ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিবৃতির ব্যাখ্যা চেয়ে রাষ্ট্রদূতকে তলব

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিবৃতির ব্যাখ্যা চেয়ে রাষ্ট্রদূতকে তলব

তিন লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারের দেওয়া বিবৃতির ব্যাখ্যা চেয়ে ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হাজির হন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত। এ সময় রোহিঙ্গাদের সংখ্যা নিয়ে মিয়ানমারের দেওয়া তথ্যকে ভুল উল্লেখ করে ঢাকা জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের নিবন্ধিত তথ্যই গ্রহণযোগ্য।

বিবিসি বাংলাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এবং অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব এ কে এম শহীদুল করিম বলেছেন, ‘মিয়ানমার থেকে যে একটা স্টেটমেন্ট ইস্যু হয়েছে সে বিষয়ে আলোচনার জন্য তাকে ডাকা হয়েছে।’

এর আগে, শনিবার মিয়ানমার সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় তিন লাখের বেশি মানুষ দেশটির রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা। রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে তারা প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে দেশে ফেরত নিতে ইচ্ছুক। ওই বিবৃতিতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ‘বাঙালি’ বলে উল্লেখ করা হয়। এরপরই মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলবের এই পদক্ষেপ নিল ঢাকা।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিয়ানমারের এই বিবৃতি বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে রয়েছে, যাদের অধিকাংশই ২০১৭ সালের সামরিক অভিযানের পর পালিয়ে আসেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনে মিয়ানমারের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। ঢাকা স্পষ্ট জানিয়েছে, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র সমাধান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না দেওয়া পর্যন্ত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে না। মিয়ানমারের বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলে অভিহিত করাকে বাংলাদেশ অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করে। ঢাকা আশা করছে, মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে এগিয়ে আসবে।

বিষয় : কূটনীতি

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিবৃতির ব্যাখ্যা চেয়ে রাষ্ট্রদূতকে তলব

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image
তিন লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারের দেওয়া বিবৃতির ব্যাখ্যা চেয়ে ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হাজির হন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত। এ সময় রোহিঙ্গাদের সংখ্যা নিয়ে মিয়ানমারের দেওয়া তথ্যকে ভুল উল্লেখ করে ঢাকা জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের নিবন্ধিত তথ্যই গ্রহণযোগ্য।বিবিসি বাংলাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এবং অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব এ কে এম শহীদুল করিম বলেছেন, ‘মিয়ানমার থেকে যে একটা স্টেটমেন্ট ইস্যু হয়েছে সে বিষয়ে আলোচনার জন্য তাকে ডাকা হয়েছে।’এর আগে, শনিবার মিয়ানমার সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় তিন লাখের বেশি মানুষ দেশটির রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা। রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে তারা প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে দেশে ফেরত নিতে ইচ্ছুক। ওই বিবৃতিতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ‘বাঙালি’ বলে উল্লেখ করা হয়। এরপরই মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলবের এই পদক্ষেপ নিল ঢাকা।বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিয়ানমারের এই বিবৃতি বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে রয়েছে, যাদের অধিকাংশই ২০১৭ সালের সামরিক অভিযানের পর পালিয়ে আসেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনে মিয়ানমারের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। ঢাকা স্পষ্ট জানিয়েছে, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র সমাধান।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না দেওয়া পর্যন্ত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে না। মিয়ানমারের বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলে অভিহিত করাকে বাংলাদেশ অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করে। ঢাকা আশা করছে, মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে এগিয়ে আসবে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা