যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, নৌ সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯ জুলাই রাত ১০টায় (যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময়) এসব অভিযান শেষ হয়। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর সম্ভাব্য হামলার সক্ষমতা কমাতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে সেন্টকম জানিয়েছে, তাদের বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আরও অভিযান চালাতে প্রস্তুত।
এদিকে ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খোরমোজ শহরের একটি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। হামলার পর শহরের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় বলে স্থানীয় কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। খোরমোজ শহরটি বুশেহর প্রদেশের দাশতি জেলার প্রশাসনিক কেন্দ্র। এটি হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অবস্থিত এবং সেখানে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সামরিক স্থাপনা রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের বার্তা সংস্থা মেহের বলছে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের কেরমানশাহ প্রদেশের ইসলামাবাদ-ই-গার্ব এলাকার আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থাটি আরও জানায়, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স পরিচালিত উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইরানের সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ড্রোনটি গুলি করে নামানো হয়।
জর্ডানের আকাবা বিমানবন্দরে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানে শক্তিশালী ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধনের দাবি করেছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। একই সঙ্গে পশ্চিম ইরানের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করারও দাবি করেছে তারা। তেহরানের দাবি অনুযায়ী এই হামলায় মার্কিন সি-১৭ পরিবহণ বিমান এবং পি-৮ কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল বিমান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং এতে বেশ কয়েকটি বিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইআরজিসি তাদের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অপারেশন নাসর ২-এর ২১তম তরঙ্গের অংশ হিসেবে এই নিখুঁত আক্রমণ পরিচালনা করা হয়। তারা দাবি করেছে, জর্ডানের স্থানীয় জনগণের সরবরাহ করা গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে আইআরজিসি আরও উল্লেখ করেছে, এর আগে জর্ডানের আজরাক এলাকায় মার্কিন ঘাঁটিতে যে রকেট হামলা চালানো হয়েছিল, সেটিও জর্ডানের নাগরিকদের দেওয়া তথ্যের সহায়তায় সম্ভব হয়েছিল এবং সেই হামলায় ২০টি সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের পাশাপাশি ডজনখানেক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিল।
গত জুন মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুটি দেশের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান হামলার জবাবে তেহরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পালটা জোরালো হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন