গণবার্তা

গ্রোক ইম্যাজিনে ফ্রি ব্যবহার সীমিত করে দেওয়ায় ব্যবহারকারীদের ক্ষোভ

 কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ইমেজ ও ভিডিও তৈরির জনপ্রিয় টুল ‘গ্রোক ইম্যাজিন’কে ঘিরে গত দুই দিনে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে অনলাইন দুনিয়ায়। বিশেষ করে এক্স (সাবেক টুইটার) এবং রেডিটে ব্যবহারকারীদের মধ্যে অসন্তোষ স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই এক্সএআই টুলটির ব্যবহার সীমিত করে দিয়েছে।ফ্রি ব্যবহারকারীদের বিপাকেএর আগে সাধারণ ব্যবহারকারীরা গ্রোক ইম্যাজিনের কিছু সুবিধা বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারতেন। তবে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে। অনেকের দাবি, ফ্রি ব্যবহারকারীদের জন্য পরিষেবাটি প্রায় অচল হয়ে পড়েছে এবং কার্যত ‘পেওয়াল’-এর ভেতরে চলে গেছে। বিশেষ করে ৬ সেকেন্ডের ভিডিও তৈরির জনপ্রিয় ফিচারটি এখন আর আগের মতো পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি নতুন অ্যাকাউন্ট খুললেও অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি ‘সুপারগ্রোক’ সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার বার্তা দেখানো হচ্ছে।সুপারগ্রোক ব্যবহারকারীদেরও ক্ষোভএই পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে অর্থপ্রদানকারী ব্যবহারকারীদের ওপরও। যারা ‘সুপারগ্রোক’ সাবস্ক্রিপশন ব্যবহার করেন তাদের অভিযোগ, ভিডিও তৈরির দৈনিক কোটা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কিছু ক্ষেত্রে এই সীমা প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই। ফলে অসন্তুষ্ট হয়ে অনেকে তাদের সাবস্ক্রিপশন বাতিলের কথাও ভাবছেন।গ্রোক কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যাএদিকে ব্যবহারকারীদের এমন প্রতিক্রিয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে গ্রোক কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, ভিডিও কোটার এই সমস্যা মূলত একটি সাময়িক কারিগরি ত্রুটি বা ‘গ্লিচ’। তারা জানিয়েছে, ব্যর্থ ভিডিও তৈরির প্রচেষ্টাগুলো যেন ব্যবহারকারীর নির্ধারিত কোটা থেকে কেটে না যায়, সে বিষয়েও কাজ চলছে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে।বিশ্লেষকদের মততবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি শুধু প্রযুক্তিগত ত্রুটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও হতে পারে। অতিরিক্ত ব্যবহারকারীর চাপ সামাল দেওয়া, স্প্যাম বা ডিপফেকের মতো অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা আয়ের নতুন পথ তৈরি—এসব কারণও এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে গ্রোক ইম্যাজিনের এই পরিবর্তন প্রযুক্তি জগতে নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।এখন দেখার বিষয়, গ্রোক কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে পারে এবং ব্যবহারকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কী পদক্ষেপ নেয়।

গ্রোক ইম্যাজিনে ফ্রি ব্যবহার সীমিত করে দেওয়ায় ব্যবহারকারীদের ক্ষোভ