ঢাকা    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট, চাঁদাবাজির অভিযোগ

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট, চাঁদাবাজির অভিযোগ

ঢাকা: চাঁদা না দেওয়ায় রাজধানীর ইসিবি চত্বরে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের নতুন সৃজনশীল স্টুডিওতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা স্টুডিওতে থাকা মূল্যবান ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, শুটিং সরঞ্জাম, কর্মীদের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ লুট করে নিয়ে গেছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগ, চাঁদা দাবি করার পর তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা প্রতিশোধমূলকভাবে এ হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।

ঘটনার সময় সালমান মুক্তাদির ঢাকার বাইরে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত বিমানে করে ঢাকায় ফিরে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিওতে উপস্থিত হন তিনি। সেখানে ফেসবুক লাইভে এসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া স্টুডিওর চিত্র তুলে ধরেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ক্ষোভ ও শ্লেষ প্রকাশ করেন।

স্টুডিওর এক প্রত্যক্ষদর্শী কর্মকর্তা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন লোক হঠাৎ করে ভেতরে ঢুকে তাণ্ডব শুরু করে। তাদের কয়েকজনের হাতে ধারালো চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। প্রাণভয়ে অফিসের কর্মীরা শৌচাগারে গিয়ে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানেও ঢুকে অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। তবে ঘটনায় কোনো কর্মী শারীরিকভাবে গুরুতর আহত হননি।

লাইভে এসে সালমান মুক্তাদির বলেন, “আজকে আমাদের লাস্ট ব্রাউনফিশ (Brownfish) স্টুডিওর শুট। একটু আগে এখানে অ্যাটাক হয়েছিল। আর এই পুরা অ্যাটাকে আমাদের ফুল স্টুডিও ডেস্ট্রয় হয়ে গেছে।” তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ব্যঙ্গ করে বলেন, “এই ভিডিওটা শুধুমাত্র খুবই স্পেশালি বানানো আমাদের যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ওনার জন্য। আপনি প্লিজ কোনো টেনশন নিবেন না। দিস ইজ নরমাল ইন বাংলাদেশ। দ্যাটস হোয়াই আই অ্যাম স্মাইলিং।”

তিনি আরও দাবি করেন, এমন নান্দনিক স্টুডিও দেশের মূলধারার চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনেও (এফডিসি) ছিল না। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এমন একটা দেশ, যেই দেশে যদি আপনি কিছু করতে চান, অ্যান্ড এইটা করার সময় যদি আপনি কারো তোষামোদি না করেন, আপনার যদি কোনো ব্যাকআপ না থাকে, আপনি যদি কোনো পার্টিকে ফলো না করেন, আপনি যদি সিকিউরিটি টাকাপয়সা দিয়ে কিনতে না পারেন—দিস ইজ হোয়াট হ্যাপেনস টু ইউ!”

বিএনপিকে সরাসরি দায়ী করে সালমান বলেন, “হুএভার ব্রোক দিস—এই বিএনপির লোকজন যারা করছে এটা—তোমাদের চাঁদাবাজি ক্যান নট টেক অ্যাওয়ে মাই ড্রিম! তোমাদের চাঁদাবাজি তোমাদেরকে এই যে ফকিন্নি, মিসকিন রাখছে এইজন্য বিকজ তোমরা স্বপ্ন দেখতে পারো না। তোমরা যতকিছু চুরি করে ফেলো, চাঁদাবাজি করে ফেলো, তোমরা এর থেকে বড় আর হইতে পারবা না। দিস ইজ ইওর লেভেল।”

হামলার পর কান্নারত তরুণ সহকর্মীদের বুকে জড়িয়ে সান্ত্বনা দেন তিনি। কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “তোমরা কান্নাকাটি করিস না। দিস ইজ নাথিং। তোমরা সালমান মুক্তাদিরকে চেনো নাই! আমি এর থেকে বড় কিছু করব, ইনশাআল্লাহ। আমরা কালকে থেকেই আবার কাজ শুরু করব।” তিনি উল্লেখ করেন, স্টুডিওটি গড়ে তুলতে তার স্ত্রী দিনের পর দিন নিজে দাঁড়িয়ে কাজ তদারকি করেছেন এবং সহকর্মীরা রাত জেগে পাহারা দিয়েছেন।

আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে সালমান জানান, আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ জন ক্লায়েন্টের শুটিংয়ের মূল্যবান ফুটেজ ও কাজ স্টুডিওর সিস্টেমে জমা ছিল। সবকিছু খোয়া যাওয়ায় সামগ্রিক ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একটি মামলা দায়ের করা হবে।

ভিডিওর শেষভাগে তিনি আবারও প্রশাসন ও দেশের বাস্তবতাকে কটাক্ষ করে বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আপনি এটা নিয়ে একদম টেনশন কইরেন না। আপনার জন্য এই ভিডিওটা না, বাংলাদেশি মানুষের জন্য এই ভিডিও। ইফ ইউ ওয়ান্ট টু স্টে ইন বাংলাদেশ, প্লিজ চাটুকারিতা করে চাঁদাবাজিকে সাপোর্ট করবেন, যাতে এই ধরনের কাহিনী আপনাদের সাথে না হয়। অ্যান্ড সালাহউদ্দিন আহমদ, গ্রেট জব! আই লাভ ইওর ওয়ার্ক। থ্যাংক ইউ সো মাচ। বিএনপি জোস কাজ করছে।”

‘পরিবর্তনের পরও চাঁদাবাজের ভয় নিয়ে চলতে হয়, তাহলে সেই পরিবর্তনের অর্থ কী’

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা চালানো হয়েছে।

পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় অনেকে নীরব থাকলেও সালমান মুক্তাদির প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও আশ্রয়ের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও তিনি বলেছিলেন বলে উল্লেখ করেন পাটওয়ারী।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও যদি একজন নাগরিককে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের ভয় নিয়ে চলতে হয়, তাহলে সেই পরিবর্তনের অর্থ কী। এ ধরনের হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষ এক ধরনের জুলুম থেকে মুক্ত হয়ে আরেক ধরনের জুলুমের মধ্যে পড়ার জন্য জুলাইয়ে আন্দোলন করেনি।

এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা স্টুডিওর সিসি ক্যামেরা, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায়। পাশাপাশি স্টুডিওর বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আসবাব ভাঙচুর করা হয়।

তবে হামলার পেছনে চাঁদাবাজির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার পোস্টে হামলাটির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট, চাঁদাবাজির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
ঢাকা: চাঁদা না দেওয়ায় রাজধানীর ইসিবি চত্বরে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের নতুন সৃজনশীল স্টুডিওতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা স্টুডিওতে থাকা মূল্যবান ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, শুটিং সরঞ্জাম, কর্মীদের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ লুট করে নিয়ে গেছে।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগ, চাঁদা দাবি করার পর তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা প্রতিশোধমূলকভাবে এ হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।ঘটনার সময় সালমান মুক্তাদির ঢাকার বাইরে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত বিমানে করে ঢাকায় ফিরে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিওতে উপস্থিত হন তিনি। সেখানে ফেসবুক লাইভে এসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া স্টুডিওর চিত্র তুলে ধরেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ক্ষোভ ও শ্লেষ প্রকাশ করেন।স্টুডিওর এক প্রত্যক্ষদর্শী কর্মকর্তা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন লোক হঠাৎ করে ভেতরে ঢুকে তাণ্ডব শুরু করে। তাদের কয়েকজনের হাতে ধারালো চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। প্রাণভয়ে অফিসের কর্মীরা শৌচাগারে গিয়ে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানেও ঢুকে অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। তবে ঘটনায় কোনো কর্মী শারীরিকভাবে গুরুতর আহত হননি।লাইভে এসে সালমান মুক্তাদির বলেন, “আজকে আমাদের লাস্ট ব্রাউনফিশ (Brownfish) স্টুডিওর শুট। একটু আগে এখানে অ্যাটাক হয়েছিল। আর এই পুরা অ্যাটাকে আমাদের ফুল স্টুডিও ডেস্ট্রয় হয়ে গেছে।” তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ব্যঙ্গ করে বলেন, “এই ভিডিওটা শুধুমাত্র খুবই স্পেশালি বানানো আমাদের যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ওনার জন্য। আপনি প্লিজ কোনো টেনশন নিবেন না। দিস ইজ নরমাল ইন বাংলাদেশ। দ্যাটস হোয়াই আই অ্যাম স্মাইলিং।”তিনি আরও দাবি করেন, এমন নান্দনিক স্টুডিও দেশের মূলধারার চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনেও (এফডিসি) ছিল না। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এমন একটা দেশ, যেই দেশে যদি আপনি কিছু করতে চান, অ্যান্ড এইটা করার সময় যদি আপনি কারো তোষামোদি না করেন, আপনার যদি কোনো ব্যাকআপ না থাকে, আপনি যদি কোনো পার্টিকে ফলো না করেন, আপনি যদি সিকিউরিটি টাকাপয়সা দিয়ে কিনতে না পারেন—দিস ইজ হোয়াট হ্যাপেনস টু ইউ!”বিএনপিকে সরাসরি দায়ী করে সালমান বলেন, “হুএভার ব্রোক দিস—এই বিএনপির লোকজন যারা করছে এটা—তোমাদের চাঁদাবাজি ক্যান নট টেক অ্যাওয়ে মাই ড্রিম! তোমাদের চাঁদাবাজি তোমাদেরকে এই যে ফকিন্নি, মিসকিন রাখছে এইজন্য বিকজ তোমরা স্বপ্ন দেখতে পারো না। তোমরা যতকিছু চুরি করে ফেলো, চাঁদাবাজি করে ফেলো, তোমরা এর থেকে বড় আর হইতে পারবা না। দিস ইজ ইওর লেভেল।”হামলার পর কান্নারত তরুণ সহকর্মীদের বুকে জড়িয়ে সান্ত্বনা দেন তিনি। কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “তোমরা কান্নাকাটি করিস না। দিস ইজ নাথিং। তোমরা সালমান মুক্তাদিরকে চেনো নাই! আমি এর থেকে বড় কিছু করব, ইনশাআল্লাহ। আমরা কালকে থেকেই আবার কাজ শুরু করব।” তিনি উল্লেখ করেন, স্টুডিওটি গড়ে তুলতে তার স্ত্রী দিনের পর দিন নিজে দাঁড়িয়ে কাজ তদারকি করেছেন এবং সহকর্মীরা রাত জেগে পাহারা দিয়েছেন।আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে সালমান জানান, আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ জন ক্লায়েন্টের শুটিংয়ের মূল্যবান ফুটেজ ও কাজ স্টুডিওর সিস্টেমে জমা ছিল। সবকিছু খোয়া যাওয়ায় সামগ্রিক ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একটি মামলা দায়ের করা হবে।ভিডিওর শেষভাগে তিনি আবারও প্রশাসন ও দেশের বাস্তবতাকে কটাক্ষ করে বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আপনি এটা নিয়ে একদম টেনশন কইরেন না। আপনার জন্য এই ভিডিওটা না, বাংলাদেশি মানুষের জন্য এই ভিডিও। ইফ ইউ ওয়ান্ট টু স্টে ইন বাংলাদেশ, প্লিজ চাটুকারিতা করে চাঁদাবাজিকে সাপোর্ট করবেন, যাতে এই ধরনের কাহিনী আপনাদের সাথে না হয়। অ্যান্ড সালাহউদ্দিন আহমদ, গ্রেট জব! আই লাভ ইওর ওয়ার্ক। থ্যাংক ইউ সো মাচ। বিএনপি জোস কাজ করছে।”‘পরিবর্তনের পরও চাঁদাবাজের ভয় নিয়ে চলতে হয়, তাহলে সেই পরিবর্তনের অর্থ কী’কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা চালানো হয়েছে।পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় অনেকে নীরব থাকলেও সালমান মুক্তাদির প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও আশ্রয়ের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও তিনি বলেছিলেন বলে উল্লেখ করেন পাটওয়ারী।তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও যদি একজন নাগরিককে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের ভয় নিয়ে চলতে হয়, তাহলে সেই পরিবর্তনের অর্থ কী। এ ধরনের হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষ এক ধরনের জুলুম থেকে মুক্ত হয়ে আরেক ধরনের জুলুমের মধ্যে পড়ার জন্য জুলাইয়ে আন্দোলন করেনি।এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা স্টুডিওর সিসি ক্যামেরা, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায়। পাশাপাশি স্টুডিওর বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আসবাব ভাঙচুর করা হয়।তবে হামলার পেছনে চাঁদাবাজির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার পোস্টে হামলাটির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা