যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা স্থগিত করা হয়েছে। চলমান এই সংঘাতের মধ্যে অভূতপূর্ব জনসমাগমের আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানী তেহরানে এ জানাজা আয়োজনের কথা ছিল।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি জানিয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে বলা হয়েছে, 'শহীদ ইমামের বিদায়ী অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। নতুন তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে।'গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনে ইরানের রাজধানী তেহরানে নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী খামেনি। তার মৃত্যুতে দেশটিতে টানা ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে জানাজায় অভূতপূর্ব জনসমাগমের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে জানাজা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন তারিখ নির্ধারণ করে পরে তা জানানো হবে।আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন। এর আগে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে তিনি ইরানে ইসলামী বিপ্লবে অংশ নিয়েছিলেন। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগে ১৯৮০-এর দশকে ইরাকের সঙ্গে দেশটির রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।প্রায় চার দশক ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন খামেনি। তার নেতৃত্বেই ইরান আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নেয়।ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জানাজা স্থগিতের ঘটনা প্রমাণ করে, এই সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। একদিকে যেমন চলছে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা, অন্যদিকে ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা আয়োজন নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ইরান সরকার সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং তার ওপরই এখন তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব। আমরা এই বিষয়ে নিয়মিত খবর রাখছি।