ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
গণবার্তা

হায়দরাবাদ ও কলকাতায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ স্লোগান

ইন্ডিয়ার সমাবেশের একদিন পরই বিজেপির পাল্টা কর্মসূচি

ইন্ডিয়ার সমাবেশের একদিন পরই বিজেপির পাল্টা কর্মসূচি

নয়াদিল্লি: ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার মোদিবিরোধী সমাবেশের এক দিনের মধ্যেই পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে বিজেপি। ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ স্লোগানে হায়দরাবাদে রোড শো ও সমাবেশ করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একই স্লোগানে কলকাতায় পদযাত্রা করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

সোমবার (২ নভেম্বর) হায়দরাবাদে পৌঁছে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রোড শো করেন অমিত শাহ। পরে সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন তিনি।

রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে অমিত শাহ বলেন, বছরে মাত্র তিন-চার মাস ভারতে থেকে বাকি সময় বিদেশে কাটালে নির্বাচনে জেতার আশা করা যায় না। তার মতে, রাহুলের আরও বেশি সময় দেশে থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং তাদের সমস্যা সমাধানে কাজ করা উচিত।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়েও কথা বলেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস ও তাদের সহযোগী দলগুলো এসআইআর বন্ধের চেষ্টা করছে, কারণ অনুপ্রবেশকারীরা তাদের ভোটব্যাংক। অন্যদিকে বিজেপির কর্মীরা এই প্রক্রিয়ার পক্ষে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

অমিত শাহ বলেন, ভারতের ভোটাধিকার শুধু দেশটির নাগরিকদের থাকা উচিত। রাহুল গান্ধী ও তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি এসআইআরের বিরোধিতা করতে পারেন। তবে ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দেওয়া এবং তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করার বিষয়ে বিজেপি কঠোর অবস্থানে থাকবে।

এদিকে কলকাতায় কলেজ স্ট্রিট থেকে পদযাত্রা শুরু করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ধর্মতলায় গিয়ে শেষ হয় তাদের কর্মসূচি।

কলকাতার সমাবেশেও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ উঠে আসে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে নীতিন নবীন বলেন, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এসআইআর সম্পন্ন করা জরুরি। পদযাত্রায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ ও ‘অরাজকতা হটাও’ স্লোগান দেন বিজেপি নেতারা। পরে ধর্মতলায় আয়োজিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন শমীক ভট্টাচার্য।

জনসভায় শুভেন্দু অধিকারী বিরোধীদের নিশানা করে বলেন, দুর্নীতি ও পরিবারতন্ত্র টিকিয়ে রাখা এবং তোষণের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই বিরোধীরা এক হয়েছে। তার দাবি, ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে ২ কোটি ৯২ লাখ ভোট পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি।

এসআইআরের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, “এসআইআর মানে, অনুপ্রবেশকারী হঠাও, ভারত বাঁচাও।” একই সঙ্গে বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তিনি কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর আগামী মাসে কলকাতা ও হাওড়াসহ পাঁচটি কর্পোরেশনে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে দলীয় কর্মীদের সক্রিয় রাখা এবং বিরোধীদের মোদিবিরোধী আন্দোলনের জবাব দিতেই বিজেপি এই কর্মসূচি নিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


ইন্ডিয়ার সমাবেশের একদিন পরই বিজেপির পাল্টা কর্মসূচি

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার মোদিবিরোধী সমাবেশের এক দিনের মধ্যেই পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে বিজেপি। ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ স্লোগানে হায়দরাবাদে রোড শো ও সমাবেশ করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একই স্লোগানে কলকাতায় পদযাত্রা করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।সোমবার (২ নভেম্বর) হায়দরাবাদে পৌঁছে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রোড শো করেন অমিত শাহ। পরে সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন তিনি।রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে অমিত শাহ বলেন, বছরে মাত্র তিন-চার মাস ভারতে থেকে বাকি সময় বিদেশে কাটালে নির্বাচনে জেতার আশা করা যায় না। তার মতে, রাহুলের আরও বেশি সময় দেশে থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং তাদের সমস্যা সমাধানে কাজ করা উচিত।ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়েও কথা বলেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস ও তাদের সহযোগী দলগুলো এসআইআর বন্ধের চেষ্টা করছে, কারণ অনুপ্রবেশকারীরা তাদের ভোটব্যাংক। অন্যদিকে বিজেপির কর্মীরা এই প্রক্রিয়ার পক্ষে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।অমিত শাহ বলেন, ভারতের ভোটাধিকার শুধু দেশটির নাগরিকদের থাকা উচিত। রাহুল গান্ধী ও তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি এসআইআরের বিরোধিতা করতে পারেন। তবে ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দেওয়া এবং তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করার বিষয়ে বিজেপি কঠোর অবস্থানে থাকবে।এদিকে কলকাতায় কলেজ স্ট্রিট থেকে পদযাত্রা শুরু করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ধর্মতলায় গিয়ে শেষ হয় তাদের কর্মসূচি।কলকাতার সমাবেশেও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ উঠে আসে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে নীতিন নবীন বলেন, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এসআইআর সম্পন্ন করা জরুরি। পদযাত্রায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ ও ‘অরাজকতা হটাও’ স্লোগান দেন বিজেপি নেতারা। পরে ধর্মতলায় আয়োজিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন শমীক ভট্টাচার্য।জনসভায় শুভেন্দু অধিকারী বিরোধীদের নিশানা করে বলেন, দুর্নীতি ও পরিবারতন্ত্র টিকিয়ে রাখা এবং তোষণের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই বিরোধীরা এক হয়েছে। তার দাবি, ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে ২ কোটি ৯২ লাখ ভোট পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি।এসআইআরের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, “এসআইআর মানে, অনুপ্রবেশকারী হঠাও, ভারত বাঁচাও।” একই সঙ্গে বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তিনি কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর আগামী মাসে কলকাতা ও হাওড়াসহ পাঁচটি কর্পোরেশনে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে দলীয় কর্মীদের সক্রিয় রাখা এবং বিরোধীদের মোদিবিরোধী আন্দোলনের জবাব দিতেই বিজেপি এই কর্মসূচি নিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা