড়বে, এবং সেটি পেনশনভোগীদের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ সুবিধার চেয়ে বেশি উপকারী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার আগামী ৩০ জুনের মধ্যে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে পারে, যেখানে সব বিস্তারিত জানানো হবে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা